Home » শেষের পাতা » হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে সড়ক-মহাসড়কে চলছে চাঁদাবাজী

মহানগর বিএনপিতে ল্যাং মারার রাজনীতি শুরু

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 101 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নারায়ণগঞ্জে বিএনপির পারিবারিক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি গঠিত হয়েছে। আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহবায়ক ও অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। কিন্তু কমিটি গঠনের পর শুরু হয় পদত্যাগের হিড়িক। রাজপথের ত্যাগী নেতাদের ল্যাং মারতে গিয়ে উল্টো বেকায়দায় পড়েছে নব গঠিত মহানগর কমিটির নেতারা। নেতাকর্মীদের অভিযোগ- যাদের হাতে মহানগরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদের দ্বারা রাজপথে নামাতো দূরের কথা গলিতেও যেতে পারবেনা। বর্তমান সময়ে নারায়ণগঞ্জে শক্তিশালী কমিটি দেয়া দরকার ছিল। এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের হাতে পদত্যাগ পত্র তুলে দিয়েছেন মহানগর বিএনপির কমিটিতে পদ পাওয়া বেশ কয়েকজন নেতা। অপরদিকে মগানগর বিএনপির নয়া কমিটির কয়েকজন নেতা নতুন কমিটির পক্ষে বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং পিঠের চামড়া তুলে নেয়ার হুমকিদাতা মহানগর বিএনপির নবগঠিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুলকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা সম্পর্কে এ ধরনের অশালীন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা বলেও জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। গত ১৮ই সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নবগঠিত কমিটির প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয় নারায়ণগঞ্জ নগরীর চাষাড়া শহীদ মিনারে। কিন্তু এই কর্মসূচিকে বানচাল করার লক্ষ্যে বিএনপি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার হুট করেই একইদিন একই সময়ে তার নিজ বাসভবন মাসদাইর এলাকায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন, যেখানে বিএনপির কমিটির নেতাদের নিয়ে নানা ধরনের কটুক্তি করে বক্তব্য রাখেন বক্তারা। গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নারায়ণগঞ্জের একটি আওয়ামী লীগ পরিবারের পক্ষে নানা গুণকীর্তন ক্ষমতার লোভে দৃষ্টতা দেখিয়েছিলেন তৈমুর আলম। যে কারনে তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। ঘটনা সূত্রে আরো জানা গেছে, গত ১৩ই সেপ্টেম্বর অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহবায়ক ও অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে অধিষ্ট হোন আতাউর রহমান মুকুল, যিনি একসময় বন্দর থানা বিএনপির বিদ্রোহী কমিটির স্বঘোষিত সভাপতি হিসেবে দাবি করে আসছিলেন। দীর্ঘদিন যাবত বিএনপি নেতা দাবি করে তিনি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মঞ্চে উঠে রাজনীতি করেছেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী একেএম সেলিম ওসমান এর পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনে কাজ করেছেন। এমনকি ধানের শীষের প্রতিকার প্রার্থী অভিযোগ করেছিলেন ধানের শীষের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে মারধর করে আতাউর রহমান মুকুল বের করে দিয়েছেন। মুকুল ও তার অনুগামী সুলতানের বাধার কারনে জাতীয় নির্বাচনের সময় বন্দরের মদনগঞ্জ সিরাজউদ্দৌলা মাঠে সমাবেশ করতে পারেনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে অন্যত্র মাঠে সমাবেশ করতে হয়েছিল বিএনপিকে। সেই আতাউর রহমান মুকুল এবার কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সালামকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্চিত ঘোষণার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। একইসঙ্গে আব্দুস সালামের চামড়া তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতা সালামকে নিয়ে এমন বক্তব্য ও বিএনপির বহিস্কৃত নেতার হাতে পদত্যাগ পত্র তুলে দিয়ে উল্টো হোচট খেলেন সাখাওয়াত ও টিপুর বিরোধীরা। মুকুল গংদের এমন কর্মকান্ডে ক্ষেপেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *