আজ: রবিবার | ১২ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২৮শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী | সন্ধ্যা ৬:৪১

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

বাস ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে নগরবাসীর ক্ষোভ

ডান্ডিবার্তা | ০২ জুন, ২০২০ | ৩:০২

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর নারায়ণগঞ্জে গণপবিহন চালু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস চলাচলা শুরু হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাতেগুনা কয়েকটি গণপরিবহন চললেও অধিকাংশেই স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। তবে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। জানাগেছে, ঢকা-নারায়ণগঞ্জ ১৬ কিলোমিটার দূরত্বে শীতল পরিবহনে ৯০টাকা, বিআরটিসি’র ৩০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা, বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের ৩৬ টাকার ভাড়া ৫৮ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এরআগে করোনাকালীন গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। গত রোববার এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ৮০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করলেও তা কমিয়ে ৬০ শতাংশ করে মন্ত্রণালয়। এরপরই গতকাল সোমবার ভাড়া বৃদ্ধি করে চালু হয় নারায়ণগঞ্জের গণপরিবহনগুলো। তবে ভাড়া বেশি আদায় করা হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বলে অধিকাংশ পরিবহন মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ভাড়া বেশি আদায় নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। তবে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জে বাস রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। গণপরিবহনের ভাড়া স্বাভাবিক না হলে করোনার মধ্যেই আন্দোলনের ঘোষনা দিয়েছেন সিপিবি নেতা হাফিজুল ইসলাম। জানাগেছে, করোনা ভাইরাসের হটস্পট নারায়ণগঞ্জে গতকাল সোমবার থেকে গণপরিবহন চালু হতে যাচ্ছে। তপূর্ব থেকেই তুলনামূলক ভাবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে বাস মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। আর এবার ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা। সচেতন মহল বলছেন, নারায়ণগঞ্জে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির পরিবর্তে গণপরিবহনে অবৈধ চাঁদাবাজি কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে এবং সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি সমন্বয় করতে হবে। এই মুহূর্তে গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির কারণে সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে বাস চালানো হলে একটি বাসের আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করলে ভাড়া ৬০ ভাগ বৃদ্ধি এই সঙ্কটকালে সাধারণ মানুষের চাপ পড়বে। অভিযোগে রয়েছে, নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি পরিবহন থেকেই চাঁদাবাজী করছে একটি মহল। চাঁদার কারণে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদাই করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কয়েকজন বাস মালিক প্রতিবাদ করে বিপাকে পড়েছিলেন। এজন্য নতুন করে কেউ আর কোন প্রকার প্রতিবাদ করেন না। এজন্য চাঁদাবাজরা দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। আর এই চাঁদা আদায় বন্ধ করা হলেই কমবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের বাস ভাড়া। এদিকে, গতকাল সোমবার সরজমিনে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। অতিরিক্ত যাত্রী নেয়সহ পরিবহনে নেই কোন সুরক্ষা ব্যবস্থা। এমনকি টিকেট কাউন্টারগুলোতেও তেমন কোন সুরক্ষ ব্যবস্থা দেখা যায়নি। যার ফলে এই সংকটময় সময়ে ভাড়া বৃদ্ধি করেও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় নারায়ণগঞ্জের পরিবহন মালিকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *