Home » প্রথম পাতা » রূপগঞ্জ ভ’মি অফিসে অনিয়মই যেন নিয়ম

ফুতপাতে চায়ের কাপ টানা সোহাগ রনি এখন কোটিপতি

১১ মে, ২০২২ | ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 88 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ছাত্রলীগের পদ পদবীর পরিচয়ে সোনারগাঁয়ে এক সময়ে বাবার ফুতপাতে চায়ের দোকানে চায়ের কাপ টানা বখাটে মাদক ছিনতাইসহ নানা অপরাধী সেই সোহাগ রনি অবৈধ পন্থায় এখন কোটি কোট টাকার মালিক। দুইটি হত্যাকান্ড, ভূমিদস্যুতা সহ অবৈধ ভাবে গড়ে তুলেছেন বাড়ি, গাড়ি, ফ্লাট সহ বিদেশেও নামে-বেনামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে মোগরাপাড়া ইউনিয়নবাসীর অভিযোগ। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি সোহাগ রনি উপজেলার মোগরাপাড়া ইউপির ১নং ওয়ার্ডের ফুলবাড়িয়া গ্রামের শাহজামাল তোতা’র ছেলে। তার মাতার নাম সালেহা আক্তার। অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্র মতে, উপজেলা সড়কের মোগরাপাড়া রাস্া সংলগ্ন হাজী মোস্তফা মার্কেটের সিঁড়ির নিচে সোহাগ রনির পিতা শাহ জামাল  তোতার একটি চায়ের ছিলো। ওই দোকানে তাঁর বাবা চা তৈরী করে দিতেন। সেই চায়ের কাপ মার্কেট সহ আশপাশের  দোকানদারদের কাছে চায়ের কাপ পৌঁছ দিতেন এবং খালি কাপ ফেরত আনতেন সোহাগ রনি। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তার লেখাপাড়া। বাবার দোকানে থাকাবনস্থায় ছোটবেলা থেকে জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে। মাদক ব্যবসা ছিনতাই সহ নানা কর্মকান্ডের গড়ে তুলে এক অপরাধীদের গ্যাং গ্রুপ। এসব অপকর্মের সুবিধা নিতে সখ্যতা গড়ে তুলে রাজনৈতিক কয়েকজন নেতার সঙ্গে। রাজনৈতিক দলের মিটিং, মিছিল ও সভা সমাবেশে তার বাহিনীর লোকজন পাঠাতো সোহাগ রনি। এসব কারণে রাজনৈতিক নেতাদের সেল্টারে এখন সন্ত্রাসীদের গডফাদার হিসাবে খ্যাত সোহাগ রনি। এ সকারের ক্ষমতায় আসার ১০-১২ বছরে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিনত হয়েছে সোহাগ রনি। অবৈধ অর্থৈর দাপটে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করছে সোহাগ রনি। সোনারগাঁয়ে রয়েল রির্সোটে মামুনুল হক কান্ডে তার রয়েছে নাটকীয় ভূমিকা। এজহারভুক্ত ছিনতাইকারী হিসেবে তৎকালীন সময়ে সোনারগাঁ থানার নোটিশ বোর্ডে টানানো ছিল সোহাগ রনির নাম। ২০০১ সালের ২ কেজি গাঁজা সহ রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। মাদক ব্যবসা ও অপরাধ কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় বাড়ি মজলিস এলাকায় মোহাম্মাদিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার ভেতরে প্রবেশ করে ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হাফেজ মাওলানা মোবারক হোসেন ও তার ছেলেকে পিটিয়েছে মারাত্মকভাবে আহত করে সোহাগ রনি ও তার ভাই সোহেল। এছাড়াও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামের ভাগিনা মোহাম্মদ রনি সামাজিক ভাবে মাদক বিরোধী জনসচেতনতামূলক আন্দোলন গড়ে তুলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ২০১২ সালের ২০ এপ্রিল মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় রনিকে প্রকাশ্যে দিবালোকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছে সোহাগ ও তার বাহিনী। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ভূমিদখল একক নিয়ন্ত্রণে নিতে দমদমা গ্রামের মঞ্জুর আলমের ছেলে আরমানকে জবাই করার পর হাত পায়ের রগকেটে হত্যা করে সোহাগ রনি ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। এ হত্যা মামলায় সোহাগ এজাহারভূক্ত আসামি। ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি ভূমিদখলের প্রতিবাদ ও অর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জের চৈতী গার্মেন্ট কারাখানা সংলগ্ন পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ঘনিষ্ঠ বন্ধু রায়হানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। সোহাগ রনি অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অসহায় নিরীহ কৃষকের জমি দখল করে নিজ নামে দলিল করে ফ্রেস কোম্পানীর কাছে বিক্রি আসছে বলে একাধীক কৃষকের অভিযোগ রয়েছে। সোনারগাঁয়ে রিসোটে মাওলানা মামুনুল হক নারী ক্যালেঙ্কীর ঘটনায় সোহাগ রনির রয়েছে নাটকীয় ভুমিকা রয়েছে বলে সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা গুঞ্জন। বিলপ্ত হেফাজত ইসলামী নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে পূর্ব থেকে সখ্যতা ছিলো সোহাগ রনি। পূর্বের সখ্যতার করণেই মাওলানা মামুনুল হকের ধর্ষণ মামলার সোমবার আদালতে স্বাক্ষী দিতে যায়নি সোহাগ রনি। হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের নামে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে কথিত স্ত্রী জান্নাত আরার করা ধর্ষণ মামলায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। গত সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হকের আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।আদালত সূত্রে জানাগেছে, গত সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হকের আদালতে হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সোনারগাঁয়ে কথিত স্ত্রী জান্নাত আরার করা ধর্ষণ মামলায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার অন্য প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে স্বাক্ষী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি  সোহাগ রনি ও তার সহযোগী রতন মিয়ার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ থাকলেও তাঁরা আদালতে উপস্থিত হননি। সোনারগাঁয়ের দুর্ধর্ষ সব অপরাধের স¤্রাট সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ রনির কুকর্ম প্রকাশ্যে রুপ নিয়েছে। চলতি বছরই সোনারগাঁয়ে টেন্ডার জমা দিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় আলোচনায় সোহাগ রনি। তখন ভূমিদস্যুতা, কিশোরগ্যাং এমনকি মাদকে মদদদাতা হিসেবে তার নাম। নানা কুকর্মের সঙ্গে চাঞ্চল্যকর আরমান হত্যাকান্ডেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে  সোহাগ রনির বিরুদ্ধে। এসব কুকর্ম স্বঘোষিত এক যুবরাজের আশীর্বাদেই দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছে। অবশেষে সোনারগাঁয়ে চাঞ্চল্যকর আরমান শরীফ হত্যা মামলা থেকে শত চেষ্টা করছে বিতর্কিত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভপতি নৌকা প্রতীক প্রত্যাশী ও মোগরাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রচারকারী সোহাগ রনি। আরমান হত্যা মামলার বিচার চাওয়া  থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। মামলার বাদী মঞ্জুরুল হকের নারাজি আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার চাঞ্চল্যকর আরমান শরীফ হত্যা মামলার শুনানি হয়েছে। চলতি বছরেও সোনারগাঁ থানায় সোহাগ রনির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়। অবশেষে আরমান হত্যা মামলায় সোহাগ রনির বাদ গেওয়ায় পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন বাদী মঞ্জুরুল হক। দুইটি হত্যাকান্ড সহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডে মোগরাপাড়া ইউনিয়নবাসীর কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক সোহাগ রনি তার বাহিনী।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *