Home » শেষের পাতা » স্কুল ছাত্র ধ্রুব হত্যায় খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন

প্রার্থীতা ঘোষণায় ক্ষুব্দ তৃণমূল

০৫ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 39 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল বিএনপি। চলমান ইউপি, পৌরসভা নির্বাচনগুলোতে কোনো প্রার্থী দেয়নি দলটি। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনেও একই ধারা বজায় রয়েছে। তবে সিটি মেয়র পদে নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। এতে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তারা বলছেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হতে চাচ্ছেন কামাল। তার এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদও জানিয়েছেন বিএনপি নেতাদের অনেকে। গত ৩০ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৫ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ। সবকিছু ঠিক থাকলে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৬ জানুয়ারি। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে তাদের মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বর্তমান সিটি মেয়রের দায়িত্বেও রয়েছে। তবে বিএনপি থেকে সিটি নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, দলীয়ভাবে এই নির্বাচনেও অংশ নেবে না বিএনপি। স্থানীয় নির্বাচন তাদের কাছে মুখ্য নয়। দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করাই নেতাদের লক্ষ্য। তাই তারা সিটি নির্বাচন নিয়ে কিছু ভাবছেন না। দল নির্বাচনে না গেলেও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। তিনি মেয়র পদে প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন। নির্বাচনে অংশ নিতেই তফসিল ঘোষণার মাত্র কয়েকদিন আগে আমেরিকা থেকে দেশে ফিরেছেন বিএনপির এই নেতা। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন এটিএম কামাল নিজেই। দলের সাধারণ সম্পাদকের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলেরই কয়েকজন নেতা। তাদের মধ্যে একজন হলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু। এটিএম কামাল দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আব্দুস সবুর খান তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে পরিশ্রম করেছেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান শাসক আওয়ামী লীগ সরকারের আওতায় ২০১৮ সালের পরে কোনো সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। সারাদেশে এখন একতরফা নির্বাচন হচ্ছে। ইউপি নির্বাচনগুলো এর উদাহরণ। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি তার গঠনতন্ত্র মোতাবেক চলে। এই দলে শৃঙ্খলা রয়েছে। আমাদের এখন সবচেয়ে বড় কাজ কীভাবে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা যায়। আন্দোলন-সংগ্রামেই আমরা সম্পৃক্ত। দল যেহেতু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না, সেখানে দলের কোনো কর্মকর্তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অধিকার নেই। যদি কেউ নির্বাচনে যেতে চায় তাহলে তাকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। এটাই নিয়ম।’ এটিএম কামাল প্রার্থী হবেন কিংবা অন্য কেউ হবেন কিনা, এ নিয়ে দলীয় ফোরামে কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি বলেও জানান মহানগর বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন করতে হলে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড হবে, সেখান থেকেই প্রার্থী ঘোষণা দিবে। নির্বাচনই করবো কিনা সেই সিদ্ধান্তই হয়নি। কারও ব্যক্তিগত অভিমত থাকতে পারে। এটা দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত না। আর দল যদি নির্বাচনে যেতে চায় সেক্ষেত্রে একাধিক প্রার্থীই মনোনয়ন চাইতে পারে।’ এদিকে বিএনপির একটি সূত্র বলছে, বিএনপি সিটি নির্বাচনেও অংশ নেবে না। এক্ষেত্রে কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিতে পারে দল। এমনকি বহিষ্কার হওয়ার সম্ভবনাও রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তারা চলতি বছরে অনুষ্ঠিত হওয়া সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনের কথা তুলে ধরেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শফি আহমেদ চৌধুরী। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। এমনটা ভাগ্যে জুটতে পারে এটিএম কামালেরও। তবে এটিএম কামাল বলেন, দল কাউকে মনোনয়ন দেবে না, তবে কেউ যদি চায়, সে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। দলের অনাপত্তি থাকাতেই তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে তিনি প্রার্থী হবেন। তবে দল যেহেতু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না তাই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন বলে জানান। অন্যদিকে শোনা যাচ্ছিলো মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ও বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলও মেয়র প্রার্থী হবেন। তার সমর্থকরা তাকে ‘মেয়র হিসেবে দেখতে চান’ উল্লেখ করে বিভিন্ন স্থানে পোস্টারও সাঁটিয়েছিলেন। তবে মেয়র প্রার্থী হওয়ার কোনো প্রস্তুতি নেই বলে জানালেন আতাউর রহমান মুকুল। তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য কিছু প্রস্তুতি থাকে। তেমন কোনো প্রস্তুতি তার নেই। বতর্মান নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা না থাকার কথাও জানান তিনি। মুকুল বলেন, ‘এখন তো নির্বাচনের ফলাফলে কোনো ভরসা নাই। তেমন কোনো ভরসা থাকলে অন্তত দাঁড়ানো যেতো।’

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *