Home » শেষের পাতা » হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে সড়ক-মহাসড়কে চলছে চাঁদাবাজী

মহানগর বিএনপির ১৫ নেতার পদত্যাগের নেপথ্য

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১০:২০ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 37 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নবগঠিত আহবায়ক কমিটি থেকে ১৫ নেতার পদত্যাগের পিছনে নাটের গুরু হলেন বিএনপির বহিস্কৃত নেতা এড. তৈমূর আলম খন্দকার এমন অভিযোগ শাখাওয়াত পন্থিদের। তৈমূর আলমের ইশারা ও ইঙ্গিতেই এসকল হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।  নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে একটি ব্যর্থ ও অকার্যকর করতে ধ্বংসের কারিগর হয়ে মেতে উঠেছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। যদিও তৈমুর আলম খন্দকার বর্তমানে বিএনপির কোন কমিটিতে নেই। নিজের পাল্লা ভারী করতেই সদ্য ঘোষিত মহানগর বিএনপির কমিটির ১৫জন নেতাকে পদত্যাগ করান তৈমূর আলম। বিএনপির শিবিরে এমনটাই আলোচনা হচ্ছে। জানাগেছে, গত রোববার ছিলো দেশব্যাপী বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি। বিকেল তিনটায় চাষাঢ়া শহীদ মিনারে মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। নতুন কমিটির জন্য এটি ছিলো একটি চ্যালেঞ্জিং কর্মসূচি। এইদিন বিকেলে  তৈমূর আলম খন্দকারের মাসদাইরের বাড়িতে হঠাৎ করে নাম মাত্র জেলা ওলামা দলের সভাপতি মুন্সী শামসুর রহমান বেনু ও নিহত যুবদল নেতা শাওনের জন্য দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মহানগরের নতুন কমিটির নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে বিএনপির বহিস্কৃত নেতা তৈমূর আলম।  বৈঠক শেষে মহানগর বিএনপির নতুন কমিটির ১৫ জনের পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ান তিনি। এবং তাদের সবার কাছ থেকে পদত্যাগ পত্রের স্বাক্ষরও নেন তৈমূর আলম। তাদের পদত্যাগ পত্র কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন এমনটাই জানাগেছে। পদত্যাগকারী নেতারা হলেন- মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সর্বশেষ কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী নুরুদ্দিন, আতাউর রহমান মুকুল, আবুল কাউসার আশা, সদস্য এড. বিল্লাল হোসেন, আলমগীর হোসেন, শহিদুল ইসলাম রিপন, আমিনুল ইসলাম মিঠু, মনোয়ার হোসেন শোখন, ফারুক হোসেন, হাজী ফারুক হোসেন, হান্নান সরকার, আওলাদ হোসেন, এড. আনিসুর রহমান মোল্লা, এড. শরীফুল ইসলাম শিপলু। সেই মিটিংয়ে বক্তব্যে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা তৈমূর আলম খন্দকার বলেছিলেন, স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই বিএনপি করতে হলে এই নারায়ণগঞ্জে আমাদের লাগবে। যদি বিএনপির গণজোয়ার আনতে হয় আমাদের লাগবে। আমরাই বিএনপির গণজোয়ার সৃষ্টি করেছি। আমাদের গায়ের রক্ত কি ঝড়েনি। আজ তারা বড় বড় কথা বলে যারা দুই কোটি টাকার অভিযোগ এনেছিল তারা এখন নেতা আর আমরা হয়ে গেছি অবাঞ্ছিত। তিনি আরও বলেন, আমাকে যেদিন বহিষ্কার করা হয় সেদিনও বলেছি বিএনপির একচুল বিরোধীতা আমি করব না। আমার মনে কষ্ট রয়েছে। সেটা হল বিএনপি আমাকে ২০১১ সালে আমাকে নমিনেশন দিয়ে বসিয়ে দিয়েছে। ভাল, তবে এটা আমার আগে আমার বিরোধী প্রার্থী কিভাবে জানে। এবারও আমি বহিষ্কার হবো তা আমার বিরোধী কিভাবে জানে। আমি যতদিন বেঁচে আছি বিএনপির জন্য করে যাবো। তৈমূর আরও বলেন, আমার জীবনে অনেক ভুল আছে। সে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বলতে চাই নির্বাচনে আপনারা আমার জন্য অনেক করেছেন। নির্বাচনের সময় বন্দরে একটা ছেলে আমাক বলে নুরুদ্দিন হাজী ও মুকুল চেয়ারম্যান যেদিন থেকে একসাথে হাটা শুরু করেছে সেদিন থেকে আমাদের বুকটা বড় হয়ে গেছে। নির্বাচনে যাই হোক বিএনপির রুপ পরিবর্তন হয়ে গেছে। একটা কমিটি এসেছে। তাদের উচিত ছিল যারা আন্দোলন সংগ্রাম করে যারা বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছে ধরে রেখেছে তাদের শরণাপন্ন হওয়া। তার পরিবর্তে আমরা পত্রিকায় দেখলাম দুই পরিবারের যুগের পরিসমাপ্তি। আমি প্রশ্ন রাখতে চাই আমরা তো সকলে পরিবারভুক্ত। বিএনপি নামক গাছটিকে তাজা করতে তারা কি পানি ঢালেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদত্যাগকারীদের বেশ কয়েক জন নেতা জানান, মহানগর বিএনপির নতুন আহবায়ক কমিটিতে বাদ দেয়া হয়েছে রাজপথের নেতাদের যারা বিগত কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। অনেক সিনিয়র নেতাদেরও বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা সম্মান দিয়ে মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি এড. আবুল কালাম সাহেবকেও এক নাম্বার সদস্য রাখতে পারতো কিন্তা তা রাখেনি। বিএনপির প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদেরকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। সাখাওয়াত ঠিক আছে কিন্তু টিপুর নেতৃত্বে আমরা রাজনীতি কিভাবে করবো। সে তো আর সেই পর্যায়ের নেতা নয়। তার বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের অনেক অভিযোগ। সে একজন সুবিধাবাদী নেতা। তারা আরও বলেন, অভিমান করেছি আমরা ঠিক আছে কিন্তু আমরা পদত্যাগ করতে চাইনি। আমাদের জোর করে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। আর তার নেপথ্যের কারিগর হলেন তৈমূর আলম ও আতাউর রহমান মুকুল। তারা দুই জনেই কমিটি গঠনের পর থেকে সবাইকে ফোন করে ও মিটিং করে পদত্যাগ করতে বলেন। এ বিষয়ে আমরা নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় পাঁচদিন ধরে মিটিং করেছি। সর্বশেষ গত রবিবার আমরা তৈমূর আলমের মাসদাইরের বাসায় মিটিং করে অনুষ্ঠানিক ভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেই। এই কমিটি থেকে যদি আমরা সবাই পদত্যাগ করি তাহলে বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং সামনে আবারও নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন করা হবে। আর সেই কমিটিতে আমাদের সবাইকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। আর যদি নতুন কমিটি না হয় তাহলে আমরা পাল্টা কমিটি গঠন করবো। কালাম পরিবার ও খন্দকার পরিবার বাদ দিয়ে নারায়ণগঞ্জে বিএনপিতে আর কোনো কমিটি হবেও না আর হতে দেওয়া হবে। এ অভিযোগের বিষয়ে তৈমূর আলম খন্দকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি রাজপথের নেতা, নেতাকর্মী তো আমরা বাড়িতে আসবেই। আসতে তো আর বাধাঁ নাই কারও। যদি কেউ অভিযোগ করে আমরা বাড়িতে এসে মহানগর বিএনপির নেতারা পদত্যাগ করেছে তাহলে করুক। তাতে আমার কিছু আসে যায় না।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *