Home » শেষের পাতা » মেয়াদি সুদের ফাঁদে জিম্মি হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠী

বন্দর আ’লীগের কমিটি নিয়ে বির্তক!

১৪ মে, ২০২২ | ৫:৩৯ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 26 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ত্রি বার্ষিক সম্মেলনের প্রায় ৩০ মাস পর বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা নিয়ে সর্বমহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কার স্বার্থে বা কাদের খুশি করার জন্য প্রায় আড়াই বছর পর কমিটি ঘোষণা করতে গিয়ে নানা বির্তকের জন্ম দিয়েছে। গত ৭ মে (শনিবার) ৭১ সদস্যের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। কমিটির গঠন দেখে অনেকে মত প্রকাশ করে বলেছেন, এটা কি কোন সংগঠনের কমিটি নাকি ব্যাক্তি স্বার্থ হাসিল। বন্দর উপজেলা মানে ৫ টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে উপজেলা গঠিত। বন্দর(সদর) ইউনিয়ন, কলাগাছিয়া, মুছাপুর, মদনপুর ও ধামগড় নিয়ে বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি ঘোষণা হয়েছে। যে ৫ টি ইউনিয়ন তার মধ্যে বন্দর(সদর) ইউনিয়নকে কোন গুরুত্ব দেয়া হয়নি। অথচ বন্দর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা বিএনপির একটি ঘাটি। স্বাধীনতার পর থেকে বন্দর ইউনিয়ন এলাকা বিএনপির একক আধিপত্য বিস্তার। তারপর আওয়ামীলীগের কমিটি হয়েছে ১৮ বছর পর। ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ধামগড় ও কলাগাছিয়া ইউনিয়ন এলাকায় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো বন্টন করা হয়েছে। কলাগাছিয়া ইউনিয়নে ২৪ জন রয়েছে সদ্য ঘোষিত বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে। সাধারন সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ হাতিয়ে নিয়েছে। অপরদিকে ধামগড় ইউনিয়নে কমিটির সভাপতিসহ ১৯ জন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে। সিনিয়র সহ সভাপতি করা হয়েছে নাসিক ২৭নং ওর্য়াড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলামকে। ২০২০ সালের পূর্বে কখনো যার মুখে রাজনৈতিক কথা বা জয় বাংলা শ্লোগান শোনা যায়নি সেই আজিজুল ইসলাম আজিজকে সহ সভাপতি করা হয়েছে। কমিটিতে মদনপুর ১০ জন, মুছাপুর ১০ ও বন্দর (সদর) ইউনিয়নে ৮ জন নিয়ে ৭১ সদস্য কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বন্দরে বিএনপি থেকে যোগদানকারী বির্তকিত রফিকুল ইসলামকে সহ সভাপতি করা হয়েছে। এদিকে কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হওয়ার পূর্বেই ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় পোস্টার ছাপানো হয়েছে। সেখানে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহিদ বাদলের ছবি থাকলেও সভাপতি আব্দুল হাইয়ের ছবি নেই। কমিটি সভাপতি এম এ রশিদ, সহ-সভাপতি ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ৩জন, সাংগঠনিক সম্পাদক ৩ জনসহ ৭১ জন কমিটিতে রয়েছেন। ২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের নাম উল্লেখ পূর্বক কমিটি ঘোষণা করেন। ৩ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার কথা থাকলেও তা প্রায় ৩০ মাস পর ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত কমিটির মাধ্যমে প্রমান বহন করে বন্দরে ক্ষমতাসীন দল সাংগঠনিকভাবে মেরুদ- হীন করার মিশনে জাতীয় পার্টিসহ দলের একাদিক চক্র কাজ করছে। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও বিগত ইউপি নির্বাচন হতে ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে জাতীয় পার্টি এককভাবে আধিপত্য করার গভীর মিশনে কামাল হোসেন বাহিনী। আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অপরাধে একজন একজন করে নিজেদের খায়েশ পূরণ করছেন। বন্দরে আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক খ্যাত ধামগড় ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক ভীতকে নিশ্চন্ন করার প্রয়াস। এদিকে সদ্য ঘোষিত বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা শাকিল হাসান ভূইয়ার স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। মদনপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাকিল হাসান ভূইয়া তার নিজের ফেইসবুক আইডিতে ৪ দিন পূর্বে একটি বাস্তবমুখি স্ট্যাটাস দেন। পাঠকসহ রাজনৈতিক নেতাদের উদ্যােশে হুবুহুব তুলে ধরা হল  বন্দর থানা আওয়ামী লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি দীর্ঘ সময় পর গঠিত। উপজেলা আওয়ামী লীগ  সভাপতি বীর মুক্তি যোদ্ধা জননন্দিত নেতা আলহাজ্ব এম এ রশিদ ভাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আরও খুশি হতাম যদি তিনি একক শক্ত হাতে পুরু কমিটি ঘোষনা করতে পারতেন। তিনি একক ভাবে পারেন নাই বিদায় ই এত দেড়িতে কমিটির ঘোষণা  আসল। বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি নিয়ে শাকিল ভ’ইয়া তার ফেসবুকে লিখেন, জন্মের পর যখন থেকে রাজনীতি নামটি বুজতে শুরু করছি তখন থেকেই দেখেছি আমার দাদা আওয়ামীলীগ করত, আমার পিতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সহ সভাপতি, আমার দুই ভাই আওয়ামীলীগ করে সেই থেকে আমি নিজেও আওয়ামীলীগ কে সমর্থন করি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে লালন করি জয় বংলা জয় বঙ্গবন্ধু  স্লোগান দেই। আমি ১৭ বছর যাবৎ মদনপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের  নেতৃত্ব  দিয়ে আসছি। ১৯৯৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে রাজপথে ছিলাম অত্যাচারিত নিপিড়ীত  হয়েছি। আরজু রহমান ভূঁইয়া, আব্দুর রাজ্জাক, নাজিম উদ্দীন নাজিম ভাই (সেঃ) মহিদ ভূঁইয়া,( ভাঃ সঃ), হাবিবুর রহমান, তাজুল মেম্বার, এম এ রউফ, মাহবুবু ভুঁইয়া, তাওলাদ হোসেন, মোতালিব মিয়া, শুক্কুর আালি, গহন আলি, মুসলিম প্রদান, ওবায়দুল মাস্টার, সফিউল্লাহ ভাই, হাজি কাসেম, শেখ ফরিদ মেম্বার, আমানউল্লাহ (সঃ যুবলীগ), জাবেদ ভুইঁয়া (সাঃস), ইকবাল ভুঁইয়া, এফ আার দেলোয়ার, রফিকুল ইসলাম, সাইদূর জুয়েল, এডঃ মামুন, কায়েস আবুল হোসেন (সেঃ বন্দর থানা ছাত্র লীগ), গাজী সালাম (চেয়ারম্যান) সিরাজুল( সেঃ ইউনিয়ন ছাত্রলীগ) সোহেল মাস্টার, রাসেল মিয়া, সহ আরও অনেকে যারা আমরা সম্মেলিত ভাবে দলের দুঃসময়ে সহোযোদ্বা হয়ে রাজপথে  মিছিল মিটিং সংগঠিত করেছি মৃত্যু অকুতোভয়ি হয়ে। আমাদের সাথে অন্যান্য ইউনিয়ন এর নেতা কর্মিরা ও যোগ দিত তখন বিশেষ করে ধামগর ও মদনপুর এর আওয়ামী লীগ ছিল অগ্রভাগে। তখন থেকেই আমরা একে অপর কে চিনি কিন্তু পরিতাপের বিষয়  বর্তমান থানা কমিটিতে মদন পুর ও ধামঘড়ের এমন কিছু নেতা কর্মির নাম দেখলাম যাদের কখোনো আওয়ামীলীগ করতে ত দেখিইনি বরং আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর ও দেখেছি তারা বি এন পি, হেফাজত, ও জাতীয় পার্টি র রাজনীতি তে সম্পৃক্ত ছিল।  তারা হাইব্রিড। কিন্তু তারা কি কারনে দলের এত গুরুত্বপূর্ণ পূর্ণ পদ পায়? আমাদের দলে কি লোকের অভাব পরে গেছে? আমার নেতৃবর্গের কাছে আমার প্রশ্ন আপনারা কি এই সকল মুখোশ দারিদের  কখোন আওয়ামিলীগ এর  সাথে সম্পৃক্ততা দেখেছেন? সল্প সময়ে বড় নেতাদের চামচামি  করে যদি পদ পায় তাহলে কি ঐ সকল নেতারা দলিয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য কি দায়ী নয়? তিনি আরো লিখেন, দলের দূরদিনে এক শেখহাসিনার কমান্ড ছিল। আর দলের ত্যাগিরা সেই কমান্ডে যাপিয়ে পরত। তখন আপনারা জেলার বা কেন্দ্রের কে কোথায় ছিলেন নিজেও জানেন না। আপনারা বড় নেতা মানি। কিন্তু আজ এই সকল হাইব্রিড দের মাঝে ত্যাগিরা যে তলিয়ে গেল দলের পরবর্তী দূঃসময়ে কি এই হাইব্রিড দের পাবেন? পাবেন ত কতটা পাবেন? কিন্তু ত্যাগিরা কিন্তু মনে কস্ট থাকা সত্যেও বসে থাকবেনা দলের জন্য এগিয় আসবে এ জন্যই তারা ত্যাগি। আপনারা একবার ও কি চিন্তা করলেন না যে খন্দকার মোশতাকরা দলের ই ত অনুগত ছিল। দূরদিনে যারা প্রতিটা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ কে আগলে রাখল তাদের সাথে একটু বুজা পরা করলে হত  না ?  আরে ভাই যাদের পদ দিলেন একবার খোজ নিয়ে দেখুন তারা জীবনে কখনো ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, বা সেচ্ছাসেবকলীগ, আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রেম কোন সহোযোগি সংগঠনের সাথে জরিত ছিল কিনা? জ্বী খুজে পাবেন আওয়ামীলীগ ও বঙ্গবন্ধুর নাম জরিয়ে গজিয়ে ওঠা কিছু ভুঁইফোড় সুবিধা বাদি সংগঠনের সাথে জড়িত দু একটা নাম। তাহলে আপনারা কোন স্বার্থে এদের কে দলে বিরালেন?  আর একটা ওয়ান এলিভেন্থ এর নেতৃত্বে নেপথ্যে থাকা মাইনাস ২ ফর্মুলার নেতাদের মত সুবিধা  পাওয়ার জন্য?  আমি বলছি আমার নেত্রী  শেখ হাসিনা তিনি ছাড় দেন ছেড়ে দেন না। আমি নেতাদের নয় নীতিহিন দের ধিক্কার জানাচ্ছি। উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি ঘোষণাই প্রমাণ করে বন্দরে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক ভীত কতটুকু শক্তিশালী।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *