আজ: মঙ্গলবার | ১১ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি | সকাল ৬:৪৪

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

বিসিকে ঝুট সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া

ডান্ডিবার্তা | ১২ জুলাই, ২০২০ | ৩:৫৪

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন গার্মেন্টস মালিকরা। কেননা লকডাউনে গার্মেন্টস বন্ধ থাকলেও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতন দিয়েছেন মালিক পক্ষ। গার্মেন্টসের পন্য রপ্তানী না হওয়ায় মালিক পক্ষ রয়েছেন বিপাকে। তবে বর্তমানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গার্মেন্টস চালু করা হয়েছে। আর গার্মেন্টস মালিকদের এই দু:সময়েও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ঝুট সন্ত্রাসীরা। ধীরে ধীরে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে দেশের নীট সেক্টরের প্রধান কেন্দ্র ফতুল্লার বিসিক নগরীর ঝুট সন্ত্রাসীরা। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বিসিকের ছোট-বড় প্রায় সাড়ে ৮শতাধিক গার্মেন্টস দাবড়ে বেড়ানো এসব সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অনেকটা জিম্মি হয়ে পরেছেন শিল্প মালিকরা। ফতুল্লার বিসিক পল্লীর বিশাল ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রনে সক্রিয় রয়েছে কমপক্ষে ১৫টি সন্ত্রাসী গ্রুপের কয়েকশ সন্ত্রাসী। যখন যে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসে এসব সন্ত্রাসী গ্রুপ তখন সেই সরকারের ছত্রছায়ায় ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রনে রাখে। তবে টানা তৃতীয়বার আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির কতিপয় সন্ত্রাসীরা সমন্বয় করেই ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রন করছে। আর এসব সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের সেক্টর নিয়ন্ত্রন রাখতে ব্যবহার করছে বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ঝুট সন্ত্রাসীদের ভাগের টাকা রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, বিশেষ পেশার লোকজন, পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে তথাকথিত শ্রমিকনেতাদের ঝুলিতেও নিয়মিত চলে যায়। অপর একটি সূত্রে জানাগেছে, বিসিক শিল্পনগরীর ঝুট ব্যবসার সঙ্গে দেড় শতাধিক লোক জড়িত। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীই বেশি। আওয়ামী লীগের লোকজনের পাশাপাশি একাধিক গার্মেন্টের ঝুট নেয় বিএনপিপন্থী নেতা-কর্মীরাও। এছাড়া প্রায় সময়ই ক্ষমতাসীন দলের একাধিক সিন্ডিকেট বিসিকের ঝুট সেক্টরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পওে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানাগেছে। বিসিক পল্লীর বর্তমান মুকুটহীন স¤্রাটের নামে খ্যাত এক সন্ত্রাসী এখানকার প্রায় ৮০টি বড় গার্মেন্টের ঝুট তার বিশাল বাহিনীর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। সে এতটাই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। এ ছাড়াও বিসিক ও আশপাশের এলাকায় যেসব সন্ত্রাসী দাবড়ে বেড়াচ্ছে। এদিকে, অভিযোগ রয়েছে ঝুটের সাথে থান কাপড়ও নিয়ে আসছে সন্ত্রাসীরা। এই করোনা পরিস্থিতিতে যা নিয়ে বিপাকে রয়েছেন মালিক পক্ষ। কিন্তু ঝামেলা এড়াতে এব্যাপারে তারা কিছুই বলতে চাইছেন না। অপরদিকে, রেললাইন বটতলা, কাঠেরপুল, পিঠালীপুল এলাকার ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করছে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছা সেবক লীগের ক’জন নেতা। এদের মধ্যে কাঠেরপুলে আজমত ওরুফে ম্যাকগাইভার আজমতের শেল্টারে প্রায় অর্থশত ঝুট সন্ত্রাসী সক্রিয় রয়েছে। তবে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকার ঝুট সেক্টরের প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে থানা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *