আজ: বৃহস্পতিবার | ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৭ই সফর, ১৪৪২ হিজরি | বিকাল ৩:১৭

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

বরেণ্য সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর আর নেই

ডান্ডিবার্তা | ০৭ জুলাই, ২০২০ | ৬:০৫

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট বরেণ্য এই শিল্পীর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুই নেতাই শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়েছেন। অপরদিকে এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে গভীর শোক নেমে আছে।সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় আপন বোনের বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। এন্ড্রু কিশোরের বাল্যবন্ধু ও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান দীপকেন্দ্র দাশ তিনি বলেন, ‘এন্ড্রু কিশোর তাঁর বোনের বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে সেখানেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।’
শরীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার কারণে আজ সকাল থেকেই এন্ড্রু কিশোরকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছিল বলে বিকেলেই জানিয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোরের ঘনিষ্ঠ মোমিন বিশ্বাস। সন্ধ্যায় ফোন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোমিন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘দাদা আর নেই।’দুদিন ধরেই এন্ড্রু কিশোরের অবস্থা ভালো যাচ্ছিল না। আজ সকাল থেকে অবস্থার আরো অবনতি হয়। তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। ফলে তাঁকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছিল। এর মধ্যেই সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আসে সংগীত অঙ্গনে।
ক্যানসারের চিকিৎসা শেষে দীর্ঘ নয় মাস পর গত ১১ জুন সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরেন এন্ড্রু কিশোর। তবে করোনার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে এর আগে জানিয়েছিলেন মোমিন বিশ্বাস। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন এন্ড্রু কিশোর। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর তাঁকে কেমোথেরাপি দেওয়া হচ্ছিল। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক লিম সুন থাইয়ের অধীনে তাঁর চিকিৎসা হয়। ১৯৫৫ সালে এন্ড্রু কিশোরের জন্ম রাজশাহীতে। সেখানেই কেটেছে তাঁর শৈশব ও কৈশোর। এন্ড্রু কিশোর প্রাথমিকভাবে সংগীতের পাঠ শুরু করেন রাজশাহীর আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে। একসময় গানের নেশায় রাজধানীতে ছুটে আসেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আধুনিক গান, লোকগান ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওর তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।
বাংলা গানের কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পী ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ হিসেবেও পরিচিত। বাংলা চলচ্চিত্রের গানে তাঁকে বলা যেতে পারে এক মহাসমুদ্র। কয়েক দশক ধরে সেই সমুদ্রে সাঁতার কেটে চলেছেন শ্রোতারা। ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যখানে’, ‘পৃথিবীর যত সুখ আমি তোমারই ছোঁয়াতে খুঁজে পেয়েছি’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘বেদের মেয়ে জোছনা আমায় কথা দিয়েছে’, ‘তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন’, ‘ভালো আছি ভালো থেকো’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘চোখ যে মনের কথা বলে’সহ অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান রয়েছে তাঁর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *