আজ: শুক্রবার | ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪২ হিজরি | সকাল ৮:৩২

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

বন্দরের রাজনীতিতে বাকযুদ্ধ

ডান্ডিবার্তা | ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ৭:৩১

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বাকযুদ্ধ বিরোধীরা আপোষ করে টিকে আছে। আওয়ামীলীগ সরকার টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকায় কর্মীদের মূল্যায়ন কমেছে, নতুন নের্তৃত্ব সৃষ্টিতে নেই কারো উদ্যেগ। উল্টো ত্যাগী নেতাদের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্য অবস্থায় রুপ নিয়েছে। বন্দরের নাসিক ২২ নং ওর্য়াডের বাসিন্দা খান মাসুদ ও ২৩ নং ওর্য়াড কাউন্সিলর দুলাল প্রধানের মধ্যে চলছে চরম বিরোধ। কোন ভাগ ভাটোয়ারা নয় নিছুক কিছু লোকের কান কথায় এ বিরোধের সূত্র। খান মাসুদ, দুলাল প্রধানের এমন বিরোধের সুযোগে ষড়যন্ত্রকারীরা নড়েচড়ে বসেছে। শ্যামলের ডিস ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সূত্র। শ্যামল, বিন্দু, খান মাসুদ ও দুলাল প্রধানের বিরোধ। যা সদর-বন্দর আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান ও ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের নির্দেশে প্রাথমিকভাবে দন্দের অববসান করেন। বন্দর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে কাউন্সিলর দুলাল প্রধান, যুবলীগ নেতা খান মাসুদ ও ছাত্রলীগ নেতা হাসনাত রহমান বিন্দুকে মিলিয়ে দেন। বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, মহানগর আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ন কবির মৃধা, মহানগর সেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান কমল, মনিরুল ইসলাম মনু উপস্থিত থেকে ২ সাংসদের নির্দেশে দন্দের অবসান করে তাদের মিলিয়ে দেন এবং অতীত ভুলে আগামীতে দল চাঙ্গা ও আরো গতিশীল কিভাবে করা যায় তা নিয়ে কাজ করার আহবান জানান এম এ রশিদ। এর একদিন পরই দুলাল প্রধান লোকজনের মহড়ার একটি ভিডিও ফুটেজ সহ সংবাদ প্রকাশ হলে পুনরায় দেখা দেয় আভ্যন্তরীন কোন্দল। এই শক্তিকে ভাঙ্গতে পারলে বন্দর ইউনিয়ন এলাকা সহজে নিয়ে নিবে চক্রান্তকারীরা। বন্দর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুলাল প্রধান ও খান মাসুদ ভ্যানগার্ট হয়ে দায়িত্ব পালন করে। ওসমান পরিবারের প্রার্থী এহসান উদ্দিনকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে ফলাফল নিয়ে তারা বাড়িতে গেছে। সেই ভ্যানগার্টকে খন্ডিত করতে চলছে খেলা। উল্লেখ্য যে, দেশের অভ্যন্তরীণ পরিমন্ডলে দেশের সামগ্রীক জনগনের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ণের সহিত জড়িত তথা রাজনৈতিক ব্যবস্থা হচ্ছে সমাজের বৈধ শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা পরিবর্তন আনয়নকারী ব্যবস্থা। মূলত এ লক্ষেই গঠিত হয় রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপের উপর ভিত্তি করে যেকোন রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি নিয়ে জেলার রাজনৈতিক বোদ্ধাদের নানা অভিযোগ। তাদের মতে, মানুষকে নিয়ে যে রাজনীতি সেটা এখন বিলুপ্তির পথে। তথা নারায়ণগঞ্জে মানুষকে নিয়ে যে রাজনীতি তা এখন প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ নেতাদের কাছ থেকে কিছু আশা করতে পারছে না। বিভিন্ন দলীয় নেতারা নির্বাচনের আগে বিভিন্ন উন্নয়নের বানী শোনালেও নির্বাচনের পর তা দেখা যায় না। যার কারনে রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে সাধারণ মানুষ। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে জনস্বার্থে কিংবা সামাজিক উন্নয়ণে যতটা না কাজ করছে তার চাইতে বেশী হচ্ছে রাজনীতির নামে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করার প্রতিযোগিতা। নীতি আদর্শ মুখে মুখে উচ্চারিত হলেও এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এখন শুরু হয়েছে ব্যক্তিগত কুৎসা আর প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পদ পদবী ব্যবহার করে ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠির রাজনীতির চর্চা। যার ফলে নতুন প্রজন্ম সেই দিকেই ধাবিত হচ্ছে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শতবর্ষ পূর্তিতে দেশ ব্যাপী সবাই যখন মুজিববর্ষ পালন নিয়ে প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ঠিক সেই মূর্হুতে করোনা ভাইরাস সকল কিছু লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। তখন নারায়ণগঞ্জে চলছে এক পক্ষকে আরেক পক্ষ কিভাবে ঘায়েল করা যায় তার প্রতিযোগিতা। যদিও এক্ষেত্রে এখনো এক পক্ষ মুখ খুলেনি তবে অপর পক্ষ রাজাকার ইস্যুতে কিংবা গডফাদারের তকমা লাগিয়ে ত্বকী হত্যার আসামী বানিয়ে শহর গরমের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় দু’টি দল হলেও নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতারা একে ওপরের দোষ খুজতেই ব্যস্ত। দীর্ঘ প্রায় এক যুগের বেশী সময় ক্ষমতায় থাকার কারণেই তাঁদের এই অবস্থা। বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার বাহিরে একের পর কমিটি পরিবর্তন হলে দলের তৃনমূল নেতারা ও শীর্ষ নেতারা একে অপরের সাথে দন্ধ, কোন্দল, কাদা ছুরাছুড়িতে ব্যস্ত সময় পার করছে। যার কারণে দলীয় আন্দোলন কর্মসূচিতে নেতাকর্মী দেখা মিলছে না, কর্মীরা নেতাদের এমন আচরনে হতবাক। রাজপথে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বিএনপির শীর্ষ নেতাকর্মীরা বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। বিএনপি আন্দোলনে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়ে ঘরে বসে থাকায় একদিকে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যেমন হতাশ তেমনই যে দুই একজন বিএনপি নেতা মাঠ চাঙ্গা করার চেষ্টা করছে এক পক্ষ ফেসবুকে অপর পক্ষকে টিটকারী দিয়ে চলেছে। এই ভাবেই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি তাদের কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে। তাঁদের মতে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠন করার পর থেকে এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতি দুই ভাগে বিভক্ত। একটি ভাগ মেয়র পন্থী অন্যটি সাংসদ পন্থী। যার ফলে মানুষের জন্য ভাবার তাদের সময় নেই বললেই চলে। দুই মেরুর জনপ্রতিনিধিরা মানুষের জন্য কাজ করলেও তাদের সবচেয়ে বেশী সময় কাটে একে ওপরের দোষ খুজতেই। কোন এই ইস্যুতে দুই মেরু দুই ভাবে কাজ করতে চায়। জনপ্রতিনিধিদের এমন কর্মকান্ডে নারায়ণগঞ্জে সাধারণ মানুষের মাঝে হতাশা কাজ করে। যার ফলে মানুষের সম্পূর্ণ চাহিদা মেটাতে অনেকটাই ব্যর্থ তারা। বরং মুজিবর্ষের প্রথম দিনেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়ত আইভী রাজাকার ইস্যু তুলে শহরকে আবারো উত্তপ্ত করে তুলেছিল। ডা. আইভী মুক্তিযুদ্ধাদেরও এক্ষেত্রে ছাড় দেয়নি বলে অনেক মুক্তিযোদ্ধাই নাখোশ। রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করেন, ক্ষমতাশীন দলের শীর্ষ নেতারা যদি এই প্রতিপক্ষের রাজনীতি না থাকতো তাহলে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নারায়ণগঞ্জে জনপ্রতিনিধিরা মানুষের জন্য আরও বেশী কাজ করতে পারতো। এখনো অনেক কাজ বাকী রয়ে গেছে জেলায়। জেলা, মহানগর, থানা, ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্ষমতাশীল নেতাদের ব্যাক্তিগত কোন্দলের কারণেই এসকল কাজগুলো করতে তাঁরা বিলম্ব করে। শুধু তাই নয় একে অপরের দোষ বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রকাশে বলে বেড়ায়, তাঁদের এই ব্যাক্তিগত কোন্দলের কারণেই জেলা ও মহানগরের মানুষ তাঁদের পূর্ণ অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। দলের শীর্ষ নেতারা সকল ভেদাভেদ ভুলে তাঁরা একত্রিত হতে পারলে নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ণের সুবাতাস বইতো এবং নারয়ণগঞ্জের মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যেতো, অনেক উন্নয়নের ছোয়া বইতো, সাধারন মানুষ তাদের পূর্ণ অধিকার টুকু ফিরে পেত। নারায়ণগঞ্জের মানুষের কথা চিন্তা করে তাদের ব্যক্তিগত কোন্দল অচীরেই মিটিয়ে ফেলা উচিৎ। পাশাপাশি জেলার মানুষের পক্ষে থেকে তাঁদের সমস্যা গুলো খুজে বের করে এর সমধান করা উচিৎ। আর তাহলেই নারায়ণগঞ্জের মানুষের ভাগ্যে খুলে যাবে। অন্যদিকে নারায়নগঞ্জ বিএনপি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দেউলিয়া হয়ে গেছে। সেই সাথে রাজপথ থেকে হারিয়ে গেছে তাঁদের নেতাকর্মীরা। সেই ২০০৮ সাল থেকে আন্দোলন, সংগ্রাম করতে থাকলেও এখন পর্যন্ত কোন লাভ হয়নি তাঁদের বরং কমেছে দলের সাংগঠনিক শক্তি। নারায়নগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদেরও দলীয় কোন্দলের শেষ নেই। মানুষের অধিকার আদায় কিংবা মানুষের জন্য ভাবার সময় কই তাঁদের? তাঁদের নিজেদের কোন্দল নিয়েই তারা ব্যাস্ত সময় পার করছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়াকে ঘিরেই তাঁদের মুখ ভারী। কেন্দ্র থেকে যাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছিলো তাদের পক্ষে বিএনপির অন্য কোন নেতাকর্মীদেকে মাঠে দেখা যায়নি, বরং এমন অনেক নেতাদের দেখা গেছে একাদশ নির্বাচনে নৌকার পথিকে প্রকাশে কাজ করেছেন এবং নৌকার পথিকের জন্য ভোট চেয়েছেন। এত করে বোঝা যায় বিএনপি কতটা দুর্ভল হয়ে পরেছে। তাঁরা মনে করেন, শীর্ষনেতারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে অবশ্যই তাঁরা ফলাফল পেতো। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্যহীনতার কারণেই তাদের দলের আজ এই করুণ দশা। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের রাজপথে তেমন দেখা যায় না কিংবা আন্দোলন সংগ্রাম করতে দেখা যায়না। যার ফলে তাঁদের অধিকার আদায় করাও সম্ভব হয়না। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি বর্তমানে স্বার্থের জন্য। তারা নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলেই যেন বেচেঁ যায় তারা। যেকারণে বিএনপির জেলা ও মহানগর কমিটির শীর্ষ নেতারা কেউবা গা বাঁচিয়ে আবার কেউবা ক্ষমতাসীনদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে রাজনীতি করছে। অপর দিকে একটানা ৩ বার ক্ষমতায় আসা আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের অধিকাংশ নেতা নিজেদের আখের গোছাতে যেমন ব্যস্ত তেমনই অপর পক্ষ রাজনীতির নামে একে অপরকে ঘায়েল করতে নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে বাক যুদ্ধে লিপ্ত। শহর নীরব হলে শুরু হয় বন্দর থানা এলাকায়। বর্তমান সময়ে রাজনীতির বাহিরে গিয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে জনগনের কাছে গেলেও বন্দরে চলছে তীব্র কোন্দল। দুলাল প্রধান, খান মাসুদ, বিন্দুর এমন কোন্দলে দিশেহারা সচেতন মহল। দুই এমপির নির্দেশক্রমে ৩ জনের কোন্দলের অবসান করেন চেয়ারম্যান এম এ রশিদরা। কিন্তু এর একদিন পরই কাউন্সিলর দুলাল প্রধানের লোকজনের মহড়ার একটি ভিডিও ফুটেজসহ সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরই দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়। একেতো সাংসদসহ সিনিয়র নেতাদের অসম্মানকে ভাল দৃষ্টিতে দেখছেন না সচেতন মহল। আর তাদের কোন্দল নিরশনে এখন আর সিনিয়র নেতাদের দেখা যায় না। কোন্দল চলমান থাকলে ভবিষ্যত রাজনীতি কঠিন হয়ে পড়বে। ওসমান পরিবারের ভ্যানগার্টগুলোকে টার্গেট পূর্বক চলছে নিখুত খেলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *