Home » প্রথম পাতা » ওসমান পরিবারের সাথে কোন দ্বন্দ্ব নেই: আইভী

ভোটের আতঙ্কে সাইফউল্লাহ বাদল

০২ নভেম্বর, ২০২১ | ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 48 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

জনপ্রতিনিধি হবার সাধ সকল রাজনৈতিক নেতারই থাকে। আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল্লাহ বাদলেরও সাধ হয়েছিল জনপ্রতিনিধি হওয়ার। প্রভাবশালী এক সাংসদের আশীর্বাদে হয়েছিলেনও। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় চেয়ারম্যান হয়ে জনপ্রতিনিধির স্বাদ পেয়েছেন সাইফুল্লাহ বাদল। এবারও তেমনটা করতে চেয়েছিলেন। তবে বাদ সাধেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ওমর ফারুক। নানা হুমকি-ধমকির মুখেও তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় তরী উতড়ে যাওয়া সাইফুল্লাহ বাদল এবার প্রতিদ্বন্দ্বীতে ভড়কে গেছেন। সরাসরি ভোটে ভীত সাইফুল্লাহ বাদল তার ছেলে ও গুন্ডাবাহিনী দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর উপর হামলা চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, প্রভাবশালী এক সাংসদের আশীর্বাদে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে এম সাইফুল্লাহ বাদল। সর্বশেষ ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সভাপতি হন তিনি। তার বিরুদ্ধে কাউকে সভাপতি পদে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন তিনি। দলীয় সূত্র বলছে, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন ফতুল্লায় তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন সাইফুল্লাহ বাদল। তখন তার নেতা শামীম ওসমান ছিলেন দেশের বাইরে। শামীম ওসমান দেশে ফেরার পর ২০১৪ সালে যখন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন তখন মূল্যায়িত হলেন বাদল। দীর্ঘদিন যাবৎ ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি তিনি। ২০১৬ সালে কাশীপুর ইউপি নির্বাচনে তাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হলো। সেই সময় চেয়ারম্যান মোমেন শিকদারও প্রার্থীতা করতে চেয়েছিলেন। শামীম ওসমানের অনুরোধ প্রতিদ্বন্দ্বীতা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। চাপের মুখে সরে দাঁড়ায় ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীও। ফাঁকা মাঠে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সাইফুল্লাহ বাদল। তবে এইবার শুরুর চিত্র অনেকটা একইরকম হলেও চূড়ান্ত চিত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটেছে। গতবারের মতো এবারও মোমেন শিকদারকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আবারও শামীম ওসমানের অনুরোধে সরে দাঁড়ান মোমেন শিকদার। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেও জমা দেননি তিনি। প্রার্থী হয়েছিলেন সাংবাদিক রাশেদুল ইসলামও। তাকেও নানা প্রতিশ্রুতিতে বসিয়ে দেন সাইফুল্লাহ বাদল। মঙ্গলবার সে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়। তবে নির্বাচনী মাঠে রয়ে গেছেন ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী ওমর ফারুক। অনেক চেষ্টা করেও তাকে ম্যানেজ করতে পারেনি সাইফুল্লাহ বাদল। ফলে নির্বাচনী মাঠ এইবার ফাঁকা নয় সাইফুল্লাহ বাদলের জন্য। স্থানীয় সূত্র বলছে, কাশীপুরে সাইফুল্লাহ বাদলের প্রভাবের কাছে টিকবেন না ওমর ফারুক। কাশীপুরে ধরাকে ‘সরা জ্ঞান’ করা সাইফুল্লাহ বাদলের অনুসারীরা শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চাপে রেখেছেন। বাদল ব্যাতীত পোস্টার-ব্যানার কাশীপুরে সাঁটানো যায়নি। খোদ সাবেক চেয়ারম্যান মোমেন শিকদারেরও মাত্র কয়েকটি ব্যানার দেখা গিয়েছিল। তারও কয়েকটা ছিঁড়ে ফেলাও হয়েছিল। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এইবারও সাইফুল্লাহ বাদলকে নির্বাচিত করার চিন্তা ছিল অনুসারীদের। বাদল নিজেও এমনটা চেয়েছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হলো না। এইবার আর নাকে তেল দিয়ে ঘুম হবে না তার। নির্বাচনী মাঠে ঘাম ঝরাতে হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী জোরদার না হলেও ভোটের লড়াইতে নামতেই হবে তাকে। আর কাশীপুরবাসীও দীর্ঘবছর পর চেয়ারম্যান পদে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এদিকে মাঠ ফাঁকা না পেয়ে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে সাইফুল্লাহ বাদলের। ফলে সহিংস হয়ে উঠেছেন তিনি। প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, শুরু থেকেই তাদের কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা তারা করতে পারছেন না। প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার পর হুমকি-ধমকি বেড়ে গেছে। সামান্য পোস্টারও সাঁটানোয় তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি প্রার্থীর উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

গত ৩০ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাশীপুর ইউনিয়নের উত্তর নরসিংহপুর এলাকায় চরমোনাই পীর মনোনীত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ওমর ফারুকের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। হাতপাখার প্রার্থীর সমর্থকদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী এই হামলায় অংশ নেয়। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে মহড়া দিয়ে হামলা করে। তারা হাতপাখার নির্বাচনী ক্যাম্পটিও ভাঙচুর করেছে। এই ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদলের ছোট ছেলে নাজমুল হাসান সাজনসহ ১৫০ জনকে আসমি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বাদী ওমর ফারুক জানান, নৌকার প্রার্থী এম সাইফউল্লাহ বাদলের ছোট ছেলে নাজমুল হাসান সাজন (৪০), ভোলাইল গেদ্দারবাজারের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে মো. বদু (৪৩) ও চরকাশীপুরের জুয়েল (৪৫) সহ অজ্ঞাত ১৫০ জন আসামি ৩০ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে উত্তর নরসিংহপুর এলাকায় হাতপাখার নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি, রাম দা, চাইনিজ কুড়াল দিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা পিটিয়ে তাকে জখম করেন বলে অভিযোগ করেন বাদী।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *