Home » প্রথম পাতা » সামসুলের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ

বিএনপির ইউনিট কমিটি ফাইল বন্ধি

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 46 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

গত মাসেই ঘোষণা হওয়ার কথা ছিলো নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অন্তর্ভূক্ত পাঁচটি পৌরসভা, তিনটি উপজেলা ও দুইটি থানা কমিটি। কিন্তু এক ব্যক্তির অগঠনতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে এসব কমিটি এখন ফাইলবন্দি হয়ে পড়েছে। কবে নাগাদ কমিটি ঘোষণা হবে অথবা আদতে ঘোষণা হবে কিনা, এ নিয়ে সন্দিাহন অনেকেই। সূত্র জানায়, আড়াইহাজারের দুইটি, রূপগঞ্জের একটি এবং সোনারগাঁয়ের একটি করে মোট পাঁচটি পৌরসভা, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার উপজেলা এবং ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটিগুলোর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছিলো। তবে, কমিটি ঘোষণার মাত্র কদিন আগেই বেঁকে বসেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি এসব কমিটিতে স্বাক্ষর করবেন না বলেই অনড় রয়েছেন। অভিযোগ, কমিটিগুলোতে যাদের নেতৃত্বে আনা হচ্ছে, তাদের মধ্যে বেশ কজনই বিতর্কিত, বাদ দেওয়া হয়েছে অনেক ত্যাগীদের। তৈমূর আলম খন্দকারকে ঘুমে রেখে এসব কমিটির খসড়া চূড়ান্ত করেন মামুন মাহমুদ। এখানে আরও অভিযোগ উঠেছে, জেলা বিএনপির এই সদস্য সচিব দলের স্বার্থ না দেখে, নিজের স্বার্থটাকেই বড় করে দেখতে শুরু করেন। এ কারণে বিতর্কিতদের কাছ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে কমিটি সাজিয়েছিলেন। এতে বাধ সাধেন তৈমূর। বর্তমানেও তিনি নিজ অবস্থানে অনড় থাকার কারণে কমিটি ঘোষণা এখন প্রায় অনিশ্চিত। এদিকে শোনা যাচ্ছে, মামুন মাহমুদ তৈমূরকে রাজি করানোর জন্য ধর্ণা ধরলেও তৈমূর টলছেন না। মামুনকে তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন। সূত্রের মতে, তৈমূর এসব কমিটিতে স্বাক্ষর করবেন না বলেই মনস্থির করেছেন। নিজের অবস্থান থেকে তিনি একচুলও নড়বেন না। শেষ পর্যন্ত যদি তৈমূর আলম খন্দকার নিজের অবস্থানে এমন অনড় থাকেন, তাহলে জেলার দশটি ইফনিট কমিটি ঘোষণা না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সে ক্ষেত্রে চলমান আহ্বায়ক কমিটি বাদ হবে এবং কেন্দ্র থেকে নতুন করে কমিটি গঠন করে দিবে। আর সে কমিটি হতে পারে আহ্বায়ক কমিটি অথবা স্বল্প পরিসরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি। তবে, জেলা বিএনপির অনেক নেতাই চাচ্ছেন, বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি বাতিল করে দিয়ে কেন্দ্র থেকে নতুন করে যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন একটি কমিটি করে দেওয়া হোক। আর এই কমিটি যেন আগামী ২০২৩ সালের দ্বাদশ নির্বাচনের জন্য সকলকে একত্রিত করে দলকে শক্তিশালীকরণে আত্মনিয়োগ করতে পারে। তৃণমূল থেকেও এমন একটি কমিটি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে, তৃণমূলের এই দাবির বিষয়টি কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাবে কিনা, এ নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। কেননা, কেন্দ্রী গুটি কয়েক নেতার ভুলের কারণেই বিএনপি অধ্যুষিত এই নারায়ণগঞ্জে এই দলটি সব থেকে বেশি বেহাল পরিস্থিতি। তবে, অতীতে কী হয়েছে, কী হতে পারতো সে হিসেব থেকে সরে এসে নতুন করে ভাবতে চায় তৃণমূল। তারা চায়, যোগ্য নেতৃত্ব। যার নেতৃত্বের গুণে নতুন পুরাতন সকলের সম্মিলনে প্রতিটি ইউনিট কমিটি সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবে। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলছেন, দলের স্বার্থে তৈমূর আলম যে অনড় অবস্থান গ্রহণ করেছেন তা, তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে অন্যতম একটি সিদ্ধান্ত। শেষ পর্যন্ত তিনি যদি তার এই অবস্থান ধরে রাখতে পারেন, তাহলে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে হিরো হয়ে উঠতে পারেন। কেননা, তিনি সম্পূর্ণভাবেই দলের স্বার্থে এই অবস্থান নিয়েছেন। এখানে তার ব্যক্তি স্বার্থ প্রতিষ্ঠার কোনো মনঃবাঞ্ছা নেই। যদিও এই অবস্থান থেকে তাকে টলানোর জন্য কেন্দ্র থেকে নানাভাবেই চাপ দেওয়া হবে। কিন্তু দলের এই দুঃসময়ের কথা বিবেচনা করে তাকে নিজ অবস্থানে অনড় থাকা অত্যঅবশ্যক।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *