আজ: শনিবার | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২রা সফর, ১৪৪২ হিজরি | রাত ১০:৩৬

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

বিএনপির হাতে আ’লীগের কর্মীরা মার খাচ্ছে

ডান্ডিবার্তা | ১০ আগস্ট, ২০২০ | ১১:০৯

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম বলেন, বিগত সময়ে যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেখানেই আমাদের উপস্থিতি ছিল। মাঠ পর্যায়ে মোশারফ ভাই (উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান) ছিলেন। আমি সব সময় ছিলাম। যখন যেখানে যে ঘটনা ঘটেছে সেখানে আমাদের উপস্থিতি ছিলাম। অতীতে প্রত্যেকটা সরকারের সময় আমরা কাজ করেছি। কিন্তু আজকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্য সোনারগাঁ আওয়ামীলীগে, আজকে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায়, একটানা তিন টার্ম (মেয়াদে) আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায়। অথচ জায়গায় জায়গায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা মার খাচ্ছে। কথা বলার কেউ নাই। তাদেরকে শান্তনা দেয়ার কোন লোক নাই। থানায় মামলা হয়না। আওয়ামীলীগের লোক মাইর খায়। বিএনপির লোকের হাতে মাইর খায়। আজকে বিএনপির নামধারীরা তাদের সেফ করার জন্য জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছে। জাতীয় পার্টির রুপ ধারণ করে তারা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করছে। আমদের নেতৃত্ব দেয়ার মত কেউ নাই। আজকে যারা কথা বলে, যারা আওয়ামীলীগ নাম বিক্রি করতে চায়। আজকে একটা কথা বলি খুব কষ্টের থেকে একটা কথা বলি, আমাকে গত কয়েকদিন থানা আওয়ামীলীগের ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অনেক নেতৃবৃন্দ ফোন দিয়েছে। অনেক কষ্টের কথা বলেছে। মোশারফ ভাই সকলের মুরুব্বি হিসেবে উপজেলার মুরুব্বি হিসেবে সকলকে আহবান করেছে। গত শনিবার বিকেলে মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি সভায় তিনি এ কথা বলেন। কালাম আরো বলেন, আজকে ওনারা কি একবার চিন্তা করেনা কিসের আহবায়ক কমিটি। কাদের কথায় এখানে অনেকে আসে নাই। উনাদের কথায় আপনারা যদি না আসেন আপনার তো সবাই সাবেক হয়ে গেলেন। আপনাদের দাম কোথায়? সোনারগাঁয়ে কি মাত্র ৬-৭ জন লোক আওয়ামীলীগ করে। যারা জীবনেও জয় বাংলা বলে নাই, যারা রাজাকার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে, যারা যুদ্ধপরাধী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেছে তারা আওয়ামীলীগের নাম বিক্রি করতে চায়। আর তাদের নেতৃত্বে কি আপনারা আওয়ামীলীগ করবেন। তাহলে আপনাদের নেতৃত্ব থাকে কোথায়। আপনারা কিন্তু সবাই সাবেক হয়ে গেলেন। একটু চিন্তা করেন তারপর রাজনীতিটা মাঠে করেন। কেউ না আসলে কিছু করার নাই। আমরা কিন্তু মাঠে থাকবো। আওয়ামীলীগ এই সোনারগাঁয়ে আমরাই করবো। কিসের আহবায়ক কমিটি। আহবায়ক কমিটি নামে কমিটি নাই। সম্মেলনের আগে যখন সাংগঠনিক সম্পাদক নওফেল সাহেব ছিলেন (মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল) তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সেক্রেটারীকে ডেকে আমাকে ডেকে স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছিল, সাবেক কমিটি বহাল থাকবে এই কমিটির কোন অস্তিত্ব নেই। তার পরে আর কোন আহবায়ক কমিটি থাকতে পারেনা। আওয়ামীলীগের একটা গঠনতন্ত্র আছে। হঠাৎ করে কেউ একটা মুখের কথা বলে দিলে আওয়ামীলীগের কমিটি ভেঙে যাবে এটা বিশ্বাস করিনা। অতীতে অনেক দেখেছি। যদি আমাদের শক্তি থাকে। সোনারগাঁয়ে যদি আমরা শক্তি সঞ্চার করতে পারি। কিসের কমিটি, কিসের আহবায়ক কমিটি। তিনি আরো বলেন, অনেক বেশি ষড়যন্ত্র হয়েছে। অলীপুরার মাঠে অনেক বড় বড় নেতারা সম্মেলন করতে এসেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫ জন এমপি সেখানে উপস্থিত ছিল। আমরা সেদিন কেউ কোন নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলনা। এই ইছহাক ভাইয়ের নেতৃত্বে আমি কালাম সেদিন মিটিং করে দেখিয়ে দিয়েছি সোনারগাঁ আওয়ামীলীগ কারা করে। সেদিন লোক সংখ্যা বেশি থাকলে আজকে কিন্তু তাদের অস্তিত্ব নাই। তারা ভেসে গেছে। সেদিন ৯০ মিনিট বক্তব্য রেখেছিলাম। ওনাদের নেতারা একে একে সবাই বক্তব্য দিয়েছিল আর আমি একা বক্তব্য দিয়েছি। সেদিন তারা কয়েক হাজার লোক ছিল আর আমরা ছিলাম মাত্র কয়েকশ। আর সেই কয়েকশ থেকেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমরা ৮৫ হাজার ভোট বেশি পেয়ে সোনারগাঁয়ে নির্বাচিত হয়েছিলাম। সেই কথা সোনারগাঁও আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানে। আজকে চুন্নু ভাই কান্নাকাটি করে, আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা মাইর খায়। আর বিএনপি যারা করে তারাও আওয়ামীলীগের লোকজনদের মারে। থানায় মামলা করতে পারিনা। এরকম সোনারগায়ের প্রত্যেকটা এলাকায়। তিনি বলেন, আজকে সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা বলে, সহযোগি কোন সংগঠনকে দাওয়াত করা হয়না। অথচ ১৫ আগস্টের শোক এটা আমাদের পৈত্রিক অধিকার। এতো বড় ঔদ্ধত্য কোথা থেকে পায়। এটার জবাব দিতে হবে। অতীতে আগস্টের প্রস্তুতি সভায় আওয়ামীলীগের সকল সহযোগি সংগঠনকে দাওয়াত করা হয়েছে। কিন্তু আজকে নেতাকর্মীরা বললো তাদেরকে দাওয়াত করা হয় নাই। আজকে মনে রাখবেন এই ষড়যন্ত্রের কথা আমি বলি এটা কোন ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্র হচ্ছে আওয়ামীলীগকে সোনারগাঁয়ে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্র যারা শুধুমাত্র ওই জাতীয় পার্টির মিটিং করতে যায় সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগের। ৭ জন যারা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটিতে দিয়েছে তাদের পারবিারিক ঐহিত্য দেখেন, তাদের ব্যক্তিগত ঐতিহ্য দেখেন তারা কারা। আর আপনার যারা ৫০ বছর, ৪০ বছর, ৩০ বছর ধরে রাজনীতি করছেন তাদেরকে মাইনাস করে রাজনীতি করতে চায়। আজকে সেই আওয়ামীলীগের কথা শুনে আপনারা এখানে আসেন নাই। আসবেন, আপনারাও আসবেন। আমাদের সাথে আসবেন। আমরাই নেতৃত্ব দিব, ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, মোশারফ ভাই মুরুব্বি আর কায়সার সাহেব আছেন। আমি আবারো অনুরোধ করবো আগস্ট মাসের পরে সোনারগাঁও আওয়ামীলীগকে প্রত্যেকটা ইউনিয়নে ইউনিয়নে সফল করি। ইনশাআল্লাহ কোন কিছু থাকবেনা। সব নদীর জলের মত ভেসে যাবে। যারা আমাদের লোক ছিল মিছ গাইডেড হচ্ছেন তারা আবার কিন্তু আমাদের সাথে চলে আসবে। এটাই সত্য এটাই বাস্তবতা। আগস্ট মাসের পরে আমরা আমাদের রাজনীতিক কর্মকান্ড ঐক্যবদ্ধভাবে শুরু করবো। আগস্ট মাস শোকের মাস এই মাসের পরে আমরা নেতৃবৃন্দরা বসে পরিকল্পনা করে শুরু করবো। উল্লেখ্য, সোনারগাঁয়ের আহবায়ক কমিটি নিয়ে এর আগে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে। এতে আলোচনা সমালোচনায় সোনারগাঁয়ের আওয়ামীলীগ বেশ আলোচিত হয়েছে। মূলত আহবায়ক কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ জুলাই সোনারাগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের চলমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহবায়ক কমিটির ঘোষণা করা হয়। সেখানে আহবায়ক কমিটিতে সামসুল ইসলাম ভূইয়া আহবায়ক এবং সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়। একই সাথে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামকে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। সেই থেকে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এভাবে একের পর এক বক্তব্য আর বিবৃতির মাধ্যমে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ একে অপরের বিরুদ্ধে কাঁদা ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত হয়েছেন। অথচ এদের কাউকেই সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কারও কোনো সহযোগিতা এগিয়ে আসেননি। কিন্তু বক্তব্য দেয়ার সময় এরাই নেতাকর্মীদের সবচেয়ে কাছের মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *