Home » প্রথম পাতা » শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী আজ

ভোটের মাঠে আইভী-তৈমুর

১৪ জানুয়ারি, ২০২২ | ৬:১৮ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 134 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ভোটের মাঠ আওয়ামীলীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকারের দখলে। নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন। তবে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের হুমকি ধামকি ও প্রশাসনের গ্রেফতার আতঙ্কের কারণে তৈমূর আলম খন্দকার অনেকটাই সুবিধা জনক অবস্থায়। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পাশাপাশি আইভীকে লড়তে হচ্ছে পুরোনো ‘ছায়া শত্রুদের’ সঙ্গেও। এর সুযোগ নিচ্ছেন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার। ২০১১ সালে ভোট গ্রহণের কয়েক ঘন্টা পূর্বে সরে দাঁড়ালেও এইবার ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’ অবস্থানে আছেন তৈমুর। তবে তার সামনেও রয়েছে জটিল সমীকরণ। কারণ দলের ক্ষুদ্র একটি অংশ তার বিরোধীতা করে চলেছে। যদিও বিএনপি প্রকাশ্যে তৈমূরকে তাদের প্রার্থী বলে স্বীকার করছে না কিন্তু আকাঁরে ইঙ্গিতে বলে যাচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতি অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। গত দুই মেয়াদে কেবল নগরীর উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্যই নয় আইভী এই শহরে জনপ্রিয় আরও কয়েকটি কারণে। শহরের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সাথে কথা হলে তারা জানান, শুধু নারায়ণগঞ্জে নয় সারা বাংলাদেশেই সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। এইবার সমীকরণ কিছুটা জটিল হতে পারে বলেও সম্ভবনা অনেকের। আলোচনা রয়েছে, দলীয় পরিচয় আওয়ামী লীগ হলেও নির্বাচনে বিএনপিরও ভোট পান আইভী। ২০১১ সালে বিএনপির বড় একটি অংশ ভোট দিয়ে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে আইভীকে নির্বাচিত করেছিল। স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হলেও তৈমুর আলমের পক্ষে বিএনপির প্রায় সকলেই তার সঙ্গে আছেন। তাছাড়া সরকারদলীয় কিছু নেতার বক্তব্যও নির্বাচনের মাঠ উত্তপ্ত করেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে দলীয় প্রার্থী আইভীরই। সিটি নির্বাচনকে ঘিরে সরকারদলীয় নেতাদের মন্তব্যে ক্ষুব্দ বিএনপি সমর্থকরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, নগরবাসী আইভীকে তাদের নিজেদের লোক মনে করেন। এই অবস্থান তিনি তৈরি করেছেন দল-মতের উর্ধ্বে অবস্থান নেওয়ার মধ্য দিয়ে। তবে তার দলেরই নেতা-কর্মীদের কিছু বক্তব্য ভোটের মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সাধারণ ভোটারদের মাঝে ভুল বার্তা দিচ্ছে। এদিকে শামীম ওসমান প্রসঙ্গ এই শহরে আইভীর জন্য উভয় সংকট। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একই দলের হলেও এ কে এম শামীম ওসমান ও সাবেক সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর দ্বন্দ্ব বহু পুরোনো। তাদের মতবিরোধ সংঘাতেও রূপ নেয়। শামীম ওসমান সংবাদ সম্মেলন করে আইভীর পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তার কর্মীরা অনেক আগে থেকেই মাঠে আছে। এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল বলছে, শামীম ওসমান আইভীর পক্ষে আছেন এই প্রচারণাও আইভীর জন্য নেতিবাচক। কেননা এই শহরের মানুষের কাছে আইভীকে শামীম ওসমানের পাল্টা শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে। নানা কারণে নেতিবাচকভাবে আলোচিত শামীম ওসমানকে অপছন্দের কারণেই আইভীকে বারবার বেছে নেয় তারা। সেক্ষেত্রে শামীম ওসমানের সমর্থনও আইভীর জন্য ভোটের মাঠে হুমকিস্বরূপ বলে করেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। এদিকে গত দেড় বছর যাবৎ শামীম ওসমান অনুসারীদের মসজিদ, মন্দির ইস্যুতে একের পর এক আইভীবিরোধী প্রচারও ভোটের মাঠে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলবে। আইভীর দুর্বলতা তৈমুরের শক্তি হিসেবে প্রতীয়মান হলেও তার পথও সহজ নয়। কেননা তিনি নিজেই তার দলীয় নেতাদের একটি অংশের সমর্থন পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে ভোটের মাঠে দু’জনেই সমানে সমান। ভোটাররা মুখ খুলতে নারাজ। তবে আগামী রবিবার জানা যাবে কে হচ্ছেন নগরপিতা।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *