Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

ভাঙ্গনের পথে মহানগর বিএনপি

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 77 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণার পর পরই ভাঙ্গতে শুরু করেছে। কমিটিতে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন কেহ না কেহ আহবায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করে বেরিয়ে যাচ্ছে। এতে করে বেকায়দায় পড়েছে মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি। বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতার অভিযোগ স্বরণকালের সবচেয়ে দুর্বল কমিটি দিয়েছে কেন্দ্র। যে কমিটির নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রাম সফল করা সম্ভব নয়। যদিও দলের কিছু নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ’র এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাধ জানিয়ে নতুন কমিটির সাথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু ক্ষুব্ধ নেতারা বলছেন, অযোগ্য, নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। যোগ্য ও ত্যাগীদের মূল্যায়ণ করা হয়নি। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য’র আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। আর এই কমিটিতে আহবায়ক হিসেবে অ্যাডভোকেট মো. শাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয় অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে। এছাড়া নব গঠিত এই কমিটিতে যুগ্ম আহবায়কের পদ পেয়েছেন ১০জন। তারা হলেন, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির, আ. সবুর খান সেন্টু, নুরুদ্দীন, আতাউর রহমান মুকুল, মনির হোসেন খান, আনোয়ার হোসেন অনু, ফাতেহ মো. রেজা রিপন, এম.এইচ মামুন ও আবু কাওসার আশা। এদিকে মহানগর বিএনপির ঘোষিত এই কমিটি নিয়ে দলের পদপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দসহ তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে মতপার্থক্য ও অসন্তোষ। এরই মধ্যে কমিটি ঘোষণা করার ওই দিনই এই কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন ২ জন। তার মধ্যে একজন বিএনপির মনোনীত সাবেক এমপি ও মহানগর বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি এডভোকেট আবুল কালাম এর ছেলে আবুল কাউসার আশা ও বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল। এ ঘটনার পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর কাছে খোলা চিঠি দিয়ে সদস্য ঘোষিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন মো. আমিনুর ইসলাম মিঠু। জানা যায়, এ ঘটনার রেস না কাটতেই  মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সদস্য সচিব পদে থাকা অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও সদস্য পদে থাকা অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানের মধ্যে উচ্চবাচ্যের ঘটনা ঘটেছে। উচ্চবাচ্য থেকে তারা একে অপরের প্রতি মারধরেরও উপক্রম হয়েছিলেন। সেই সাথে আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে উদ্দেশ্য করে আনোয়ার প্রধান ক্রমাগত অশ্লীল ভাষায় গালি গালাজও করেছেন। দলীয় সূত্র বলছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য’র যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে তাতে সদস্য পদে রাখা হয়েছে অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানকে। যা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই তিনি মারমুখী অবস্থানে রয়েছেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর কমিটির ঘোষণার দিনই নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় তার অনুসারীদের নিয়ে শোডাউন দিয়েছেন। জানা যায়, মহানগর বিএনপির কমিটিতে অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধানের অবনতিকে কেন্দ্র করে গত বুধবার বিকেলে নতুন কোর্ট এলাকার তার চেম্বারে অনুসারীদের নিয়ে সভা ডাকেন আনোয়ার প্রধান। আর সেই সভার খবর পেয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব পদে আসা অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু যান। সেই সাথে তিনি গিয়ে আনোয়ার প্রধানকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, তুই এগুলো কি শুরু করছস। আমাকে নাকি মারার জন্য খুঁজতাছস্ত এই কথা বলার সাথে সাথেই টিপুকে উদ্দেশ্য করে আনোয়ার প্রধান একের পর এক অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। টিপুকে উদ্দেশ্য তিনি বলেন, তুই একেক সময় একেক জনের কাছে যাস, আর তাদের পচিয়ে আছস। সাখাওয়াত কালাম তৈমূরের পচিয়ে আবার সাখাওয়াতের কাছে আসছস। আমার সাথে বেঈমানি করছস। এভাবে এক পর্যায়ে মারাÍমারির উপক্রম হয়। এসব উচ্চবাচ্য শুনে অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান আনোয়ার প্রধানের চেম্বারে ঢুকতে চাইলে তার মুখের উপর আঙ্গুল তুলে আপনি গাদ্দার। আপনি আমার চেম্বারে প্রবেশ করবেন না। সেই সাথে তাকে অ্যাডভোকেট আনোয়ারের চেম্বারে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পরে অন্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সেই সাথে আনোয়ারকে টিপু বলতে থাকেন কমিটি শেষ হয়ে যায় নাই। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তোকে মূল্যায়ণ করা হবে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। এদিকে মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণার পরপরই অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান তার ফেসবুক আইডির ওয়ালে ‘বিশ্বাস’ লিখে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। আর এই স্ট্যাটাসে তার অনুসারি ও শুভাকাঙ্খীরা নানা মন্তব্য করতে থাকেন। কেউ লিখেন ‘চিনে রেখো’। কেউ লিখেন ‘বেঈমান চিনেন এবার জান জীবন দেন কার জন্য’। আবার কেউ লিখেন ‘স্বার্থের টানে প্রিয়জন দূরে চলে যায়। আইনজীবীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরেই অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান একসাথে রাজনীতি করে আসছেন। তারা সবসময় একে অপরের প্রতি সমর্থন যুগিয়ে থাকেন। যেন একজন ছাড়া আরেকজন চলতে পারেন না। সবশেষ নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কমিটি এসেছে সাখাওয়াতের মাধ্যমে সেই সাথে কমিটি যুগ্ম সাধারণ সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন সাখাওয়াতের সমর্থনেই। কিন্তু এবার নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটিকে কেন্দ্র অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনে খানের সাথে যেন অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানের বিরোধীতা যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে টিপুর সখ্যতা যেন মেনে নিতে পারছেন না। এই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় শুরু হয়েছে সমালোচনা। বিএনপিপন্থী অনেক আইনজীবীরা এই কমিটিকে কোনোভাবে মেনে নিতে পারছেন না। আর এতে করে একে একে ভেঙ্গে যাচ্ছে সদ্য ঘোষিত মহানগর বিএনপি।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *