Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

মহানগর বিএনপিতে ফাটল!

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 75 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি ভাঙ্গনের কবলে। অচিরেই সদ্য ঘোষিত মহানগর বিএনপি ভেঙ্গে যাওয়ার আলামত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবার আনুষ্ঠানিক ভাবে নব গঠিত মহানগর বিএনপি থেকে ১৫ নেতা পদত্যাগ করেছে। আরো কয়েকজন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। শাখাওয়াত-টিপুর নেতৃত্বাধীন মহানগর বিএনপি আর রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে একাধিক শীর্ষ নেতা দাবি করেছেন। গতকাল রবিবার আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ করেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সর্বশেষ কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, যুগ্ম আহবায়ক হাজী নুরুদ্দিন, আতাউর রহমান মুকুল, আবুল কাউসার আশা, সদস্য এড. বিল্লাল হোসেন, আলমগীর হোসেন, শহিদুল ইসলাম রিপন, আমিনুল ইসলাম মিঠু, মনোয়ার হোসেন শোখন, ফারুক হোসেন, হাজী ফারুক হোসেন, হান্নান সরকার, আওলাদ হোসেন, এড. আনিসুর রহমান মোল্লা, এড. শরীফুল ইসলাম শিপলু। এ ছাড়াও কমিটির আরও কয়েকজন নেতা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলতি কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রায় ৪ দশক ধরেই মহানগর বিএনপিতে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামের নেতৃত্বে ছিল মহানগর বিএনপি। তবে তাঁর পাশাপাশি বিএনপি থেকে বহিস্কৃত অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের আধিপত্যও ছিল বেশ। বিশেষ করে অ্যাডভোকেট আবুল কালামের নেতৃত্বাধীন কমিটিতে পরের অবস্থান ছিল তৈমূর আলম খন্দকারের অনুগামীদের। ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৃতীয় নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় দল থেকে বহিস্কৃত হন জেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। তার পক্ষে নির্বাচনে কাজ করায় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালও বহিস্কৃত হন। এরপর থেকে জেলা বিএনপিতে ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছেন মনিরুল ইসলাম রবি ও মহানগরে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন আসছিলেন আব্দুস সবুর সেন্টু। এদিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি প্রকাশ করা হয়। তবে এই কমিটি থেকে অনেকটাই মাইনাসের পথে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামের অনুসারি ও বহিস্কৃত জেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের অনুসারি। বিশেষ করে নবগঠিত এই কমিটিতে রাখা হয়নি সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে। তার পুত্র নাসিকের ২৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা ও চাচাতো ভাই বন্দর বিএনপি পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলকে সহসভাপতি পদে রাখা হলেও কমিটি ঘোষণার ২৪ ঘন্টার ব্যবধানেই তারা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। পূর্বের ন্যায় কমিটিতে আধিক্য নেই কালাম সমর্থক নেতাদের। অপরদিকে মহানগর বিএনপির রাজনীতি থেকে এক প্রকার ছিটকে গেছেন তৈমূর পরিবারও। তৈমূর বহিস্কৃত হলেও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন ছোট ভাই মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি নাসিকের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ও ভাগ্নে যুবদল নেতা রশিদুর রহমান রশো। নবঘোষিত কমিটিতে তৈমূর পরিবারের কাউকেই রাখা হয়নি। এমনকি নবগঠিত কমিটিতে স্থান মেলেনি তৈমূর অনুগামী নেতাদের। এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি যাদের নেতৃত্বে এসেছে আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব হিসেবে আবু আল ইউসুফ খান টিপু। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে মেয়র পদে কালাম ও তৈমূরের অনাগ্রহে বিএনপির ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়ে যান অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। ওই নির্বাচনে তিনি নাসিকের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে ধরাশায়ী হন তিনি। তবে নির্বাচনের কিছুদিন পরেই অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরুদ্ধে এমপি শামীম ওসমানের কাছ থেকে ২ কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। যে কারণে উত্থাপিত অভিযোগ বেশ হৈচৈ ফেলে গোটা নারায়ণগঞ্জ জুড়ে। এরপর আদালতপাড়াতেও দীর্ঘদিন একে অপরের বিরোধী ছিলেন সাখাওয়াত ও টিপু। যদিও তাদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল কিন্তু সেই ২ কোটি টাকা নিয়ে হেরফেরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মহানগর বিএনপিতেও তাদের মধ্যে বিবাদ ছিল। কিন্তু চলতি বছরের মাঝামাঝিতে বিএনপির কর্মসূচীতে তাদের মধ্যে একাত্ম হতে দেখা যায়। এরপর কেন্দ্রীয় বেশ কিছু কর্মসূচীতেও তারা যুগপৎভাবে পালন করে আসছিলেন। সর্বশেষ মহানগর বিএনপির যে কমিটি গঠন করা হয়েছে এতে দায়িত্বে এসেছেন তারা দুইজন। আর কমিটিতেও যারা স্থান পেয়েছেন তাদের বেশীরভাগই সাখাওয়াত ও টিপুর অনুগামী কিংবা ঘনিষ্টজন। যার কারণে রাজপথে থাকা বহু নেতাকর্মী কমিটিতে স্থান না পাওয়ার ফলে সদ্য ঘোষিত মহানগর বিএনপি থেকে পদত্যাগের হিড়িক পড়ে যায়। আর এ কারণেই মহানগর বিএনপিতে ভাঙ্গন দেখা দেয়। অচিরেই সদ্য ঘোষিত মহানগর বিএনপি বিলুপ্ত হতে পারে বলে একাধিক নেতা মনে করেন।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *