আজ: মঙ্গলবার | ২রা জুন, ২০২০ ইং | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১০ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী | বিকাল ৩:২৯

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

বিতর্কিতদের নিয়ে বিপাকে আ’লীগ

ডান্ডিবার্তা | ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৩:২২

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আস্থা বাজন ও দলের আর্ম গার্ড বলা হয় ছাত্রলীগকে। জাতির পিতার হাতে গড়া শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির পতাকাবাহী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সংগ্রাম সাফল্যে এই সংগঠনের আছে অনবদ্য ভূমিকা। সারা বাংলাদেশের মতো করে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অনেক শুনাম ধন্য নেতা ও সাংসদ সদস্য এই ছাত্রলীগ নেতৃত্ব থেকে আজ নিজেদের স্থান শুনামের সাথে আগরে দরে রেখেছেন। যা বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে পরীক্ষীত নেতা হয়ে দলের অন্যন্যা সিনিয়র নেতাদের কাছে বেশ পরিচিত। আর এই সময়ে প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার আসামি, মামলার বরাত দিয়ে রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রফিকুল হক জানান, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারী বাড়ি ফেরার পথে গন্ধর্বপুর বাস স্ট্যান্ডের সামনে থেকে সোহান, তৌসিব ও তার বন্ধু আফজাল স্কুল শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেন। পরে রূপসী এলাকার একটি বাড়িতে দুইদিন আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। শনিবার ভোরে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় ওই শিক্ষার্থীকে ফেলে পালিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে তিন জনের নাম উল্লেখ ও দুই জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। ওইদিনই অভিযান চালিয়ে তৌসিব ও আফজালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই দিন ছাত্রলীগ নেতা সোহানকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। পরে গত ১৩ জানুয়ারী তারাবো পৌরসভা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আবু সুফিয়ান সোহানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিস্কার করা হয় বলে জানান রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আলম শিকদার। এই দিকে ৩ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বাস কন্ডাক্টরকে মারধর করে দাঁত ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত বাস কন্ডাক্টর আবুল মিয়া বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুস্মিতসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মামলা করেন। গত সোমবার মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল আবেদীন টুলু ও তার স্ত্রীকে মারধর করেছেন তাদেরই ছেলে ছাত্রলীগ নেতা ফাহাদ। মাদক সেবনের টাকা না দেয়ায় ছেলে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ আহত মুক্তিযোদ্ধার। গত সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে শহরের খানপুর ব্রাঞ্চ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফাহাদ এক সময় মহানগর ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল বলে জানা যায়। গত মঙ্গলবার পৃথক দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতারা বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের সুনামকে নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে অপ-প্রচার চালানো হয় আমরা নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগ পরিবার এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নাম ও কোন ব্যক্তিবর্গের নাম ব্যবহার করে কোনো ছাত্র নেতা অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করলে তাকে কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসমাইল রাফেল ও মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দু। ফতুল্লায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর ধর্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগ নেতা আনিছুর রহমান শ্যামলকে দল থেকে সাময়িক ভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। আনিছুর রহমান শ্যামল ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়ন যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন। তাকে যুবলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। জানা যায়, বহিস্কার আদেশে বলা হয়, ফতুল্লার কাশিপুরে এক কিশোরীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষককে বাঁচাতে ঘটনাটি মিমাংসা করার কথা বলে কিশোরীসহ তার মাকে শ্যামলের অফিসে ঢেকে নিয়ে যায়। আর সেখানে মিমাংসার নামে ধর্ষককে বাঁচাতে কিশোরীর মাকে হুমকি ধামকি দিয়ে ধর্ষককে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। পুলিশের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও মারধরের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনিরকে আটক করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় থানার ভেতরে একজন কনস্টেবলের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও মারধরের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। পরে ওই সময়ে ফাতেমা মনি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও থানায় এসে টএ ধরনের কোন ঘটনা না বলে মুচলেকা দেন। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের এক প্রবিন নেতা নাম প্রকাশে অনচ্ছা শর্তে বলেন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ বাংলাদেশের শুনাম ধন্য সংগঠন। এখানে দলের শীর্ষনেতাদের অবশ্যই নজর দিতে হবে। এর আগেও নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাএলীগের পূর্ণাগ্য কমিটি হয়েছিলো, তখন তো এমনটি ঘটেনি। এই সংগঠনকে নেতাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যারা এই ধরনের জগন্য অপরাধের সাথে পিছনে কারা আছে, আরা যারা এই ধরনের অপরাধের সাথে জরিত থাকবে তাদের শুধু বহিস্কার করলে তো সংষধোন হবে না, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে যাতে করে কেউ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম না করতে পারে। আর ছাত্রলীগ নেতাদের প্রতিটি কর্মীদের প্রতি অবশ্যই খবর নিতে হবে, ভালো একটা সম্পর্ক তৈরী করতে হবে, চিনতে জানতে হবে। বর্তমানে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ নেতারা শুসজ্জিত অতন্ত মেধাবী তারা কর্মীদের মেধা যাচাই করে হয়তো খুব দ্রুত সংগঠনকে থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ে শুসজ্জিত করে তুলতে পারবে। এবং দলের শীর্ষ নেতাদের এই দিকেও খেয়াল দিতে হবে, যাতে দলের কোন নেতা-নেত্রীর অপরাদ করে পার পেয়ে যাবে আর এর খেসারত দিতে হবে দলের শীর্ষ নেতাদের এমন যাতে না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *