আজ: শনিবার | ১১ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২৭শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী | সন্ধ্যা ৭:২৬
শিরোনাম: মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমানের স্মরণ সভায় সেলিম ওসমান আমাদের রাজনীতি ‘নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন     মেয়রকে সেলিম ওসমান ‘আমাদের প্রয়োজন এক টেবিলে আলোচনায় বসা’     স্পটে স্পটে চলছে মাদক ব্যবসা     সোনারগাঁয়ে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দোয়া মাহফিলে এমপি খোকা তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দোয়া করি     নারায়ণগঞ্জে হাট না বসানোর পরামর্শ     সোনারগাঁয়ে তিন কর্মকর্তার বদলী     বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে প্রথম রুহুলকে ছাত্রলীগের সংবর্ধনা     শীর্ষ নেতারা নিশ্চুপ-সুবিধাবাদীরা বেপরোয়া     গঞ্জেআলী খাল উদ্ধারে স্বস্তিতে এলাকাবাসী     নারায়ণগঞ্জে পুরনো রূপে গণপরিবহন    

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

মাদকের ট্রানজিট রুট ‘নারায়ণগঞ্জ’

ডান্ডিবার্তা | ১৯ মার্চ, ২০২০ | ৯:৫৩

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে মাদকের গডফাদাররা গ্রেফতার না হওয়ায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন অসম্ভব হঢেয় উঠছে। দিন যতই যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ মাদক বিক্রির হার তত বাড়ছে। সম্প্রতি মাদকের এক গডফাদার গ্রেফতার হলেও তাকে ৫৪ ধারা আদালতে পাঠানো হওয়ার পর থেকে নারায়ণগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীরা অনেকটা নিশ্চিন্তে রয়েছে। দেশের সিমান্তবর্তী এলাকা থেকে সরাসরি নারায়ণগঞ্জে মাদকের চালান প্রবেশ করছে। আর সেই চালান থেকে নারায়ণগঞ্জের চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলায় চলে যাচ্ছে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে। সম্প্রতি কালে র্যাবের অভিযানে ইয়াবার বড় বড় চালানসহ ব্যবসায়ী গ্রেফতারের মধ্যদিয়ে তার অনেকটা প্রমাণ মিলেছে। যদিও গ্রেফতার কৃত অধিকাংশরা মূল ব্যবসায়ী ছিলেন না। তাই বরাবরই মাদকের মূল ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের মতে নারায়ণগঞ্জ হচ্ছে রাজধানীতে মাদকের প্রবেশদ্বার। যার সুবাদে সারা নারায়ণগঞ্জের অলি গলিতে ব্যাপকহারে মাদক ব্যবসা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো জেলায় খুচরা বিক্রেতার সংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও এদের ‘গডফাদার’ বা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা কম করে হলেও সারা জেলাতে ৫ শতাধিক রয়েছে। যে কারনে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এখানকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এ পর্যন্ত ক’জন গডফাদার বা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করতে পেরেছেন? এদিকে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন শেনী পেশার মানুষ মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন। যারা সাধারণ আইনশৃংখলা বাহিনীর সন্দেহের বাইরে থাকেন তারাই এই পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন! বিভিন্ন পেশার মানুষ এভাবে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও সমাজকর্মীরা। এদিকে জেলায় মহামারি আকারে ধারন করেছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকসামগ্রী। স্কুল-কলেজের সাধারন ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে গৃহবধূ-এমনকি বিভিন্ন শ্রেনীপেশার লোকজনও ইয়াবাসহ মাদকসামগ্রী সেবনের ফলে মানষিকভাবে বিপদগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন জনপ্রতিনিধি মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদের ঘোষনা দিলেও মাদক নিমূল করতে পারছেন না। তবে জেলা পুলিশ প্রশাসনও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হচ্ছে গুটি কয়েক মাদক ব্যবসায়ী। আর ধরাছোয়ার বাইরে থাকছে মাদক ব্যবসার গডফাদাররা। গত একমাসে নারায়ণগঞ্জের মাদক বিস্তার ও এর সাথে জড়িতদের সর্ম্পকে জানার জন্য গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে আলাপের পর ব্যাপক অনুসন্ধানে এই প্রতিবেদক মাদকের সাথে জড়িতদের সর্ম্পকে যে তথ্য পেয়েছেন তা শুধু ভয়াবহই নয় নারায়ণগঞ্জকে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট। ইয়াবার সব বড়চালান মিয়ানমার সীমান্ত হয়ে বিভিন্নভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে প্রবেশ করে। মাদক প্রবেশে মূল ট্রানজিটরুট মূলত নারায়ণগঞ্জ। মায়ানমার সীমান্ত থেকে কক্সবাজার হয়ে কুমিল্লাসহ বিভিন্নস্থান দিয়ে সোনারগাঁ হয়ে কখনো সরাসরি রাজধানী আবার কখনো বন্দর দিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহর হয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সামগ্রী রাজধানীতে প্রবেশ করে। কোটি কোটি টাকার এই ব্যবসার সাথে যেসব রাগববোয়ালরা জড়িত তাদের চিহ্নিত করাতো দূরে থাক তাদের সংশ্লিষ্টতা সর্ম্পকে আইনশৃংখলা বাহিনী চিন্তা পর্যন্ত করতে পারে না। ভারত থেকে ফেন্সিডিলও সিমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করছে। এদিকে, নারায়ণগঞ্জের মাদক ব্যবসা, শেল্টারদাতা, নিয়ন্ত্রন দাতারা গোয়েন্দা সংস্থার নজরে রয়েছে বলে জানাগেছে। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, শহরের চাষাড়া, দেওভোগ, খাঁনপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, বন্দর, সোনারগাঁসহ জেলার ৭টি থানা এলাকায় ব্যাপকভাবে বিস্তর লাভ করেছে মাদক। মাদক ব্যবসায়ীরা অনেকটা প্রকাশ্যেই মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। তরুন যুব সমাজ থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত মাদকের ভয়াল থাবার স্বীকার হচ্ছে। ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে সকল শ্রেনী পেশার মানুষ। অভিযোগে রয়েছে, মাদকের সাথে জড়িত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে অধিকাশরাই পুলিশের সোর্স। তাই ইতিমধ্যে সোর্সদের বিরুদ্ধে কড়া হুশিয়ারী দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *