আজ: শুক্রবার | ১০ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২৬শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী | বিকাল ৩:১১

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

‘ভার্চুয়াল কোর্ট’ নিয়ে না’গঞ্জের আইনজীবীদের ভাবনা

ডান্ডিবার্তা | ০১ জুন, ২০২০ | ২:২৬

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
মহামারী করোনা ভাইরাস ব্যাপকভাবে বিস্তার করেছে। লকডাউনও কাবু করতে পারছে না এই ভাইরাসকে। এমন পরিস্থিতিতে ‘ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে কোর্ট পরিচালনা’র সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরা। তবে, কয়েক জন এ সিদ্ধান্তের বিরোধীতাও করেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে মিল রেখে গত ২৬ মার্চ থেকে আদালতেও ছুটি শুরু হয়। সাধারণ ছুটির মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়। বাড়ে আদালতের ছুটিও। সর্বশেষ ১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে ছুটির মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে করোনাভাইরাসের কারণে ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর ৩১ মে থেকে সীমিত আকারে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। এ হিসেবে সাধারণ ছুটি শেষ। এ অবস্থায় দুই সপ্তাহের জন্য ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জে বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত এল। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু বলেন, সারা পৃথিবীতেই এখন নৈতিক মহামারী চলছে। প্রতিটা মানুষই সমস্যায় আছে। তারপরেও সকলকে কাজ করতে হবে ও হচ্ছে। র্দীঘদিন কোর্ট বন্ধ থাকলে মানুষের দূর্ভোগ বাড়বে। ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে জরুরী কাজ গুলো করা সম্ভব হবে। এটা সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আইন সম্পাদক এড. মো. শরীফুল ইসলাম শিপলু বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতি কতদিন চলবে? তার কোন নিশ্চয়তা নেই। যদিও ভ্যার্চুয়াল কোর্ট সাধারণ আইনজীবীদের জন্য কষ্ট দায়ক। তারপরেও বিচারপ্রার্থীদের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। সে জন্য আইনজীবীদের নিজেকে ভার্চ্যুয়াল কোর্টের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। এই পদ্ধতিতেই সামনের দিকে আগাতে হবে। এছাড়া আর কোন উপায় নেই। এদিকে, ব্যাপারটি নিয়ে ভিন্ন মন্তব্য করে নারায়ণগঞ্জ বারের সিনিয়র আইনজীবী ও মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, সরকার আজ থেকে দেশের সবকিছু খোলে দিয়েছে, শুধু আদালত বন্ধ রাখে লাভ কি? বন্ধ রাখার দরকার হলে সবকিছুই বন্ধ রাখা উচিত। আর যেহেতু সবকিছু খোলে দেওয়া হয়েছে। তাহলে আদালতের কার্যকম ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে না রেখে বাকি সবকিছুর মতো খোলে দেওয়া হোক। আর না হয় আদালতের মতোই সব কিছু ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতেই রাখা হোক। আর জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদের সিনিয়র নেতা এড. আব্দুল হামিদ খান ভাষানী বলেন, অনেক আইনজীবী আছে ভ্যার্চুয়াল কোর্টর নিয়ম-কানুন সম্পর্কে জানেনা। আমি মনেকরি, ভার্চ্যুয়াল কোর্ট মহামান্য হাইকোর্টের জন্য প্রযোজ্য। জেলা জজ কোর্টে এটা একটা অনিয়মের মধ্যে পড়ে যাবে। সোজা কথায় দূর্নীতির খাতায় পড়ে যাবে। ভার্চ্যুয়াল কোর্টের সুযোগ নিবে পেসকার ও পিওরা। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আদালতের কার্যকম ১৫ মে পর্যন্ত ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে চালু রাখার জন্য আমরা আজ কর্মশালা করেছি। এই কর্মশালা থেকে সকল আইনজীবীদের ভ্যার্চুয়াল পদ্ধতির নিয়মাবলি সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে। যাতে করে সুপ্রীম কোর্টে আর্দেশ জারি অনুযায়ী ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে সকলে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। নারায়ণগঞ্জ জেলার আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেন, ১৫ জুন পর্যন্ত ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা সম্পর্কে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যে সিদ্ধান্ত নিবে, আমরা তা অনুসরণ করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *