Home » প্রথম পাতা » বন্দরে নাসিম ওসমান স্বরণে যুব সংহতির দোয়া

বিএনপিতে থেকে নৌকার নির্বাচন!

২৫ জানুয়ারি, ২০২২ | ১০:০২ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 99 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সদ্য অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। প্রদান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি এই নির্বাচন ঘিরে নানাভাবে হার্ডলাইনে ছিল। ভোটের আগে ও পরে আওয়ামীলীগ কমিটি বিলুপ্ত করে এবং বিএনপি দুই শীর্ষ নেতাকে বহিস্কার করে স্থানীয় রাজনীতিতে রীতিমত ঝড় তুলেছেন। তা নিয়ে নানা সমীকরণে চলছে আলোচনা-সামলোচনা। নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে তৈমূর আলম খন্দকার ও এটিএম কামালকে বহিস্কার করেছে বিএনপি। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে তৈমুর আলম নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ছিলেন। এই দুই নেতার বহিস্কার নিয়ে জেলা বিএনপিতে রয়েছে অনেক মতপার্থক্য। কেউ কেউ তৈমূরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন আবার কেউ তৈমূরের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে দলের সিদ্ধান্তকে মাথা পেতে নিয়েছেন। তবে বিএনপির একটি অংশ এই সিদ্ধান্তকে দ্বিমুখী আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দল থেকে তৈমূর আলমকে বহিস্কার করা হয়েছে। তৈমূরের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করায় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে এটিএম কামালকে। কিন্তু দলে পদ পদবী থাকার পরেও যারা নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন এবার তাদের বিরুদ্ধে দলের অবস্থান কী  হবে সে বিষয়েও সরব হয়ে উঠেছেন দলের নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করা যতটা অপরাধ তার চেয়ে কয়েকগুন বেশী অপরাধ নৌকায় ভোট দেয়া এবং ভোট চাওয়া। এই ধরনের নেতা দলের জন্য চরমভাবে ক্ষতিকর। এরা নিজের আখের গুছানোর জন্য আওয়ামীলীগের বি-টিম হিসেবে কাজ করছেন। আবার দলের সু-সময়ে নিজেকে বিএনপির ত্যাগি নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে মরিয়া হয়ে উঠবে। তাই দলের ভেতর এই সকল বর্ণচোরাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা সময়ের দাবী। নাসিক নির্বাচনে নৌকার পক্ষে বিএনপির পদধারী নেতাদের কাজ করার বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ না খুললেও মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত ৩ নম্বর ওয়ার্ডে (৭, ৮ ও ৯) দুই বার নির্বাচিত কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যারা বিএনপি’র নেতা হয়েও প্রকাশ্যে নৌকার জন্য ভোট চেয়েছে কেন্দ্র তাদের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নিবেন আমরা শহীদ জিয়ার সৈনিকেরা তা জানতে চাই। মেনে নিলাম তৈমুর আলম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন নাই। তাই তার পক্ষে আপনারা নামেন নাই। কিন্তু নৌকার পক্ষে সরাসরি ভোট চাওয়ার অনুমতি আপনাদের কে দিয়েছে? যারা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরাসরি নৌকার পক্ষে ভোট চেয়েছে আশা করি অতি তাড়াতাড়ি কেন্দ্র তাদের ব্যপারে সিদ্ধান্ত নিবেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাসিক নির্বাচনে  সাধারণ ওযার্ডে ১০ জন এবং সরক্ষিত ওয়ার্ড থেকে ২ জনসহ মোট ১২ জন বিএনপিপন্থি কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এদের মধ্যে নির্বাচিত ৪ জন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে দেখা গেছে। এদের মধ্যে ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের ছেলে গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল, ২২নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি নেতা সুলতান উদ্দিন, ২৩নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউসার আশা রয়েছেন। এছাড়া ২১নম্বর ওয়ার্ডে গত ২ বারের কাউন্সিলর বিএনপি নেতা হান্নান সরকার এবারের নির্বাচনে হেরে গেলেও তিনিও আইভীর জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলর গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল সরাসরি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত না থাকলেও তার বাবা বিএনপির সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। বাবার কারণে স্থানীয়রা তাকে বিএনপিপন্থি কাউন্সিলর হিসেবেই জানে। নির্বাচনে প্রচারনার সময় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী  ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারণায় গেলে সাদরিল সেই প্রচারনায় উপস্থিত থেকেছেন এবং তার কর্মীরা ‘আইভী আপার নৌকা, সাদরিল ভাইয়ের নৌকা’ শ্লোগান দেন। শুধু তাই নয়, স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন ২০১৬ সালের নির্বাচনেও গিয়াস উদ্দিন পরোক্ষভাবে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী আইভীর পক্ষে কাজ করেছেন। বিজয়ী হওয়ার পর আইভীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি নিজ হাতে মিস্টি খাইয়ে দিয়েছেন। এছাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি ইয়াছিন মিয়ার ছত্রছায়ায় পরিচালিত হয়ে আসছেন। ২০১৬ সালে বিএনপির প্রার্থীকে বাদ দিয়ে আওয়ামীলীগের নির্বাচন করে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও ইকবাল নৌকার নির্বাচন করেছেন। বিনিময়ে আওয়ামীলীগের কাউন্সিলর প্রর্াীদের বাদ দিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা ইয়াছিন মিয়া ইকবালের নির্বাচন করেছেন। ২১নম্বর ওয়াডে এ  হান্নান সরকার ও ২২ নম্বর সুলতান উদ্দিন বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত থাকলেও নৌকার পক্ষে ভোট চেয়েছেন। গত ১০ বছর তাদের বিএনপির রাজনীতিতে যতটা না সক্রীয় দেখা গেছে তার চেয়ে বেশি দেখা গেছে আওয়ামীলীগ নেত্রী ডা, সেলিনা হায়াৎ আইভীর পাশে। শুধু তাই নয়, ইকবাল হোসেন, সাদরিল, আশা, হান্নান সরকার, সুলতানরা তাদের স্ব স্ব ওয়ার্ড এ এবার নৌকাকে বিজয়ী করে তাদের অবস্থানের প্রমানও দিয়েছেন। দলীয়ভাবে তদন্ত করলে ঘটনার ভয়াবহ সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। বিএনপির রাজনীতিতে জড়িতে থেকে নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির সদস্য ও এই নির্বাচনে পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী হান্নান সরকার সাংবাদিকদের বলেন, গত ১০ বছর সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে কাজ করেছি। এজন্য তার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছি। তাছাড়া তৈমূর আলম তো বিএনপির প্রার্থী ছিলেন না। সেজন্য নৌকার হয়ে ভোট চেয়েছি। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকে নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়া কতটা সমীচিন হয়েছে সেই প্রশ্নের জবাবে হান্নান সরকার বলেন, বিএনপির প্রার্থী থাকলে হয়তো এমনটা করতাম না। এদিকে নির্বাচনে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি ছিলেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার প্রধান সমন্বয়ক। গত ১০ জানুয়ারি রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি তৈমূর আলমের পক্ষে কাজ করলেও দল তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। নির্বাচন চলাকালীন সময় গত ৩ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পদ থেকেও প্রত্যাহার করা হয় তৈমূর আলম খন্দকারকে। ১৮ জানুয়ারী দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তৈমূর আলম খন্দকারকে বিএনপি থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। একই দিন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে এটিএম কামালকে বহিস্কার করা হয়। প্রসঙ্গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নাসিক নির্বাচনে তৈমূর আলম খন্দকার মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে পরাজিত হন।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *