Home » শেষের পাতা » হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে সড়ক-মহাসড়কে চলছে চাঁদাবাজী

মহানগর বিএনপিতে শনিরদশা!

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 56 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে শানির দশা ভর করেছে। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বির্তক শুরু হয়েছে। শুরু হয়ে পদত্যাগের হিড়িক। দেওভোগ পাক্কারোড এলাকার কয়েকজন যুবদল কর্মী এমন অভিযোগ করেন। তারা আরো আপত্তি তোলেন যে, আমরা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র এমন দুর্বল কমিটি আশা করি নাই। নেতা হতে হবে নেতার মত। সাখাওয়াত ভাই চলে। কিন্তু টিপু ভাই এতবড় পদে বেমানান। তাছাড়া এই টিপুই নাসিক নির্বাচণের সময় সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে ওসমান পরিবারের কাছ থেকে দুই কোটি টাকা নেয়ার গোপন কথা ফাঁস করে দিয়েছিল। এরপর থেকে সাখাওয়াত হোসেনকে মানুষ ওসমান পরিবারের হাতের পুতুল হিসেবে চিনে থাকে। এতবড় ক্ষতি করার পর কোন দুঃখে সাখাওয়াত হোসেন শেষ পর্যন্ত টিপুকেই সেক্রেটারী হিসেবে বেছে নিলেন? এমন কারণগুলি জট পাকিয়ে এই কমিটিকে অংকুড়েই চাইছে ধ্বংস করতে। এ কারণেই চলছে পদত্যাগেরহিড়িক। জানা গেছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহবায়ক ও অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। কমিটি ঘোষণার পরেই শুরু হয় বিদ্রোহ। ইতোমধ্যে কমিটির ১৫ জন সিনিয়র নেতা পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, কমিটিতে বাদ দেয়া হয়েছে রাজপথের নেতাদের ও বিএনপির প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের। গত ১৮ সেপ্টেম্বর জেলা ওলামা দলের সভাপতি মুন্সী শামসুর রহমান বেনু ও নিহত যুবদল নেতা শাওনের জন্য দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠান শেষে পদত্যাগের বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ছাড়াও কমিটির আরো কয়েকজন নেতা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলতি কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। পদত্যাগকারীরা হলেন- মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সর্বশেষ কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, যুগ্ম আহবায়ক হাজী নুরুদ্দিন, আতাউর রহমান মুকুল, আবুল কাউসার আশা, সদস্য অ্যাডভোকেট বিল্লাল হোসেন, আলমগীর হোসেন, শহিদুল ইসলাম রিপন, আমিনুল ইসলাম মিঠু, মনোয়ার হোসেন শোখন, ফারুক হোসেন, হাজী ফারুক হোসেন, হান্নান সরকার, আওলাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মোল্লা, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু। প্রথমেই পর নীতি’র আশ্রয় নিল নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি। তারা নিজেদের প্রথম কর্মসূচিতেই ব্যর্থ হয়ে গেছে। এবার মহানগর নেতারা প্রথম কর্মসূচী সফল করতেই আশ্রয় নিল জেলা কমিটির উপর। প্রথম কর্মসূচি জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের উপর ভর করে পালন করেছে। নেতাকর্মী না হওয়ায় জেলার নেতাদের ডেকে এনে লোক সমাগম করে মহানগর বিএনপি। ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচী পালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। জেলার উপর ভর করে মহানগর বিএনপি’র এই কর্মসূচী পালন করাকে সমালোচনার চোখেই দেখেছে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। সেদিন দেখা গেছে, দুপুর ২ টা থেকে মঞ্চে অবস্থান করেন কমিটির সদস্য সচিব টিপু। পরে ৩টা বাজলেও দলের নেতাদের দেখা পাওয়া যায়নি সেখানে। পুরো শহীদ মিনার ছিল ফাঁকা। পরে জেলা বিএনপির সদস্য মাসুকুল ইসলাম রাজীবের নেতাকর্মীরা আসা শুরু করলে কিছু লোকজন হয়। এরপর জেলা ছাত্রদল, ফতুল্লা থানা ছাত্রদল, জেলা যুবদল, ফতুল্লা থানা যুবদল, সোনারগাঁ থানা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে কর্মসূচীতে স্লোগান দেন। জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি এসময় একটি মিছিল নিয়ে উপস্থিত হন। জেলার নেতাকর্মীদের উপর ভর করেই মহানগর বিএনপির প্রথম কর্মসূচী পালন করে মহানগর বিএনপি। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুল ইসলাম রবি আসলে জেলা বিএনপির আরো কয়েকটি ইউনিটের নেতাকর্মীরা এসে উপস্থিত হন। জেলার নেতাদের এনেও মহানগর বিএনপির নতুন কমিটির প্রথম কর্মসূচীতে শহীদ মিনার পূর্ণ করতে পারেনি নেতারা। এ নিয়ে নেতাদের ব্যর্থতাকে তুলে ধরছেন খোদ মহানগর বিএনপি নেতারা।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *