Home » প্রথম পাতা » রূপগঞ্জ ভ’মি অফিসে অনিয়মই যেন নিয়ম

ভয়ঙ্কর খেলায় গিয়াস পুত্ররা

০১ মে, ২০২২ | ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 67 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

এবার ঈদ আনন্দ নিরান্দ হয়ে গেল আলোচিত-সমালোচিত ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন পরিবারের। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে হত্যার পরিকল্পনায় ছেলের নাম উঠে আসায় পুলিশ দেখে পালাতে হয়েছে গিয়াস উদ্দিনকে। বিষয়টি একদিকে লজ্জা ও কস্টের হলেও অন্যদিকে ধিক্কার জানাচ্ছেন সিদ্ধিরগঞ্জ তথা বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। তারা বলছেন, কতটা ভয়ঙ্কর হলে পদ পদবীর জন্য একজন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করতে পারে গিয়াস উদ্দিনের ছেলে রিফাত। তবে কার পরামর্শে  রিফাত এমন ভয়ঙ্কর খেলায় মেতেছে তা পরিস্কার হতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন মামুন মাহমুদকে হত্যা চেষ্টা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার এস আই জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, রিফাতকে গ্রেপ্তার করতে পারলেই মামলার অনেকটা অগ্রগতি হবে। তবে গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রদল নেতা সাগর সিদ্দিকি চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্যই দিয়েছে। এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে নাসিকের ৫নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার কলাবাগ এলাকায় গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতে পুলিশের অভিযানের পর থলের বিড়াল বের হয়ে পড়ে। গিয়াস উদ্দিন ও তার ছেলেকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। যদিও ঘটনার পরদিন ২৬ এপ্রিল ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার মাহফিলে গিয়াস উদ্দিন বলেছিলেন, মামুন মাহমুদকে দুষ্কৃতকারীরা ছুরির আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করেছে আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা এর সুষ্ঠ তদন্ত এবং সুষ্ঠ বিচার এই সভা থেকে আহ্বান করছি। তিনি আরও বলেছিলেন, আমাদের দলকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার জন্য এবং আমাদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করার জন্য অনেক ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় মামুন মাহমুদকে আক্রমণ করা হয়েছে। এখন তার এই বক্তব্যকে ‘ভুতের মুখে রাম রাম’ আখ্যায়িত করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুবিধাবাদী গিয়াস উদ্দিন তার বাহিনী নিয়ে মাঠে নেমেছেন। এতে আগামীতে প্রতিপক্ষ নেতাদের কপালে কি আছে একমাত্র আল্লাহই জানেন। কারণ গিয়াস উদ্দিন রাজনীতিতে তার প্রতিপক্ষকে কোনভাবেই সহ্য করতে পারেন না। সব সময় তিনি চান একক নিয়ন্ত্রন। যেটা তিনি করেছেন ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। ওই সময়ে সিদ্ধিরগঞ্জ-ফতুল্লায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ত্যাগি নেতারাও সাইজ হয়ে গেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির ত্যাগি নেতা গাজী ইসমাইল মারাই গেলেন। আর বীরমুক্তি যোদ্ধা কামাল হোসেনের অবস্থা সবাই জানে। বিএনপির এই দুই শীর্ষ নেতা তৎকালীন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কৃষকলীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেয়া গিয়াস উদ্দিন ওই দুই শীর্ষ নেতার রাজনীতি শেষ করে দিয়েছেন। এতে গিয়ান উদ্দিনের একক ক্ষমতা পাকাপোক্ত হলেও সিদ্ধিরগঞ্জে  বিএনপির কফিনে শেষ পেরেক মেরে দিয়েছেন তিনি। এমন বক্তব্য দলীয় নেতাকর্মীদের। ওদিকে শুধু গিয়াস উদ্দিন ও তার ছেলে রিফাতই পালায়নি। পালিয়েছে নাসিক দুই নাম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন, রিফাতের সহযোগি হৃদয়, গিয়াস উদ্দিনের ব্যক্তিগত সহকারী পল্টু কর্মকার। তাদের এখন আর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দলীয় সূত্রমতে, গত ১৫ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সম্মেলনে কাউন্সিলর ইকবালের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয় এবং পন্ড হয়ে যায় সম্মেলন। ইকবাল গিয়াস উদ্দিনের অন্যতম সহযোগি। গিয়াস উদ্দিনের পরামর্শে সে আওয়ামীলীগের একটি অংশের সঙ্গে মিলে মিশে কাজ করে যাচ্ছে। যাতে অপরাধ অপকর্ম করে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও পুলিশের ঝামেলায় না পড়তে হয়। এমন বক্তব্য স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের। প্রসঙ্গত: গত ২৫ এপ্রিল রাতে রাজধানীর পুরানা পল্টনে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে এলোপাথারী ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পরেই স্থানীয়রা হামলাকারীদের একজন জুয়েল মীর ওরফে পাগলা জুয়েলকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করে। আর ঘটনার পর দিন মামুন মাহমুদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সাগর সিদ্দিকী। ওই ঘটনায় মামুন মাহমুদের স্ত্রী বদরুননাহার বাদি হয়ে আটক জুয়েল মীরকে প্রধান আসামি ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামী করে পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে পুলিশের তদন্তে ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের ছোট ছেলে গোলাম মোঃ কাউসার ওরফে রিফাতের নাম উঠে এসেছে। রিফাতের হয়ে খুনি ভাড়া করেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগি ফতুল্লার বাসিন্দা মোঃ হৃদয়। আর হামলাকারী মোঃ জুয়েল মীরকে মামুন মাহমুদের অফিস ও তার ছবি দেখিয়ে দেয় জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি গ্রেপ্তার দিদার আলম ওরফে সাগর সিদ্দিকী। এদিকে ঘটনার দিন দুপুর থেকে ঘটনাস্থলের অদূরে মুক্তাঙ্গনে নিজের মাইক্রোবাসে অবস্থান করছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন ও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের ব্যক্তিগত সহকারী পল্টু কর্মকার। পল্টন মডেল থানা পুলিশের তদন্তে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের এসব তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনার পর থেকে কাউন্সিলর ইকবাল ও রিফাত পলাতক রয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়। ওদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট পল্টন মডেল থানার একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘটনার পরিকল্পনাকারী রিফাত। তার হয়ে খুনি ভাড়া করে হৃদয়। রিফাত ও হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। তিন দিনের রিমান্ডে থাকা সাগর সিদ্দিকী পুলিশকে ঘটনার বিষয়ে নানা তথ্য দিচ্ছে। পুলিশ সেগুলো যাচাই বাছাই করে দেখছে। ঘটনার দিন দুপুরে নাসিকের ২নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন ও পল্টু কর্মকার নামে দু’জন একটি মাইক্রোবাসে করে অবস্থান করছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। পুলিশের সন্দেহের তালিকায় কাউন্সিলর ইকবালও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *