Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

বিদেশ যাওয়া হলো না ফেরদৌসের

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 38 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট বেকার বইসা থাকবো চিন্তা কইরা তিন-চার মাস ধরে মিশুক চালাইতো। কথা ছিল সৌদি গিয়ে চাকরি নিয়ে পরিবারের হাল ধরবেন। সেজন্য পাসপোর্ট-ভিসার কাজও সম্পন্ন ছিল। একমাসের মধ্যেই দেশ ছাড়ার কথা। তা আর হয়নি। রাতে নিখোঁজ থাকার পর সকালে মিলেছে গলাকাটা মরদেহ। গতকাল সোমবার সকাল নয়টার দিকে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কান্দিপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে ফসলি জমি থেকে মো. ফেরদৌস (২২) নামে এক তরুণ মিশুকচালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মো. ফেরদৌস (২২) একই ইউনিয়নের শুভকরদি জাহাঙ্গীরনগর এলাকার নজরুল ইসলাম ছেলে। নিহতের চাচা মো. মাসুদ বলেন, রোববার সন্ধ্যার পর মিশুক নিয়ে বের হয় ফেরদৌস। রাত নয়টায় পরিবারের লোকজনের সাথে মুঠোফোনে সর্বশেষ কথা হয়। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। রাত বারোটার পর থেকে মুঠোফোনের নম্বরে কল করে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। কোথায়ও খোঁজ না পেয়ে ওই রাতেই থানায় যায় পরিবারের লোকজন। সকালে লাশের খবর পান তারা। পরিবারের লোকজন জানান, তিন ভাইবোনের মধ্যে ফেরদৌস বড় ছিল। বাবা একসময় বন্দরের সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে নৌকা চালালেও গত দুই বছর যাবৎ কলাগাছিয়া বাজারে পিঠা বিক্রি করেন। পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতিতে সৌদি যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল ফেরদৌসের। চাচা মাসুদ বলেন, “পাসপোর্ট ও ভিসাও হয়ে গেছিল। মাসখানেক মধ্যে সৌদি যাওয়ার কথা। দেশে বেকার বইসা থাকবো এই চিন্তা কইরা তিন-চার মাস যাবৎ ভাড়ায় মিশুক চালাইতো। এর মধ্যেই লাশ হইয়া গেল, বিদেশ যাওয়া আর হইলো না।” একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় ফেরদৌসের মা রুনা বেগম। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ঘিরে থাকার কারণে ছেলের লাশ দেখতে পাচ্ছিলেন না তিনি। বুক চাপড়ে কাঁদতে কাঁদতে রুনা বলেন, ‘আমি চউখ্যে কিছু দেখতাছি না। আমার কালামানিকরে দেখতে পারতেছি না। আমার কালামানিকরে দেখতে দেও। আল্লাহ আমার কালামানিকরে ফিরাইয়া দেও।’ বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, নিহতের গলা বাজেভাবে কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সন্ধ্যায় মিশুক নিয়ে বের হওয়ার পর আর বাড়িতে ফেরেনি বলে জানিয়েছে পরিবারের লোকজন। ব্যাটারিচারিত রিকশাটি (মিশুক) ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই এই খুন হয়েছে বলে ধারণা করছি। এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *