আজ: রবিবার | ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি | সকাল ৭:৫৫

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

বেকায়দায় নারায়ণগঞ্জ জাপা!

ডান্ডিবার্তা | ২১ নভেম্বর, ২০২০ | ৭:৪১

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
দীর্ঘদীন ধরে নীরব থাকার পর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি আবারো উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। ক্ষমতায় থাকা জাপা এবং জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের মাঝে বিরাজ করছে এ উত্তেজনা। মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নামফলক ভেঙে ফেলার ঘটনার পর থেকে জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের মাঝে প্রকাশ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে সর্বত্র। ইতিমধ্যে সোনারগাঁ আওয়ামীলীগ সেই আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকাকে সোনারগাঁয়ে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে। আওয়ামীলীগের জৈষ্ঠ্য নেতা আনোয়ার হোসেনের নামফলক ভেঙে ফেলার ঘটনা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছে না নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছে এমন অভিযোগ এনে সোনারগাঁ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোঁকার দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দাবি করেছে আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ। জেলার বিভিন্নস্থানে সভা সমাবেশের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ জাপার সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভাসহ প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার জন্য আল্টিমেটাম বেধে দিয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনায় নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির রাজনীতি অনেকটা চাপের মধ্যে রয়েছে। এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, সিনিয়র আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসেনের নামফলক ভাঙার সাথে জাপার সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। একটি কুচক্রী মহল স্বার্থ হাছিলের রাজনীতিতে মেতে উঠেছে বলেও অভিযোগ করা হয়। সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকারের চেষ্টা করছে বলেও বিবৃতিতে সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা দাবি করেন। তবে, আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসেনের নামফলক ভেঙে ফেলার ঘটনার পর থেকে দীর্ঘদীন ধরে চলে আসা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে দক্ষিন মেরুর দুই পক্ষের মধ্যে যে অঘোষিত দুরত্ব ছিল তা কমতে শুরু করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সিনিয়র আওয়ামীলীগের নেতাকে অপমানের বিষয়টিকে কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না জেলার নেতৃবৃন্দ। অতীতের সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে নামফলক ভেঙে ফেলার ঘটনার সাথে জড়িত সাংসদ খোকাকে দায়ি করে কার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সভা সমাবেশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিবৃতি প্রদান করে আসছে। অন্তত: এ ঘটনার মাধ্যমে অতীতের সকল দ্বন্দ্ব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধতার মাধ্যমে শক্তিশালী সংগঠন তৈরীর জন্য কাজ করবে এমনটাই আশা করছে দক্ষিণ মেরুর মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের মতে আনোয়ার-আইভীর মধ্যে যে দুরত্ব কাজ করছে তা কমে আসলে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের দক্ষিন মেরুর অবস্থান অনেকটাই শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার নির্দেশে সোনারগাঁ জি আর ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকের জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন এর নামফলক ভেঙ্গে ফেলার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। জাপার সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলা আওয়ামীলীগ কর্মসূচি পালন করছে। এমপি’র এহেন আচরনে সকল আওয়ামী পরিবার এর ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার এক প্রেস বিজ্ঞতিতে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান- নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, আরজু রহমান ভূইয়া, আলহাজ্ব আব্দুল কাদির, আদিনাথ বসু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-আলহাজ¦ জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব এ.কে,এম আবু সুফিয়ান, তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক খালিদ হাসান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ ইসহাক, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ নিজাম উদ্দিন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম কল্পনা, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রানু খন্দকারসহ অন্যান্য নেতৃবন্দ। তবে এখনো পর্যন্ত জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই জাপার সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবারও সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগ নেতা মাহফুজুর রহমান কালামের নেতৃত্বে সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *