আজ: সোমবার | ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২২শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী | রাত ১১:২২

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাবে পর্যটন খাতে ধস

ডান্ডিবার্তা | ১৭ জুন, ২০২০ | ২:০৮

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসে বিপর্যয় নেমে এসেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ব্যবসায়। করোনা ভাইরাসের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো বিশ্ব। অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ব পর্যটন। করোনার কারণে লন্ডন, প্যারিস, নিউইয়র্ক থেকে শুরু করে অনেক দেশেই হোটেল, রেস্তোরাঁ, বিমান পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে, বৈশ্বিক মন্দা শুরু হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে অর্থনীতিবিদরা। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলায় পর্যটনে ক্ষতি হয়েছিল ৭৭০ কোটি মার্কিন ডলার, অন্যদিকে ২০০২ সালে সার্স ভাইরাসের প্রভাবে এই খাতে ক্ষতি হয়েছিল ৮২০ কোটি ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২০ সালে করোনা ভাইরাসের কারণে ৩ হাজার কোটি ডলারের লোকসান হতে পারে। ২০১৯ সালে ৮৪০ কোটি মানুষ বিশ্ব ভ্রমণ করেছে। স্পেনে ভ্রমণ করেছে ১ কোটি ৮০ লাখ, চীনে ১৪ কোটি ৩০ লাখ ও ভারতে প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ। করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী হোটেল, রেস্তোরাঁ ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে হোটেল বুকিং প্রায় শতভাগ কমেছে। কানাডাতে এ সময় হোটেল বুকিং কমেছে ৯৪ শতাংশ, ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে কমেছে ৯০ শতাংশ, আয়ারল্যান্ডে ৮৬, যুক্তরাষ্ট্রে ৮৪ এবং যুক্তরাজ্যে ৮২ শতাংশ।
করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী অসংখ্য মানুষ ভ্রমণ স্থগিত রেখেছে। পর্যটন খাত বড় ধরনের বিপদে আছে। মানুষ সফর কম করছে বলে অনেক এয়ারলাইনস এখন আর আকাশে উড়ছে না। বিমান পরিবহনে চীন, হংকং ও তাইওয়ান সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে। অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা কান্তাস এয়ারলাইনস জানিয়েছে, করোনা সংকটে এই আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ভাগে তাদের কর-পূর্ব মুনাফা দশ কোটি মার্কিন ডলার কম হতে পারে। এছাড়া এয়ার ফ্রান্স- কেএলএম জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসের কারণে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে তাদের আয় ২১ কোটি ৬০ লাখ ডলার কমে যাবে।
এ বিষয়ে আইএটিএর মহাপরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আলেকজাঁদ্র দ্য জুনিয়াক বলেন, কোভিড-১৯-এর (করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট রোগ) কারণে চাহিদার তীব্র মন্দায় বিমান সংস্থাগুলোতে- বিশেষ করে চীনা বাজারের সংস্পর্শে আসাদের ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব পড়বে। ২০২০ সাল এয়ারলাইনগুলোর জন্য ‘খুব কঠিন একটি বছর’ হতে চলেছে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *