Home » প্রথম পাতা » পদ্মা সেতু জাতির আরেক বিজয়

বন্দরে রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা

০৪ নভেম্বর, ২০২১ | ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 113 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বন্দর আওয়ামী লীগে এমন অস্থির সময় শেষ কবে তৈরী হয়েছিলো তা বলতে পারেননা স্থানীয় নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ যখন দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন তখনও বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবার অভিযোগ তুলছেন। নতুন করে কলাগাছিয়া ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী কাজিম উদ্দিন দাঁড়ানোয় সাংসদের সমালোচনা এবং মদনপুরে শ্রমিক লীগ নেতা রুহুল আমিনকে বহিস্কারের ঘোষণায় ঘোলাটে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে সাংসদের গাঞ্জার নৌকা মন্তব্যের রেশ ধরে উত্তপ্ত শহর বন্দরের রাজনৈতিক অঙ্গন। জেলা ও মহানগরের বড় বড় নেতা থেকে  শুরু করে বন্দরের সাধারণ নেতাকর্মীরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভের কথা তুলে ধরছেন। যদিও এই ইস্যুতে ওসমানপন্থী আওয়ামী নেতারা একেবারেই চুপ। বিশেষ করে ভিপি বাদল, চন্দন শীলের মত হেভিওয়েট নেতারা এই ইস্যুতে টু শব্দটি করছেন না। স্বাভাবিকভাবেও ওসমান পরিবার তথা পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি করে উঠে আসা নেতারা ওসমান পরিবারের সকল ইস্যুই সমর্থন করবেন বলে মনে করেন তৃণমূলের নেতারা। সেক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর নৌকাকে গাঁজার নৌকা বললেও তাতে তাদের কিছু আসে যায় না। এরই মাঝে মদনপুর ইউনিয়নে গাজী সালামের পদে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন রুহুল আমিন। তিনি মদনপুর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি। তবে ৩০ অক্টোবর রাতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গাজী এম এ সালাম এর অনুসারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো.বাদল রুহুল আমিনকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। আর এতে করে তৃণমূল আওয়ামী লীগে যারা রুহুলের অনুসারী রয়েছেন তাদের মধ্যে ক্ষোভ চওড়া হয়েছে। নির্বাচনে ফলাফলের পূর্বেই এমন সিদ্ধান্ত দলের জন্য ক্ষতিকর বলেও মন্তব্য করছেন তারা। বহিস্কারকালে জেলা সাধারণ সম্পাদক বাদল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেকটি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নৌকা মার্কা দিয়েছেন। সেখানে একটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুইজন প্রার্থী কি করে থাকে? আজ এখানে এসে এই পথ সভায় জনগণের দাবী ছিলো আমার কাছে  বিদ্রোহ করে নৌকার বিরোধিতা করে কিভাবে আওয়ামী লীগের পদ অক্ষুন্ন থাকে তা জানতে চেয়েছে। তার জবাবে আমি আমার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নেতার সাথে আলোচনা করি। তিনি আমাকে মুঠোফোনে সরাসরি বলে দিলেন প্রধানমন্ত্রীর কে যে উপেক্ষা করে তার সাথে কোন আপোষ নেই। তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ আওয়ামী লীগ এর সকল অঙ্গ সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার স্থায়ী বহিষ্কারের কাগজ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তবে দলের শোকজ ছাড়াই সরাসরি এভাবে বহিস্কারের কাগজ কেন্দ্রে পাঠানো ও মৌখিকভাবে ঘোষণা করে দেয়া মানতে পারছেন না রুহুল আমিনের সমর্থক সহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীরা। এর আগেও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি অব্যহতি দেয়া নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিলো। সেই একই কায়দায় মুঠোফোনের কথার উপর ভিত্তি করে বহিস্কার করা ক্ষমতার একপাক্ষিক ব্যবহার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বন্দরের তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, নৌকাকে গাঞ্জার নৌকা বলা সাংসদের কঠোর সমালোচনা যেখানে বাদল সাহেবের কাছ থেকে প্রত্যাশা করেছিলো সেখানে তিনি হতাশ করেছেন। নতুন করে দলের ভেতরেই বহিস্কার ডেকে এনে দলকে আরও দুর্বল করে তুলছেন। এতে করে হাইব্রিডরা আরও সক্রিয় হয়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগকে গ্রাস করবে। একদিকে সাংসদের আস্থাভাজন জাপা নেতাদের প্রভাব, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কর্মীদের অসহযোগীতা। সব মিলিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে বন্দর আওয়ামী লীগ।

 

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *