Home » শেষের পাতা » অক্টোবরে মাঠে নামবো

বাজেট নিয়ে নানা মত

০৮ জুন, ২০২২ | ১২:৩৭ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 38 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার নতুন বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে, এই বাজেটকে ‘গতানুগতিক’ বাজেট বলে মনে করছে সিপিবি, গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জের নেতারা। সুজন চাইছে ‘ভর্তুকির বাজেট প্রয়োজন’। আর আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন ‘জনবান্ধব’। করোনা মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার পর্যায়ে শুরু হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যার ধাক্কায় জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্য এখন ঊর্ধ্বমুখী। পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নে দেশে প্রধান প্রধান ভোগ্যপণ্যের দাম আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বাস্তবতায় নতুন বাজেট নিয়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতাদের বক্তব্যে এমন কথা উঠে আসে। আগামীর বাজেট নিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমরা শুধু বাজেট মানি না সে রকম না। প্রতিবারই বাজেটে কি কি করা উচিৎ, সে রকম কিছু পরামর্শও আমরা অর্থমন্ত্রী ও সরকারকে দেই। তাই এবারও আমরা বলেছি, এই বাজেটে দরিদ্র মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে, কৃষকের যাতে ভর্তুকি দেয়া যায়। পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা খাতের এই বিষয়গুলোও থাকতে হবে, শ্রমজীবী মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। কিন্তু শ্রমিকদের জন্য বাজেটে কোনো বরাদ্দ থাকে না। বর্তমানে বিভিন্ন জিনিসপত্র ও দ্রব্য মূল্য থেকে শুরু করে সব কিছুর দাম বেড়েছে কিন্তু বাড়েনি শ্রমিকের মজুরি। এই মজুরি বাড়ানোর জন্য আমরা যে দাবিগুলো তুলেছি, যেমন মজুরি বোর্ড গঠন, নূন্যতম মজুরি ২০ হাজার টাকা করা। এই সব বিষয় গুলোই কিন্তু শ্রমিকদের ন্যায়সম্মত ও যৌক্তিক দাবি। এই দাবিগুলো সরকার যদি মনে করে করবে, তা হলে বাজেটেও এর প্রতিফলন থাকতে হবে। প্রতিবারের মতো যে গতানুগতিক বাজেট হয়, হয়তো এবারো এই গতানুগতিক বাজেট হবে। কিন্তু যারা বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষ, বিশেষ করে যারা এই দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখে, তাদের জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখার দাবি জানাই আমরা। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল বলেছেন, আমরা প্রতিবারই আশা করি সরকারের বাজেট যাতে জনগণের সহনীয় বাজেট হয়। তাছাড়া শিক্ষা বান্ধব, পরিবেশ বান্ধব, গরিব বান্ধব বাজেট হয়। কিন্তু বাজেট যারা করেন, তারা এই বিষয়গুলো মাথায় রাখেন না। শুধু মাত্র তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই এই বাজেট গুলো করে থাকে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর একটু ব্যতিক্রম, কারণ গত দু’বছর করোনার কারণে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক এবং জনজীবনে একটা বিরাট প্রভাব পরেছে। এরই মধ্যে সরকার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। ফলে এর প্রভাব জনগণের উপর পরছে এবং আগামী দিনে আরও ব্যাপক ভাবে পরবে বলে আমি মনে করি। সবকিছু মিলিয়ে এবারের বাজেট একটা ভর্তুকি সম্বলিত বাজেট প্রয়োজন। অর্থাৎ দ্রব্য মূলের দাম সহনীয় পর্যায়ে রেখে, যদি ভর্তুকি দিতে হয়, প্রয়োজনে তাই করা উচিৎ। অন্য খাতে ব্যায় কমিয়ে এই খাতগুলোকে গুরত্ব দেয়া উচিৎ। গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন বলেন, যে সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না, সেই সরকার জনগণের স্বার্থে কোনা বাজেট করবে না। এই সরকার লুটেরাদের সরকার। সকল উন্নয়ন, সকল প্রকল্প, নিজেদের সুযোগ সুবিধা এবং নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধি ও আহরণ করার জন্যই এই সমস্ত বাজেট করে তারা। নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের বলেছেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব সরকার। এই সরকার দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। যে সরকার মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করে, সেই সরকারের বাজেটতো জনবান্ধব বাজেটই হবে। আমরা আশা করি সরকার যে বাজেট করবে সেটাতে জনগণের সমর্থন থাকবে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *