Home » শেষের পাতা » মেয়াদি সুদের ফাঁদে জিম্মি হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠী

বল্টু আমজাদের যত অপকর্ম

২৭ নভেম্বর, ২০২১ | ১১:০০ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 108 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

খুনি, নারীলোভী, ধর্ষক, চাঁদাবাজ, চোর, সন্ত্রাসী, পল্টি বাজ ভুঁইফোর, ফটোবাজ, অশিক্ষিত, বর্বর ও বন্দর থানার শীর্ষ তালিকাভুক্ত অপরাধী। উপরোক্ত সবগুলো বিশেষনে যাকে বিশেষায়িত করা যায় তার অপর নাম খন্দকার আমজাদ উরফে বল্টু আমজাদ। যার অপকর্মের কারনে বন্দর, নবীগঞ্জ ২৪নং আওয়ামীলীগ আজ প্রশ্নবিদ্ধ ও কর্মী সংকটে। নতুন কোন কর্মী সৃষ্টি হচ্ছে না। যে নিজেকে এক সময় তরুনলীগের স্ব-ঘোষিত সভাপতি দাবি করে ব্যানার, ফ্যাস্টুন করতো, মাঝ পথে যুবলীগ নেতা আর বর্তমানে বঙ্গবন্ধু পেশাজীবি পরিষদ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি পদ দাবী করা একজন ভুঁইফোর। অথচ, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বলতে স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন মাত্র। যে কি না প্রয়াত রনবীর রায় চৌধুরীর কনক টেক্সটাইল মিলস এর পরিত্যক্ত জায়গা অবৈধ দখল করে বালুর ব্যবসা ও নারী ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম  করছে। সে হয়েছে পেশাজীবি সংগঠন এর সিনিয়র সহ-সভাপতি! তাও বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে গড়ে উঠা সংগঠনের। সচেতন মহল এটাকে আওয়ামীলীগের ভিতর কাউয়ার অনুপ্রবেশ বলে মনে করে।তার মতো একজন দুর্র্ধষ সন্ত্রাসী, নানা অপকর্মের হোতা পেশাজীবি সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি, পেশাজীবিদের জন্য লজ্জাকর। যার নির্দিষ্ট বৈধ কোনো পেশায়ই নেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার বাবা লাল চাঁন সর্দার একজন আত্মস্বীকৃত রাজাকার ও পাক হানাদার বাহিনীর গুপ্তচর ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে গুপ্তচরবৃত্তি করা কালিন ধৃত হন এবং নিহত হন। তার লাশটি পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।লালচাঁন ও তার পুরো পরিবারটি একটি অত্যাচারি পরিবার নামে বন্দরে সুপরিচিত। এক সময় তাদের বংশের অত্যাচার আর নিপীড়নে পুরো দেউলি, চৌরাপাড়া, বক্তারকান্দি তটস্থ থাকতো। আতঙ্কের মূর্তিমান প্রতীক হলো এই পরিবারটি। সেই পরিবারের ছোট ছেলে বল্টু আমজাদ। সে বিভিন্ন সময় নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে তার অপকর্ম চালিয়ে আসছে। তার উত্থান হয় সরকারি জাহাজের নাট, বল্টু চুরির মাধ্যমে। সে চুরির মাল ভাগ করতে যেয়ে তার সহযোগী আপন খালাতো ভাই হালিম’কে হত্যা করে বলে কথিত আছে। তারপর, ৯৬ সানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে ভোল পাল্টে সে চলে যায় সদর নারায়ণগঞ্জে। মিশতে থাকে ওসমান পরিবারের সাথে। তাদের নাম ভেঙে রাজত্ব কায়েম করে সন্ত্রাসের। অথচ তার বড় ভাই টুন্ডা মনির ছিলো তৎকালীন সময়ে বিএনপি-জামায়েতের বড় সন্ত্রাসী। তৎকালীন এমপির ভাই ছিলো টুন্ডা মনিরের বন্ধু। তাই মানুষ ভয়েও মুখ খোলার সাহস পেতো না বলে জানা যায়। ২০০১ আবারও বিএনপি ক্ষমতায় এলে আমজাদ দেশ ছেড়ে গা ঢাকা দেয়। আমজাদের অপকর্মের বদনাম আওয়ামীলীগকে তখন বহন করতে হয়। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক এক পরিবারকে। তারপর বিজ্ঞ সেই পরিবার পরবর্তী সময় তাকে আর কোনো ধরনের প্রশ্রয় কিংবা কাছে যাবার সুযোগ দেননি। কিন্তু সুযোগ বুঝে সে আবার এলাকায় ফিরে আসে। শুরু করে তার নতুন কৌশল ও অত্যাচার। তার পূর্ব পরিচয় এর সূত্র ধরে বা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন এমপি, নেতা, মেয়র সহ সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের সাথে ছবি তুলে তা প্রচার করে গড়ে তুলে আরেক রাজত্ব।বিভিন্ন রাষ্ট্রিয় দিবসে সে বিভিন্ন নেতাদের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার সাটায়। জনমনে প্রশ্ন, আদতে কি সে সব এমপি বা নেতা মহোদয় এর অনুমতি নিয়ে সে এসব ব্যানার করছে না কি? যদি না করে থাকে তা হলে সেটাও প্রচলিত আিনে বড় অপরাধ। কারন তার মতো একজন ঘৃনিত মানুষের ব্যানারে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের ছবি ব্যবহার করছে সে, সেই সাথে জেলার স্বনামধন্য ব্যাক্তিবর্গের। বিভিন্ন সময় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধৃত হলেও বারবার জামিনে মুক্তি পেয়ে তার অপকর্ম সে চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকাশ্যে নারী ইভটিজার হিসাবে সে পরিচিত। তার অত্যাচারে বহু নারী তার স্বতীত্ব হারিয়েছে। ভয়ে কেহো মুখ খোলার সাহস পায় না বলে জানা যায়। গত ২০১৯ ইং সনের জুন মাসের শেষ ভাগে, সম্ভবত ২৮জুন এমনি একটি ঘটনা দেশ-বিদেশে সারা তুলে। দিন দুপুরে ববি নামে এক নারীকে উত্তক্ত করলে তার স্বামী বাঁধা প্রদান করে। ববির স্বামী শাহিনকে প্রকাশ্যে সে, তার ২ ছেলে হৃদয়, আপন ও তার গুন্ডাবাহিনী হত্যার উদ্দেশ্যে কোপাতে থাকে। যার ভিডিও ও ছবি তখন দেশের মূল ধারার সকল গণমাধ্যম ও নেট দুনিয়ায় প্রচার হয় এবং নিন্দার ঝড় উঠে। তৎকালীন এসপি হারুন সাহেব ঘটনার সঠিক তদন্ত পূর্বক বিচার নিশ্চিত এর আশ্বাস দিলেও।তার বদলি হওয়ার পর এর কোনো অগ্রগতি হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায় বন্দর ও সদর থানায় তার ও তার পরিবারের নামে ৩০ টির অধিক মামলা রয়েছে। কিন্তু, সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংগঠন বা লীগের নাম ব্যবহার করে তার রাজত্ব কায়েম রেখে চলছে বলে সূত্র বলছে। সে সময়, অসময়ে বিভিন্ন সম্মানিত ব্যক্তিদের নিয়ে কটুক্তি কিংবা বিশ্রী ভাষায় গালমন্দ করে। জাতীয় শোকের মাস আগষ্টকে নিয়ে সে আবারও নতুন পোষ্টার করেছিল। যেখানে সে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী সহ দলীয় নেতাদের ছবি ব্যবহার করেছে। এমনকি বঙ্গবন্ধু পেশাজীবি পরিষদের সিনয়র সহ-সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বলে প্রচার করছে। যেখানে বঙ্গবন্ধুর নামটি পর্যন্ত বিকৃত করে “বাঙ্গবন্ধু” লেখা হয়েছে। অনেক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাধারণ মানুষ হতবাক তার এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ কাজে। একজন রাজাকার পুত্র বারবার আওয়ামী লীগ এর পদ পায় কি ভাবে সেটা সাধারণ মানুষের প্রশ্ন?আর সে আদতে পদ পেয়েছে কি না, তাও প্রশ্ন? এই অত্যাচারী সন্ত্রাসীর হাত থেকে   আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি ও তার জনগণ মুক্তি কি পাবে?মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী এ বিষয় আপোষহীন। এসব ভুঁইফোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া অতিব জরুরী। নচেৎ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকারের সকল অর্জন ও সুনাম। শাহেদ, হেলেনা, মনিরদের মতো বল্টু আমজাদের বিচার হবে এটাই এখন সময়ের দাবি। বঙ্গবন্ধুর এই বাংলায় এমন নব্য কাউয়াদের ঠাঁই হবে না এটাই স্বাধীনতার পক্ষের সকল শক্তির চাওয়া।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *