Home » প্রথম পাতা » রূপগঞ্জ ভ’মি অফিসে অনিয়মই যেন নিয়ম

মাদকের কবলে শ্রমিকরা

২১ মে, ২০২২ | ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 52 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

কাঙ্খিত বস্তু চাইলেই দিয়ে দিচ্ছে, লিখে রাখছেন বাকির খাতায়। তবে, মাস শেষ হতেই পরিশোধ করতে হবে বকেয়া টাকা! না মুদি পণ্য কিংবা কাঁচা সবজির বাজারের কথা বলা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে-বাংলাদেশে নিষিদ্ধ গাঁজা ও ইয়াবার মতো ভয়ঙ্কর মাদকের বেচা-বিক্রির কথা। শিল্প অধ্যুষিত ফতুল্লার বিসিক গার্মেন্টস পল্লির সন্নিকটে দুটি বৃহৎ রপ্তানীমূখি তৈরী পোষাক কারখানা সাথের এলাকায় শ্রমিক টার্গেট করে এমন ‘বিশেষ সেবা’ চালু করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাড়াইভোগ এলাকায় গড়ে ওঠা কয়েকটি বাস ডিপোর আড়ালে লুকিয়ে এমন কাজ করছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী অসাধু লোক ও মাদক ব্যবসায়ীরা। আর স্থান গুলোকে ঘিরে প্রায়ই ঘটছে ছিনতাই কিংবা নারী শ্রমিকদের উত্যক্ত করার মতো সামাজিক অপরাধ। বাড়ছে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার শঙ্কা। তবে, সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ বলছে, ‘এ সবের কিছুই জানা নেই’। দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সবচেয়ে জোড়ালো ভূমিকা রাখছে তৈরী রপ্তানী পোশাক। তাঁর বড় একটি অংশ যায় ফতুল্লার বিসিক শিল্প এলাকা থেকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ শ্রমিক ফতুল্লায় এসে পোশাক শিল্পের পাশাপাশি অর্থনীতির চাকা ঘুড়ান। সেই শ্রমিকদের থাকা খাওয়ার সুবিধার্থে বহু আগেই গড়ে উঠেছে বাসা ভাড়া আর দোকান বাকির সুবিধা। এবার এ সুবিধার পাশা-পাশি মাদককারবারিরা ভয়ংকর সুবিধা নিয়ে হাজির। এলাকা গুলো ঘুরে মাসিক বাকিতে মাদক বেচা-বিক্রির এমন ‘বিশেষ সেবা’র তথ্য পেয়েছে সাংবাদিকরা। এলাকাটি খাতা কলমে ‘এনায়েতনগর ইউনিয়ন’ হলেও ৭নং ওয়ার্ডের বাড়াইভোগ এলাকায় প্রবেশ করতেই মনে হবে গিঞ্জি শহর। বাড়ি, শিল্প কারখানা আর আবাসিক ভবনে একাকার অবস্থা। এখানেই অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ পোশাক শিল্পের প্রতিষ্ঠান ফকির গার্মেন্টস ও ফারিয়া গার্মেন্টস। এ গার্মেন্টস দু’টির শ্রমিকসহ বিসিক শিল্প এলাকার শ্রমিকদের ঘিরে এলাকাটির ৩টি স্পটে গড়ে উঠেছে ৩টি দুরপাল্লার বাস কাউন্টার ও বাস ডিপো (বাস স্ট্যান্ড)। আর এই ডিপো ঘিরেই চলে মাদকের ওই বিশেষ সেবা। প্রায়ই বসে জুয়ার আসরও। অভিযোগ পাওয়া যায় প্রতিনিয়ত ছিনতাই ও নারী শ্রমিকদের উত্যক্ত করা সহ নানা হয়রানির। ৩টি স্পটে গড়ে উঠা ৩টি দুরপাল্লার বাস কাউন্টার, যার মধ্যে ২টি কাউন্টারের সাথেই রয়েছে বাস ডিপো, অপর আরেকটি কাউন্টারের ডিপো ওই এলাকায় অবস্থিত ফারিয়া ও ফকির গার্মেন্টস এর মধ্যকার রাস্তা দিয়ে সামান্য ভেতরে। প্রতিটি বাস রাখতে দৈনিক ৪০০-৫০০টাকা করে দিতে হয় জমির মালিকদের। গার্মেন্টস শুরু ও ছুটি সময়ে ওই রাস্তা দিয়ে প্রায় অর্ধ লক্ষাধীক শ্রমিক যাতায়েত করে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশাল এক মাদকের স্পট গড়ে তুলেছে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, ফারিয়া ও ফকির গার্মেন্টস এর আশেপাশের বাস ডিপো ও দোকান গুলোতে সাধারণ মানুষের মতোই চলাফেরা করে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা। তাদের মূল লক্ষ্য গার্মেন্টস শ্রমিক। দৈনিক হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিকদের হাতে তুলে দিচ্ছে গাজাঁ, ইয়াবার মতো মাদক। শুধু তাই নয় স্থানীয় বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবকদের হাতে ছিনতাই এর শিকার হচ্ছে গার্মেন্টস শ্রমিকরাও। বিশেষ করে, মাস শেষে বা সাপ্তাহিক বেতরেন দিন এ মাত্রা বেশি। স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, প্রতিনিয়তই এই বাস গুলোর আড়ালে চলে মাদক ব্যবসা। যদিও এই বাস গুলোর কারনে এই এলাকায় জ্যাম লেগেই থাকে তবুও স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারনে বন্ধ করা যায়না এই বাস কাউন্টার, পাশাপাশি বন্ধ হয়না এই মাদক বিক্রি। ‘বাস ডিপো গুলো কার বা কারা এই বাস গুলো এইখানে রাখতে দেয়?’ এমন প্রশ্নের উত্তরে স্থানীয় একজন জানান, বাস গুলোর মালিক তো অনেকে। তবে বাস গুলো যেই স্থানে রাখা হয় সেই জমি গুলো স্থানীয়দের। তাদের মধ্যে একজন হলো মো. আলাউদ্দিন মহাজন। এই এলাকার আরও কয়েকটি স্থানে রয়েছে তার জমি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মো. আলাউদ্দিন মহাজনকে অনেকে ইদা মহাজন বা ইটা মহাজন বলে চিনে স্থানীয়রা। ওই এলাকার অন্যতম প্রভাবশালীদের মধ্যে তারও নাম উঠে আসে। ফারিয়া ও ফকির গার্মেন্টস এর মধ্যকার রাস্তা দিয়ে সামান্য ভেতরে অবস্থিত জায়গায় তার বিশাল বাস ডিপো। ফারিয়া ও ফকির গার্মেন্টস এর মধ্যকার রাস্তা দিয়ে সামান্য ভেতরে হওয়াতে, ওই অংশটি নির্জন থাকে অন্যান্য সময়। সুযোগটা তাই কাজে লাগায় তারা। স্থানীয় ও বৃহৎ দুই শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অভিযোগ, রাতে বাস-স্ট্যান্ড (ডিপো) এ বাসে বসে-ই মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে অনেকে। প্রায় সময় দেখা যায় এ দুই শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরাও মাদক সেবনে, অনেকে-ই নতুন নতুন আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে। এছাড়া উক্ত এলাকার স্থানীয় তরুন ও কিশোররাও মাদক সেবন ও অনৈতিক কার্যকলাপে জরিয়ে যাচ্ছে। যখন বেশী রাতে প্রতিষ্ঠান দুটির শ্রমিকদের ছুটি হয়, তখন প্রায় সময়ই শ্রমিকরা ছিনতাই এর কবলে পড়ে তাদের মোবাইল, টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস হারাচ্ছে। মেয়েরা ইভ-টিজিংসহ হয়রানীর শিকার হচ্ছে। এছাড়া আবাসিক এলাকার মধ্যে দিয়ে বানিজ্যিক বাস চলাচলের কারনে এখানে প্রায় সময়ই যানজট লেগে থাকে এবং অনেকেই দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। প্রতিবেদকদের কাছে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বাসের স্ট্যান্ড ভাড়া দেয়া হয়েছে। এখানে থাকা মালিকসহ বিভিন্ন স্টাফরা প্রতিদিন ইয়াবা, হিরোইন, গাঁজা ও মদ সেবন করে এবং জুয়ার আসর বসায়। এখানে সন্ধ্যার পর হতে মাদক বিক্রি হয় এবং প্রচুর লোকের সমাগম হয়। জায়গাটি নির্জন হওয়ায় নির্বিঘেœ মাদক বিক্রি করে। শিল্প প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য নারী শ্রমিক রয়েছে। তারা প্রতিনিয়ত সন্ধ্যার পর এ দিকে যাতায়াতের সময় ইভটিজিং এর শিকার হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদক সেবী জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলও এই মাদক বিক্রির টাকা পায়। এই টাকার ভাগ থেকে বাদ যায় না রাজনৈতিক দলের নামধারী নেতারাও। তবে, ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ রিয়াজুল হক দিপু জানান, আমি এই থানায় নতুন যোগদান করেছি, তাই এইসব বিষয়ে আমার জানা নেই। তবুও আমি এই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখবো। এলাকার কিশোর-তরুন ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মাদকসহ নানা অপরাধ থেকে দূরে রাখতে, এবং এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ওই বাস স্ট্যান্ড (ডিপো)সরিয়ে নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সবাই। একই সাথে অচিরেই বাস মালিক, ডিপো মালিকসহ মাদক অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানান এলাকাবাসী। তারা জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *