Home » শেষের পাতা » হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে সড়ক-মহাসড়কে চলছে চাঁদাবাজী

মহানগর বিএনপির দুর্বল কমিটিতে আওয়ামী লীগের পোয়াবার

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 28 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট  নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম। আর এতে করে আওয়ামীলীগ অনেক খুশি। কারণ এ দুর্বল ও মেরুদন্ডহীন কমিটিকে পরাস্ত করতে তাদের কষ্ট হবে না। অনায়াসে সামান্য ধাক্কা দিলেই এই কমিটি ধরাশায়ী হয়ে পড়বে। নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল কমিটি নির্বাচনের আগ মুহূর্তে গঠন করে দলকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে নেতৃবৃন্দরা এমন অভিযোগ বিএনপি একাধিক শীর্ষ নেতার। এর ফলে, নতুন কমিটিতে যতটা না বিএনপির লাভ হয়েছে, তার চেয়ে বেশী লাভ হয়েছে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের। সূত্র বলছে, মহানগর হিসেবে নারায়ণগঞ্জ স্বীকৃতি পাওয়ার পর দুইটি কমিটি পরিচালিত হয়েছে মহানগর বিএনপিতে। প্রথমটিতে কমিশনার জাহাঙ্গীর ও এটিএম কামাল ও দ্বিতীয়টি সাবেক এমপি আবুল কালাম ও এটিএম কামালের নেতৃত্বে। দুটি কমিটিই নারায়ণগঞ্জ শহরে বেশ পরিচিত এবং প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলো। বিশেষ করে ২০১৩/১৪ সালের দিকে যখন বিএনপি সক্রিয় আন্দোলন করছিলো তখন এই নেতৃবৃন্দরাই হয়ে উঠেছিলো ভরসার প্রতীক। ২০১৭ সালে নতুন কমিটি এলে কিছুটা ঝিমিয়ে যায় মহানগর বিএনপি। সেসময় অব্যহত মামলা ও গ্রেপ্তারের কারণে কিছুটা সরে থাকতেন নেতৃবৃন্দরা। ফলে সেভাবে মাঠে থাকতে দেখা যায়নি দলটির নেতাকর্মীদের। তবে পুরো কমিটিতেই ছিলো সুসংঘবদ্ধ একটি দল। যেখানে সকল বলয়ের সকল নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিলো বিদ্যমান। ফলে সেভাবে মনঃক্ষুন্ন হতে দেখা যায়নি কাউকে। কিন্তু নতুন কমিটি অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে মহানগর বিএনপিকে সবচেয়ে দুর্বল করে তুলেছে। এদিকে গত ১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় আলোচনায় উঠে আসে বিএনপির শক্তিমত্তা। প্রায় এক ঘন্টার মত সংঘর্ষ চালিয়ে যেতে দেখে হতবাক হয়েছেন অনেকে। কোন প্রকার অস্ত্র কিংবা পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই কেবল লাঠি আর ইট দিয়েই পুলিশকে নাজেহাল করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। পুলিশের অনবরত গুলি, টিয়ারশেলের সামনেও প্রায় ঘন্টা খানেক সংঘর্ষ চালিয়ে গেছে বিএনপি। পরে রায়ট কার নিয়ে আসা হলে সড়ক থেকে পিছু হটে দলটির নেতৃবৃন্দ। ক্ষমতার বাইরে প্রায় ১৪ বছর থেকেও এমন আগ্রাসী ভূমিকা ও শক্তিমত্তা দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই। খোদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও চিন্তায় পরেছিলেন বিএনপির এমন তান্ডবলীলা দেখে। গত ৫ বছর বিএনপির এমন চিত্র না দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন দুর্বল হয়ে পরেছে দলটি। কিন্তু সেই ভুল যেন ভাঙ্গতে মাত্র ১ ঘন্টা সময়েই ছিলো যথেষ্ঠ। বিএনপির বিপুল জমায়েতের চিত্র উঠে এসেছে দায়ের করা মামলতেও। একটি মামলা পাঁচ হাজার ও আরেকটি মামলায় ৯০০ আসামী দেখানো হয়েছে সেই সংঘর্ষের স্থলে। সেই সংঘর্ষের ১৫ দিন না যেতেই স্বস্তি ফিরেছে আওয়ামী লীগে। কারন মহানগর বিএনপিতে যেসব নেতাকর্মী কট্টর আওয়ামী বিরোধী হিসেবে পরিচিত, তাদের অধিকাংশই এবার কমিটিতে স্থান পায়নি। তার বদলে স্থান পেয়েছে যেসব নেতারা বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন দলের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন, আঁতাত করেছেন এমনকি কোটি টাকা সহায়তা নিয়েছেন এমন নেতারা। যেই কমিটির প্রধান দুই নেতা এমপির কাছ থেকে ২ কোটি টাকা নেয়ার বিষয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন, তাদের নিয়ে অন্তত আওয়ামী লীগের দুশ্চিন্তার কারণ নেই। কারণ এদের চাইলেই যেকোন সময়ে কিনে নেয়া যাবে। বিএনপির একটি সূত্র বলছে, বর্তমান কমিটি কোন না কোন ভাবে আওয়ামী লীগের প্রভাবযুক্ত মনে হচ্ছে। তা না হলে সব বিতর্কিত, নিস্ক্রিয় ও অযোগ্যদের স্থান একসাথে হয়না। যোগ্য হিসেবে যাদের চেনা যায় তারা ধারাবাহিক ভাবে পদত্যাগ করে যাচ্ছেন। ফলে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, এই কমিটি কোনভাবেই বিএনপির কর্মী বান্ধব নয়। নির্বাচন সামনে রেখে এমন কমিটি আওয়ামী লীগকে সুবিধা দিবে এবং বিএনপিকে ধংসের দিকে ঠেলে দিবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কথার সাথে কাজের মিল নেই। অর্থ বাণিজ্য করে কমিটি প্রনয়ন এবং দলকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে মহানগর বিএনপিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এর ফলে, আগামী ৩ বছর বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না এটা নিশ্চিত। অনতিবিলম্বে এই কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন করে শক্তিশালী কমিটি দেয়া প্রয়োজন। অন্যথায় যেই সাহসী উত্থান দেখেছিলো নগরবাসী সেটা আগামীতে আর দেখার সম্ভাবনা একেবারেই থাকবে না। উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালের পূর্বে নারায়ণগঞ্জে ছিল মহাকুমা বিএনপি কমিটি। সাংগঠনিক কার্য্যক্রম বৃদ্ধি কল্পে কেন্দ্রীয়ভাবে ১৯৯১ সালে বন্দরের কদম রসূল ও শহরকে একত্রিত করে এডঃ আবুল কালামকে সভাপতি এবং নাজির হোসেনকে সাধারন সম্পাদক করে মহানগর কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে এই কমিটি ভেঙ্গে তৈমুর আলম খন্দকারকে আহবায়ক এবং প্রয়াত রফিকুল ইসলামকে সাধারন সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় হাই কমান্ড নতুন কমিটি গঠন করে দেয়। মূলত সেই সময় থেকেই জেলা বিএনপির পাশাপাশি মহানগর কমিটি বেশ তৎপর হয়ে দলের পক্ষে কাজ করতে থাকে। বিশেষ করে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকালীন সময়ে তৈমুরের নেতৃত্বাধীন মহানগর কমিটিই ছিল শহরে সরব। এই সময়ে আওয়ামী বিরোধী আন্দোলনে জেলা বিএনপি তেমন কোন ভূমিকা রাখতে না পারলেও আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে মহানগর কমিটির আহবায়ক তৈমুর আলম খন্দকার, বিএনপি নেতা এম এ মজিদ, জামালউদ্দিন কালু, সুরুজ্জামান, হাজী শাহীন, নুরুল ইসলাম সরদার, আনিসুল ইসলাম সানি জেল হাজতবাস সহ আওয়ামী ক্যাডারদের চরম নির্যাতনের শিকার হয়। আর সে সময় আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের হাতে অন্তত ৫জন খুন হয়। ২০০১ সালে জোট সরকার ক্ষমতা লাভের পর ভেঙ্গে দেওয়া হয় মহানগর কমিটি। এর পর ২ বছরের মাথায় ২০০৩ সালের ১৭ আগষ্ট জেলা বিএনপির পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ পৌর (শহর) কমিটিও গঠন করা হয়। আবুল কালামকে পৌর (শহর) কমিটির সভাপতি ও প্রয়াত কমিশনার রফিকুল ইসলামকে সাধারন সম্পাদক করা হয়। কিন্তু এই পদ নীতিগত ভাবে মেনে না নিয়ে কমিটি ঘোষনার রাতেই ব্যক্তিগত কারন দেখিয়ে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি লাভের জন্য দলের চেয়ারপার্সন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে একটি অব্যাহতি পত্র ফ্যাক্স করেন। এরপর একই বছর সম্মেলনের মাধ্যমে জাহাঙ্গীর কমিশনার সভাপতি ও এটিএম কামাল সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখনকার সময়ে তারা দুইজন একসাথে কাঁধে কাধ মিলিয়ে দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা পালন করেছিলেন। পাশাপাশি দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথ থাকতো তাদের দখলে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে সভাপতি করে ও এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর আবার ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। নতুন করে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহবায়ক ও আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *