Home » প্রথম পাতা » পদ্মা সেতু জাতির আরেক বিজয়

বিএনপির কৌশলে হতবাক আইভী!

৩১ ডিসেম্বর, ২০২১ | ১২:৪১ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 87 Views

ডান্ডিবার্র্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে বিএনপি সিটি নির্বাচনে আসবে কি আসবে না। আর যদি আসে তাহলে বিএনপি থেকে কে প্রার্থী হবেন তা নিয়েও আলোচনার কমতি ছিল না নগরবাসী তথা প্রতিপক্ষ শিবিরে। যদিও পূর্বেই বিএনপি ঘোষণা দিয়েছিল বর্তমান নির্বাচন কমিশনের আওতায় তথা এই সরকারের আমলে বিএনপি স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিবে না। বিএনপির এই কথায় কিছুটা স্বস্থি ফিরে আসে নাসিক নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে। তারা রীতিমত নিশ্চিত হয়ে যান দলীয় মনোনয়ন পেলেই বিজয়ী। তাই নাসিকের সদ্য সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ছাড়াও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি চন্দনশীল ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা দলীয় মনোনয়নত্র পত্র কিনেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আওয়ামীলীগের হাইকমান্ড এককভাবে দলীয় মনোনয়ন দেন সেলিনা হায়াৎ আইভীকে। ক্ষোভ ও হতাশায় নিমজ্জিত হয় আওয়ামীলীগের বাকী তিন প্রার্থী। এদিকে দলীয় সমর্থন পেয়ে জেলা নির্বাচন অফিস থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। কিন্তু নাটকীয়ভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির দুই নেতা মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক এ্িটএম কামাল মনোনয়ন পত্র কিনেন। এবং তারা বলেন, আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিনেছি। তবে দল যা সিদ্ধান্ত দেবে আমরা তা মেনে নিবো। শুরু হয় বিএনপির এই দুই নেতাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা। বিএনপির নেতাকর্মীদের কেউ সাখাওয়াতের পক্ষে কেউ এটিএম কামালের পক্ষ নেন। আর মনে মনে ‘মন কলা’ খান আওয়ামীলীগের শক্তিশালী প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর সমর্থকরা। তারা ধরেই নেন, সাখাওয়াত হোসেন খান বা এটিএম কামাল যিনিই প্রার্থী হন না কেন, আইভীর তুলনায় তারা অত্যন্ত দুর্বল প্রার্থী। কিন্তু তারা টের পাননি পর্দার আড়ালে অন্য খেলা অপেক্ষা করছে। হিন্দি ছবির সেই ডায়ালগের মতো‘ পিকচার আবি বি বাকি হ্যায় মেরি ভাই’। ৫ ডিসেম্বর সাখাওয়াত হোসেন খান ও এটিএম কামাল মনোনয়ন কেনার কয়েকদিন পরই হঠাৎ আলোচনায় আসে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার প্রার্থী হচ্ছেন। বিষয়টিকে নেগেটিভ-পজেটিভ দুইভাবেই নেয় বিএনপির একটি অংশ। তবে আইভী সমর্থকরা প্রচার করেন ওসমান পরিবারের ইন্দনে মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন তৈমূর আলম। শুরু হয় তাদের পরোচনায় তৈমুরকে নিয়ে মুখরোচক নানা কথা। এই যখন অবস্থা তখন আকষ্মিকভাবে ১২ ডিসেম্বর বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে মেয়র পদে মনোনয়ন পত্র কিনেন তার সমর্থকরা। এবার ভিন্ন আলোচনা ঢালপালা ছড়াতে থাকে। বলাবলি হয়, ওসমান পরিবার যদি তৈমুরকে মাঠে নামিয়ে থাকেন তাহলে কাউন্টার হিসেবে আইভী শিবির গিয়াস উদ্দিনকে মাঠে নামিয়েছে। এমন আলোচনা সমালোচনার মধ্যে ১৩ ডিসেম্বর তৈমুর আলম খন্দকার নিজে গিয়ে মনোনয়নপত্র কিনেন। এবার চায়ের টেবিলের আলোচনা অভিজাত রেস্তোরায় উঠে আসে। নগরীতে চাউর হয়ে যায় গিয়াস উদ্দিন মনোনয়ন পত্র কিনলেও তিনি আইভীর প্রতিপক্ষ হবেন না। তারপরও কথা আছে, ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নাই’। চেয়ারের লোভ রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে থাকাটাই স্বাভাবিক। আর না থাকাটা অস্বাভাবিক। গত ১৫ ডিসেম্বর মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। ফলে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। বিএনপির চারজন মনোনয়ন পত্র জমা দিলে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কে হচ্ছেন বিএনপি ঘরোনার চুড়ান্ত প্রার্থী। চুলচেরা বিশ্লেষন স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে। কিন্তু গল্পের প্রথম অংশের পরিসমাপ্তি ঘটে ১৫ ডিসেম্বর। নাটকীয়ভাবে বিএনপির তিন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দেননি ওইদিন। পরিস্কার হয়ে যায় তৈমুর আলম খন্দকারই বিএনপির লেভাসে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী। মুষড়ে যায় আইভী শিবির। চিন্তার ভাজ তাদের কপালে। এবার শুরু হয় তৈমুরকে নিয়ে নতুন আলোচনা আইভী শিবিরে। তারা প্রচার করে যেখানে বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচনে যাবে না সেখানে তৈমূর আলম খন্দকার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করছেন। তাকে দল বহিস্কার করবে। তাছাড়া তৈমুর আলম ২০১১ সালের মতো আবারও বসে পড়বে। বা তাকে বসিয়ে দেয়া হবে। এমন আলোচনা যখন তুঙ্গে। তখন ২৫ ডিসেম্বর তৈমূর আলম খন্দকারকে জেলা বিএনপির আহবায়কের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে এক নাম্বার যুগ্ম আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবিকে ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক করা হয়। ২৬ ডিসেম্বর খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বুঝে হোক আর না বুঝে হোক বিএনপির একটি অংশের নেতাদের মধ্যে কেউ খুশি হন কেউ হতাশ হন। আইভী সমর্থিত বিএনপির নেতারা বেশী খুশি হন। আইভী শিবির প্রচার করেন কি দরকার ছিল, এখন তো তৈমূর আলম জেলা বিএনপির পদ হারালেন। সামনে হয়তো দল থেকে বহিস্কারও হবেন। আইভী সমর্থিতরা প্রহর গুনছেন তৈমুর আলমের বহিস্কারাদেশ কখন আসে। তাদের অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে। কিন্তু অপেক্ষার পরিসমান্তি যে এমন হবে তারা কল্পনাও করতে পারেনি। বুঝতে পারা তো দুরের কথা। তৈমূর আলমকে বহিস্কার তো ভিন্ন জগতের বার্তা। উল্টো তাকে দলীয়ভাবে সমর্থন দেয়া হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের মোবাইলে ফোন করে জানিয়ে দেন, ‘তৈমুর সাহেব জনগণের দাবির মুখে, পরিবেশ পরিস্থিতিতে প্রার্থী হয়ে গেছেন। তিনি এখন জনতার প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বিজয়ী হলে জনতার বিজয় হবে। তিনি ব্যর্থ হলে কিন্তু সরকার বলবে বিএনপির একজন নেতা স্বতন্ত্র নির্বাচন করে পরাজয় বরণ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে আপনারা বিবেক বিবেচনা করে যা ভালো মনে হয় করবেন। আপনাদের যার যার অবস্থান থেকে আপনারা আপনাদের কর্তব্য ঠিক করে নেবেন’। মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যের সিদ্ধিরগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকারের গণসংযোগে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে। দ্রুত পাল্টে যায় নির্বাচনী মাঠে দৃশ্যপট। এই খবরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মতো ঝাটকা লাগে আইভী শিবিরে। হতবাক আইভী। পর্দার আড়ালে বিএনপির এমন চাল অপেক্ষা করছে যা তারা ঘুর্ণাক্ষরেও টের পায়নি। আর পাবেই বা কিভাবে? আইভী সমর্থিত বিএনপি নেতাদেরও ঘুমে রেখেছে বিএনপির হাইকামান্ড। ফলে বিএনপির ভেতরের অবস্থা জানতে পারেনি আইভী শিবির। যদি কিছুটা হলেও টের পেতে তাহলে ২৬ ডিসেম্বর যখন প্রকাশ হলো তৈমূর কে জেলা বিএনপির আহবায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আসলে সেটা ছিল বিএনপির আরেক কৌশল। কারণ তৈমুর নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। দলকে তখন সময় দিতে পারবেন না। তাকে চাপ মুক্ত রাখতে নির্বাচনকালীন সময়ে মনিরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়। সোজা অংকটা বুঝতে অনেক সময় লেগেছে প্রতিপক্ষ শিবিরের। তবে সামনে আরও নাটকীয়তা রয়েছে যার প্রমান ১৩ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর সকল ১১টার পেক্ষাপট।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *