Home » প্রথম পাতা » গভীর রাতে বোট ক্লাবে কী করেছিলেন পরীমণি?

ভুয়া সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সবাইকে কঠোর হতে হবে

০২ জুন, ২০২১ | ৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 219 Views

হাবিবুর রহমান বাদল

নারায়ণগঞ্জে নামধারী সাংবাদিকদের যন্ত্রণায় অতিষ্ট নগরবাসী। ইজিবাইক যানজট আর হকার সমস্যারমত নারায়ণগঞ্জে নামধারী সাংবাদিকরাও একটা সমস্যা হিসাবে দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন ভুয়া সাংবাদিক চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গ্রেফতারও হয়েছে। তবুও থেমে নেই তাদের দৌরাত্ব। যে কারণে পেশাদার সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। কে আসল আর কে নকল এ নিয়ে শহরময় চলে আলোচনা সমালোচনা। তবে র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পেশাদার সাংবাদিকদের স্বার্থেই ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমি মনে করি র‌্যাবের এই অভিযানের ফলে পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা যেমন আবার ফিরে আসবে তেমনই ভুয়া কিংবা নামধারী সাংবাদিকদের দৌরাত্ব্যও কমে আসবে। তবে র‌্যাবের পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে এ ব্যপারে আরো তৎপর হতে হবে সে সাথে প্রশাসনকেও ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এক সময় সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা হিসাবে স্বীকৃতি পেলেও বর্তমানে নামধারী সাংবাদিকদের কারণে পেশাদার সাংবাদিকরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। কোন অনুষ্ঠানে গেলে দেখা যায়, শতাধিক সাংবাদিক আবার এর পাশাপাশি থাকে সমসংখ্যক ফটো সাংবাদিক। এক সময়ে এ পেশায় আসতো একটা আদর্শকে সামনে রেখে। আর এখন কোথায়ও কিছু করতে না পারলে সাংবাদিক বনে যায়। তবে এক্ষেত্রে সম্পাদকের সংখ্যাই বেশী বলে জানা গেছে। একাধিক রাজনৈতিক নেতা ক্ষোভের সংগে বলেন, এদের নিয়ন্ত্রণ করার কি কোন আইন নেই। আমি বলব অবশ্যই রয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের বহর দেখা গেলেও নারায়ণগঞ্জে পরদিন এদের কোন সংবাদ কিংবা ছবি সচরাচর চোখে পড়েনা। আর যারা প্রকৃত অর্থেই এই পেশার নিবেদিত তারা কেউ ছবি তুলে চলে আসে আবার কেউ দুর থেকে দাঁড়িয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেন। অথচ শহরে এইসব নামধারী সাংবাদিকদেরই দাপট বেশী দেখা যায়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন সময়ে পাঠকপ্রিয় পত্রিকা কিংবা অনলাইনগুলির উপর তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করলেও এইসব নামধারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কখনো তৎপর হতে দেখা যায়নি। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, রাস্তার পাশে মোটর সাইকেল দাঁড় করিয়ে খাদ্য সামগ্রী ক্রয় করার অভিযোগে মোটর সাইকেল রেকার দিয়ে তুলে নেয়া হলেও সন্ধ্যার পর থেকে চেম্বার রোডের দুই পাশ দখল করে অবৈধ ভাবে রাখা বাসের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়না। অবস্থা ঠিক তেমনই অবৈধ ইজিবাইক আর বেটারী চালিক যান বাহনে শহর শুধু চলাচলের অযোগ্য হয়ে পরেনি বরং প্রতিদিন এইসব বেটারী চালিত যানবাহন কত হাজার ইউনিট বিদ্যুত চুরি করছে তার হিসাব কেউ রাখে না। অথচ বর্তমান সরকার ভর্তুকি দিয়ে বেসরকারি খাতে বিদ্যুত উৎপাদন করে জনগণের সেবা করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আর সেই অবৈধ ভাবে চলাচলকারী বিদ্যুত চোরেরা বুক ফুলিয়ে শহরময় দাপটে চলছে। যা দেখে খোদ নগর মাতা যখন বলে, শহরে বেরুলে মনে হয়না এই শহরের কোন বাপ-মা আছে। একই অবস্থা এইসব নামধারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় তাদের দাপট এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানী করার প্রবনতা এতটাই বেড়ে গেছে যার খেসারত হয়তো একদিন নগরমাতার মত আমাদের প্রশাসনকেও দিতে হবে। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের সংবাদপত্রের প্রতি আস্থা হারাবে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *