Home » শেষের পাতা » হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে সড়ক-মহাসড়কে চলছে চাঁদাবাজী

বাঙ্গালীর অনুভূতির পাঠশালা হোক আওয়ামীলীগ

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 75 Views

রাজু আহমেদ

পশ্চাৎপদ, ভ্রান্ত দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে জন্ম নেয়া পাকিস্তানের অধীনে থাকা পূর্ববাংলার জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আত্ম প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ আওয়ামী মুসলিম লীগ। সেটিই ছিল আজকের বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের গোড়া পত্তন। তবে প্রতিষ্ঠার সময়ই দলের অসাম্প্রদায়িক নামকরণের দাবি উঠলে ১৯৫৫ সালে ঢাকায় দলটির তৃতীয় সম্মেলনে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে অসাম্প্র্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণ করে। সেই থেকে গৌরব-ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের একেকটি সিঁড়ি বেয়ে ৭২ বছর পার করেছে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ। দীর্ঘ ৭২ বছরে দলটি অনেক ঐতিহ্য-গৌরব স্থাপনে সক্ষম হয়েছে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়ের পথ ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রাম নিয়ে দলটি অগ্রসর হয়। ১৯৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর নির্বাচনে বিপুল বিজয় ও স্বাধীনতার সংগ্রাম আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই গড়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে ১৯৭১-এ সংগঠিত মহান মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দেয়। কিন্তু ১৯৭৫এর ১৫ই আগষ্ট বাঙালী জাতির মহানায়ক রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে স্বপরিবারে হত্যার পর তার হাতে গড়া দলটি যেখানে নি:শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল, যেখানে ২২টি বছর দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি উচ্চারিত হয়নি, সেখান থেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নানা ঘাত-প্রতিঘাত, চরাই-উতরাই ও সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে আজকের এই অবস্থানে উপনীত হয়েছে। এর অন্যতম ও প্রধান কারণ বোধকরি দলের তৃনমূলের কোটি কোটি কর্মী আর আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ইস্পাতসম নেতৃত্ব। তৃনমূলের কর্মীদের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব নেই। তাঁরা বোঝেন বঙ্গবন্ধুর আর শেখ হাসিনা। তারা চাওয়া পাওয়ার হিসাব মেলান না বলেই আওয়ামীলীগ আজও টিকে আছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনা হাল ধরার আগে আওয়ামীলীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা ছিল। টিকে থাকা নিয়ে আশঙ্কা ছিল। অসীম ধৈর্য নিয়ে এক হাতে তিনি সব মোকাবিলা করেছেন, এখনও করছেন। দেশের যে কোন বৈরী পরিস্থিতি কিংবা হঠাৎ কোন ঘটে যাওয়া সংকটে তাঁকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়, দিতে হয়। মন্ত্রীসভার এক গাদা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা কেন আছেন জানি না। মাঝে মাঝে অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় দলের জাতীয় সম্মেলনে মঞ্চে লাগানো ব্যানারটি কত বড় হবে সটিও মনে হয় তাঁকেই নির্ধারণ করে দিতে হবে ! এর কারণও আছে মনে করি। সিদ্ধান্ত নেয়ার মত বা নেত্রীকে বলার মত সাহস ওয়ালা নেতারা এখন সংখ্যায় কম। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতারাই তৃনমূল আর ত্যাগীদের যথেষ্ট মূল্যায়ন করতেন এক সময়। সেই উত্তাল দিনের শীর্ষ নেতারা আজ বয়সের ভারে নূহ্য, অনেকেই পরলোকে। তাই মূল্যায়ন শব্দটি আওয়ামীলীগ থেকে অনেক আগেই বিদায় নিয়ে বহুদূরে সরে আছে, তৃনমূল আর ত্যাগীরা এখন দলের অনু:প্রবেশ আর হাইব্রীডদের দ্বারা নিষ্পেষিত, উপেক্ষিত। কিন্তু একজনের কাছে সেই ত্যাগ আর তৃনমূলের মূল্যায়ন এখনও আছে, তিনি একজনই শেখ হাসিনা। কিন্তু ক্ষমতার টানা একযুগের বর্তমান আওয়ামীলীগের দিকে তাকালে মনে হয় আওয়ামীলীগ দল হিসেবে গতি হারাচ্ছে। একসময় যে আওয়ামী লীগে ছিল জাতীয়ভাবে আলোকিত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বহর, তৃণমূলে ছিল গণমুখী-সৎ, আদর্শবাদী ও অভিজ্ঞ রাজনীতির পরীক্ষিত মুখ; সেখানে আজ চিত্রপট একেবারেই ভিন্ন। কারণ ২শ টাকার বালিশের দাম হয়ে যাচ্ছে কয়েক হাজার টাকা, সরকারের মন্ত্রী এমপিদের সম্পদ ফুলেফেপে একাকার হয়ে যাচ্ছে, দুর্নিতির খতিয়ান প্রকাশ পেলেও তদন্ত বন্ধ হয়ে থাকছে, কেউ কুয়েতের জেলখানায়, ক্ষমতায় থেকেও দেখলাম জামালপুরে আওয়ামীলীগের সম্মেলনে কর্মী শূন্যতার কারণে স্থগিত হয়, সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে নতুন হাইব্রীডরা রাস্তায় ফেলে মারে, তৃনমূল কাউকে চাইলে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে ঠিক উল্টো একজনকে, বিএনপি-জামাতের ঘরানার কেউ আওয়ামীলীগের নেতা হয়ে যাচ্ছে -এমন শত সহস্র উদাহরণ তো চোখের সামনেই। অনেকে যেমন আজন্ম আওয়ামী লীগ করেও দলীয় ক্ষমতার স্বাদ পাননি, তেমনি অনেকে হঠাৎ এসে উড়ে এসে জুড়ে বসে ষোলো-আনাই ভোগ করে ক্ষমতার স্বাদ নিচ্ছেন। অনেকের সাংগঠনিক দক্ষতা-অভিজ্ঞতা থাকলেও দলে নেই, ক্ষমতায় আছেন। আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে একসময় ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকও একাধিক দিনে শেষ হতো। সেসব বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত বা  প্রস্তাব বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখত। ব্যক্তিগতভাবে মনে হচ্ছে যেন দল ও সরকার আলাদা করার কোন এক্সপেরিমেন্ট হচ্ছে। ১৯৭৫ সালের পর সেই গভীর সংকটকালে যারা ছাত্রলীগের রাজনীতির পতাকা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উড়িয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতির প্রচার চালিয়েছেন সাংগঠনিক দক্ষতা ও মেধায় দলকে উজাড় করে দিয়েছেন তারা অনেকেই এখন অচেনা, হারিয়ে গেছেন। ওয়ান-ইলেভেনে যারা ঝুঁকি নিয়েছেন, জেল খেটেছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; যারা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ছাড়েননি তাদের খবরও এখন কেউ নেয় না। অনেকের খবর নেয়া হয় জাতীয় নির্বাচন কিংবা স্থানীয় সরকারের কোন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে। যাদের ভোটের জোর আছে, লাঠির জোর আছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন আওয়ামী লীগ আজ রাষ্ট্র পরিচালনায় আছে, কিন্তু ক্ষমতা চিরস্থায়ী থাকবে না। বিরোধী দলের কঠিন রাজনীতি মোকাবিলা করার মতো সাংগঠনিক শক্তি ও কাঠামো কি তৈরি আছে? এ নিয়ে কি কেউ ভাবছেন? একথা অস্বিকার করার কোন উপায় নেই যে, আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশেই প্রবেশ করেনি, অর্থনৈতিক উন্নয়নে পৃথিবীতে রোল মডেল হয়েছে।করোনাযুদ্ধে তার সাফল্য দেখার মতো। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শত ব্যর্থতার মধ্যেও তিনি তার নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা, মেধা ও প্রজ্ঞায় সংকট মোকাবিলা করছেন। খাবারের জন্য কাউকে কষ্ট করতে হচ্ছে না। সুতরাং সময় এসেছে দলের ত্যাগী এবং পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করার। আর এই মূল্যায়নের বিষয়ে শুরুতেই বলেছি, একজনই আছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। যিনি দেশের কথা ভাবেন, দলের কথা ভাবেন, তার দলের প্রাণ তৃনমূল আর ত্যাগীদের কথা ভাবেন। যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের চন্দন শীল। জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে তিনি শুধু নারায়ণগঞ্জই নয়, সারা দেশের ত্যাগীদের মূল্যায়ন করেছেন। তৃনমূলের কাছে জননেত্রী শেখ হাসিনা একটি ম্যাসেজ দিয়েছেন, ত্যাগীদের মূল্যায়ন এখনও আছে। তিনি ম্যাসেজ দিয়েছেন এখনও বঙ্গবন্ধুর মেয়ে বেঁেচ আছেন। ঠিক যেভাবে তিনি সংসদে দাঁিড়য়ে নারায়ণগঞ্জের ঐহিত্যবাহী ওসমান পরিবারের ত্যাগের কথা বলেছিলেন। কর্মীরা চান, হাইব্রীড নেতাদের নয় বরং মুজিব আদর্শের অনুভূতির যে শিক্ষকগুলোর বেশীরভাগই অবজ্ঞা ও অভিমানে লুকিয়ে আছে তাদেরকে আবারো সামনে আনা হোক। এই শিক্ষকরাই শেখাবেন আগামী দিনে ছাত্রদের, শেখাবেন দলের জন্য কি করে ত্যাগ দিতে হয়। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ হউক আগামী দিনের বাঙ্গালীর অনুভূতির পাঠশালা ; যে পাঠশালার প্রধান শিক্ষক জননেত্রী শেখ হাসিনা।  লেখক-সিনিয়র সাংবাদিক- দৈনিক যুগান্তর ও ডিবিসি চ্যানেল সাধারন সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ নিউজ পেপার ওনার্স এসোসিয়েশন

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *