Home » শেষের পাতা » মেয়াদি সুদের ফাঁদে জিম্মি হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠী

বিলুপ্তির পথে মহানগর বিএনপি!

২৬ জানুয়ারি, ২০২২ | ৯:০০ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 110 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

যে কোন সময় বিলপ্তির ঘোষণা আসতে পারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটির। ইতোমধ্যে মহানগরের ত্যাগী আন্দোলন করা নেতা এটিএম কামালকে মহানগরের সেক্রেটারীসহ সকল পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে মহানগরের কমিটির মেয়াদও শেষের দিকে। ফলে আগামীতে নতুন করে কমিটি নিয়ে ভাবা হচ্ছে। এবারের কমিটি নিয়ে বেশ কিছু সমীকরণ রয়েছে। তার মধ্যে কমিটিতে সভাপতি ও সেক্রেটারী পদে সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, সাখাওয়াত হোসেন খান, আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের নাম শুনা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি পক্ষ চাচ্ছে গিয়াসউদ্দিনকে সভাপতি করতে। কিন্তু তিনি এখনো এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানায়নি। তিনি রাজী না হলে সাখাওয়াত হোসেন পরবর্তী সভাপতি এটা প্রায় নিশ্চিত। বিপরীতে সেক্রেটারী পদে আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদও এগিয়ে রয়েছেন।

এদিকে সবশেষ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর বিএনপির অনেক নেতাই প্রকাশ্য ও গোপনে তৈমূর আলম খন্দকারের পক্ষে কাজ করেছেন। যুগ্ম সম্পাদক আবদুর সবুর খান সেন্টু, সহ সভাপতি ফখরুল ইসলাম মজনু, আতাউর রহমান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অংশ নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও এটিএম কামাল। দলের সকল পদ থেকে দুইজনকে বহিস্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে তৈমূর আলম খন্দকারকে এর আগেই বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহবায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। গত ১৬ জানুয়ারী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের শুরুতে তৈমূরের সঙ্গ দিলেও এটিএম কামালকে ভোটের দুইদিন পর বহিস্কার করা হলো। গত ১৮ জানুয়ারী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির গঠনতন্ত্র মোতাবেক দলের প্রাথমিক সদস্য পদ সহ সকল পদ থেকে নির্দেশনাক্রমে বহিষ্কার করা হল। নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র দাখিলের পরপরেই জেলা বিএনপির আহবায়ক পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় তৈমূর আলম খন্দকারকে। ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের দায়িত্ব দেয়া হয় মনিরুল ইসলাম রবিকে। সবশেষ গত ৩ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পদ থেকেও প্রত্যাহার করা হয় তৈমূর আলম খন্দকারকে। সেদিন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে তৈমূর আলম খন্দকারকে জানানো হয়, ‘মাননীয় চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য পদ থেকে আপনাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অবিলম্বে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে। ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী সদর-বন্দর আসনের সাবেক তিনবারের এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে সভাপতি ও বিলুপ্ত নগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামালকে সাধারন সম্পাদক করে মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মহানগরেরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলে নেতাকর্মীদের আপত্তির ভিত্তিতে সেই কমিটি স্তগিত হয়ে যায়। এরপর সেই কমিটিতে অনেক যোজন বিয়োজন করে ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর বুধবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর স্বাক্ষরিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার দুই সপ্তাহ পরেই ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ শিউলী রানী দাসের আদালতে মহানগরের ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলজার খান ও একই ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (পৌরসভাকালীন) বিএনপি নেতা নূর আলম শিকদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আর এ দুইজনই মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুগামী হিসেবে পরিচিত। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে। এই মামলার প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটির র্কার্যক্রমে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত। ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর বাদী পক্ষের আইনজীবীদের অন্তবর্তীকালী নিষেধাজ্ঞা আবেদনের প্রেক্ষিতে বেলা ১১ টায় একদফা এবং দুপরে আরেক দফা সহ মোট দুই দফায় শুনানী শেষে বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ শিউলী রানী দাসের আদালত এই আদেশ দেন। পরে সেটা খারিজ হয়। বহিষ্কারের পর সার্বিক বিষয় নিয়ে সঙ্গে কথা বলেন এটিএম কামাল। তিনি বলেন, অবশ্যই দল ক্ষমতা রাখে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার। তবে অপরাধটা এত বড় ছিল না যে কঠিন শাস্তি আমাদেরকে দেওয়া হবে। লঘু পাপে গুরুদ-ের মতো মনে হচ্ছে। বহিষ্কারের আগে শোকজও করেনি। এখন পর্যন্ত চিঠিও পাইনি। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার তো একটা দরকার ছিল। এটা দিলে ভালো হতো, সুন্দর হতো। কামাল বলেন, যে দলটার জন্য নিজের জীবন শেষ করেছি। অনেকবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি, অনেকবার কারাগারে গিয়েছি। শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গে অনেক ক্ষত আছে সেগুলো এই দলের জন্যই। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণে সেখানে আজকে দল যেভাবে ছুড়ে ফেলে দিল, সেখানে আর আমার দলের কাছে কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই। তবে আমি দলের সমর্থক হিসাবে থাকব। কিন্তু আর সক্রিভাবে রাজনীতি করার মতো মানসিক অবস্থা নেই। এটিএম কামাল বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না-এটা দলের সিদ্ধান্ত ছিল। দলের নির্দেশনার বাইরেই আমরা নির্বাচনটা করেছি, এটা ঠিক। তবে কেন করলাম তাও কেন্দ্রকে খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। প্রথমত স্থানীয় জনগণের একটা চাহিদা ছিল অন্তত নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে ভালো প্রার্থী নির্বাচন করুক। না হলে তো একতরফা নির্বাচন হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, দেশের অনেক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা দেখেছি দলের পদ-পদবি আছে এমন অনেকে নির্বাচন করে জয়ীও হয়েছেন। যেমন গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মেয়র হয়েছেন তিনি দলের একটা বড় পদে আছেন। যেখানে দল কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। কেন্দ্রের অনেক নেতার ভাষ্য আমরা দেখেছি, দল নির্বাচনে যাচ্ছে না, কিন্তু স্বতন্ত্রভাবে যদি কেউ নির্বাচনে অংশ নেয় সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করলে দল সেভাবে গুরুত্ব সহকারে নেবে না। মূলত এ কারণেই নাসিক নির্বাচনে আমরা ভূমিকা রেখেছিলাম। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করবেন কিনা জানিয়ে তিনি বলেন, অন্য কোনো দলে যাওয়ার কোনো চিন্তাই করি না। কারণ পারিবারিকভাবেই বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শহিদ জিয়ার সততা এবং স্বাধীনতার ঘোষণা এমনভাবে আমাদের রক্তের সঙ্গে মিশে আছে যে, এই দলের বাইরে কোনো কিছু চিন্তা করার সুযোগ নেই। তারেক রহমানকে ভালোবাসি, খালেদা জিয়া ও শহিদ জিয়াকে ভালোবাসি-এই ভালোবাসা নিয়েই সারা জীবন থাকতে চাই। এটিএম কামাল বলেন, দুই যুগ পর্যন্ত এই দলের রাজনীতি করি। আমারা মা শাহানা খানম চৌধুরী বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন। জাগোদল থেকে এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। মা এখন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *