Home » শেষের পাতা » অধিগ্রহণ হচ্ছে নদীর জমি

ভুঁইফোঁড়ে নাজেহাল আ’লীগ

২৮ জুলাই, ২০২১ | ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 105 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকার সুবাধে আওয়ামী লীগে বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতা-মন্ত্রীর পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য অনুমোদনহীন সংগঠন। দলের সামগ্রিক কার্যক্রমে এসব সংগঠনের কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা সভা এবং বিভিন্ন অফিস-আদালতে তদবির করাই এসব নাম সর্বস্ব সংগঠনের নেতাদের কাজ। প্রতিটি অনুমোদনহীন সংগঠনের ন্যূনতম কোনো ভিত্তি নেই। কোনো না কোনো প্রভাবশালী নেতা কিংবা মন্ত্রীর ছত্রছায়ায় তারা দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যক্রমের নামে নানা রকম প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ব্যতিক্রম নেই নারায়ণগঞ্জেও শুধু ‘অমুক লীগ-তমুক লীগ’ নয়, এমনকি বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নামে গর্জে উঠেছে বিভিন্ন অনুমোদনহীন সংগঠন। ক্ষমতাসীন দলটির জন্য এসব ‘অনুমোদনহীন সংগঠন’ গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাজেহাল হচ্ছে আওয়ামীলীগ। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বাড়ছে অপরাধ কর্মকান্ড। এতে বির্কতে জড়াচ্ছে আওয়ামীলীগ। ইমেজ নষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে। প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে আওয়ামী লীগের নামসর্বস্ব সংগঠন। এসব নামসর্বস্ব সংগঠনের পেছনে ‘লীগ’ শব্দ ব্যবহার ছাড়াও বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, শেখ রাসেল ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের নামও ব্যবহার করছেন উদ্যোক্তারা। এমনকী মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করেও অনেক সংগঠন গড়ে উঠছে। নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীরা তাদের টার্গেট থাকে। দিবসকেন্দ্রিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে দাওয়াত দেয়া হয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র, জুনিয়র ও মুখ চেনা নেতাদের। এরপর নেতাদের দিয়ে শুরু করে বিভিন্ন দেন-দরবার, তদবির, লবিংয়ের কাজ। সেই সংগঠনগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য আওয়ামী লীগ বার বার হুঁশিয়ারি দিলে দমন করা হয়নি। এসব সংগঠনের উদ্যোক্তাদের এখনই থামানো উচিত। এসব সংগঠনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের থামানো না গেলে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সুনাম নষ্ট ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে বলে মনে করেন প্রবীণ রাজনীতিবিদরা। কারণ আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে ভুঁইফোঁড় কিংবা ‘অনুমোদনহীন সংগঠনের কোনো ভিত্তি নেই। এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, স্বীকৃত সংগঠনের বাইরে যে কোনো নামের সঙ্গে ‘লীগ’ বা ‘আওয়ামী’ শব্দ জুড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী স্বীকৃত সংগঠনের বাইরে কোনো মনগড়া বা হঠাৎ গজিয়ে ওঠা সংগঠনকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া এবং করার কোনো সুযোগ নেই। দল ক্ষমতায় থাকলে নানা সুবিধাভোগী শ্রেণি এবং বসন্তের কোকিলরা এ ধরনের চেষ্টায় লিপ্ত হয়, যুক্ত হয় নানা আগাছা-পরগাছা। অনুমোদিত নামসর্বস্ব সংগঠন বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, বিনা অনুমোদিতে সংগঠন হবে এটা খুবই দুঃখজনক। নিজেরা নিজেরা সংগঠন বানিয়ে পাঠাবে- এটা ঠিক নয়। ‘বঙ্গবন্ধু দুস্থ কল্যাণ সংস্থা’ সংগঠনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আপনাকে দেখা যায় কেন- জবাবে মন্ত্রী বলেন, এগুলো আওয়ামী লীগের সংগঠন না। এগুলো রাজনৈতিক সংগঠন না, এগুলো সামাজিক সংগঠন। রাজনৈতিক সংগঠন হলেও তো রাজনৈতিক অনুমোদন নিয়ে করতে হবে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ এগুলো হলো আমাদের সহযোগী সংগঠন। বাস্তুহারা, দুস্থ রাজনৈতিক সংগঠন নয়, সামাজিক সংগঠন। এখন এত বেশি হয়ে গেছে যে, সবাই নিজে একটা নাম দিয়ে সংগঠন করে ফেলেছে। যা খুবই বিব্রতকর। হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আওয়ামীলীগের উপকমিটিতে সদস্য করার জন্য সুপারিশ করেছিলেন কি না, উত্তরে মন্ত্রী বলেন, সে তো কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। সে তো আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কাজেই উপকমিটিতে সদস্য…। আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ এটা করতে পারে না। এটা যেই করে থাকুক অবশ্যই ভুল করেছে। তাদের দুঃখ প্রকাশ করা উচিত। আর না হয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নামসর্বস্ব সংগঠন গড়ে উঠছে মূলত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে। আর কঠোর হুঁশিয়ারি ও শাস্তি না হওয়ার সুযোগ নিয়ে এর অপব্যবহার করছে দলের অভ্যন্তরে সুবিধাভোগী মহল। নেতারা বলছেন, এসব অনুমোদনহীন সংগঠন মূলত লিফলেট, ভিজিটিং কার্ড, ব্যানার-ফেস্টুনসর্বস্ব। বাস্তবে এসব সংগঠনের কোনো কার্যক্রম যেমন নেই, তেমনি নেই কোনো কার্যালয়ও। গত দুই সপ্তাহ ধরে অনুসন্ধান চালিয়েও নামসর্বস্ব সংগঠনগুলোর কোনো অফিসের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগের নিষ্ক্রিয় কতিপয় নেতা সক্রিয় হতে ব্যবহার করেন নামসর্বস্ব সংগঠন। যাকে ক্ষমতাসীন দল ‘অনুমোদনহীন সংগঠন’ নামে আখ্যা দিয়েছেন। সেই সংগঠন ব্যবহার করে অনেকে হয়েছেন দলের মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা। কেন্দ্রের জুনিয়র থেকে অনেকে সিনিয়র নেতা হয়েছেন এমন অভিযোগ খোদ দলের অভ্যন্তরেই উঠেছে। যত অনুমোদনহীন সংগঠন: জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় লীগ, জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় সংসদ, আওয়ামী সমবায় লীগ, আওয়ামী তৃণমূল লীগ, আওয়ামী ছিন্নমূল হকার্স লীগ, আওয়ামী সংস্কৃতি লীগ, আওয়ামী মোটরচালক লীগ, আওয়ামী তরুণ লীগ, আওয়ামী রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য লীগ, আওয়ামী যুব হকার্স লীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী পরিবহন শ্রমিক লীগ, আওয়ামী নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ, আওয়ামী ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী লীগ, আওয়ামী যুব সাংস্কৃতকি জোট, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনা গবেষণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, বঙ্গবন্ধু একাডেমি, বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরষিদ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ, বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী হকার্স ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা বাস্তবায়ন পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু গ্রাম ডাক্তার পরিষদ, বাংলাদেশ আওয়ামী তৃণমূল লীগ, বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু গবষেণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আদর্শ পরিষদ, আমরা মুজিব সেনা, আমরা মুজিব হব, চেতনায় মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা তরুণ লীগ, নৌকার সমর্থক গোষ্ঠী, দেশীয় চিকিৎসক লীগ, ছিন্নমূল মৎস্যজীবী লীগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লীগ, নৌকার নতুন প্রজন্ম, ডিজিটাল ছাত্রলীগ, ডিজিটাল আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, ডিজিটাল আওয়ামী ওলামা লীগ, বাংলাদশে আওয়ামী পর্যটন লীগ, ঠিকানা বাংলাদেশ, জনতার প্রত্যাশা, রাসেল মেমোরিয়াল একাডেমি, জননেত্রী পরষিদ, দেশরতœ পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব পরিষদ, আমরা নৌকার প্রজন্ম, আওয়ামী শিশু যুবক সাংস্কৃতিক জোট, তৃণমূল লীগ, একুশে আগস্ট ঘাতক নির্মূল কমিটি ও আওয়ামী প্রচার লীগ। তবে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে এ ধরনের কোনো সংগঠনের ভিত্তি নেই। ‘বঙ্গবন্ধু দুস্থ কল্যাণ সংস্থা’ নামে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুহা. রোকন উদ্দিন পাঠান বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের জন্য আওয়ামী লীগ কিংবা বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে অনুমতি নেয়া হয়নি। আমি ২০০৫ সাল থেকে এই সংগঠনের সঙ্গে আছি। আমরা মাঝে মধ্যে বিভিন্ন দিবসকেন্দ্রিক অনুষ্ঠান করে থাকি। ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাওয়া হয়, সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা থাকেন। আর এটি নারায়ণগঞ্জ থেকে পরিচালনা করা হয়ে থাকে। বড় বড় অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের অতিথি করে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। আওয়ামী লীগ বন্ধ করে দিতে বললে আমরা এটা বন্ধ করে দেব।’ তিনি বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট ও আইভি রহমান স্মৃতি পরিষদের সঙ্গে রয়েছেন বলে জানান। তিনি আরো বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ নামে একটি সংগঠন করেছিলাম। সেই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভুঁইফোঁড় সংগঠন নিয়ে কথা বলার পর আমি সেটি বন্ধ করে দেই।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ আওয়ামী তৃণমূল লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম লিটন বলেন, ‘সংগঠনটি ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৬ সালে এই সংগঠনটি তৎকালীন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদকের পৃষ্ঠপোষকে গতিশীল হয়। নেতাদের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকা-ের কারণে সংগঠনের কর্মকা- স্থবির হয়ে যায়। ২০২১ সালের ১৭ মার্চ আমি দায়িত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন থেকে বাদপড়া বঞ্চিত, ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকদের সুসংগঠিত করে সংগঠনকে গতিশীল করা চেষ্টা করছি।’ তিনি বলেন, ‘নীতিনিধারকরা যদি সংগঠনের কর্মকা- বন্ধ করার নির্দেশ প্রদান করেন তা হলে আমরা কর্মকা- বন্ধ করে দেব।’ এদিকে আওয়ামী লীগরে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো হচ্ছে যুবলীগ, কৃষকলীগ, স্বচ্ছোসেবক লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও তাঁতী লীগ। ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন রয়েছে ছাত্রলীগ ও শ্রমকি লীগ।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *