আজ: সোমবার | ১লা জুন, ২০২০ ইং | ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৯ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী | সকাল ১০:৪৩

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দাতারা অধরা

ডান্ডিবার্তা | ০৩ আগস্ট, ২০১৯ | ৫:৩৩

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জকে মাদক মুক্ত করতে জেলা জুড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। তবে মাদক ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকলেও কোন ভাবেই মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না। টাকা হলেই হাতের নাগালে পৌঁছে যাচ্ছে গাঁজা, মদ, ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্য। মাদকের এ ভয়াবহ ছোবলে ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজ। মাদকের নেশায় ল-ভ- হচ্ছে নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত পরিবার। মাদকের ছোবলে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দেয়ায় বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে মাদকের সয়লাব। এছাড়াও মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দেয়াসহ ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা সরাসরি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। তাই নারায়ণগঞ্জে মাদক নিয়ন্ত্রন করাটা প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের নবীগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকা থেকে ডিবির একটি টিম নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারী সাইফউদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধানকে আটক করে। ওই সময়ে দুলাল সহ ৬জনকে আটক করা হয় যাদের সঙ্গে ফেন্সিডিল পাওয়া গেছে। এছাড়াও মাদকসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান। ফতুল্লায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় রয়েছে স্বেচ্ছা সেবকলীগ নেতা মীর হোসেন মীরু। মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজামের অনুসারি কথিত যুবলীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চুন্নুকে গত ২০ এপ্রিল অস্ত্র ও ৫০০ শ’ পিস গ্রেপ্তার করেছিল ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এছাড়াও ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছা সেবকলীগের সভাপতি ফরিদ আহাম্মেদ লিটন মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত বলে জানাগেছে। ২০১৫ সালে নারায়ণগঞ্জে মাদকের সাথে জড়িত এমন ২২ পুলিশ সদস্য ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে জমা দিয়েছিল বিশেষ একটি গোয়েন্দা সংস্থা। যা ঐ সময় স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকগুলোতে সাংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ঐতালিকায় রাজনৈতিক নেতাদের তালিকায় বেশ কয়েক জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তালিকায় ছিল, তৎকালীন ১৮নং ওয়ার্ড কাইন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু, ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল, সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজনের নাম। এছাড়াও ক্ষমতাসীন দলের যে সকল নেতারা বিভিন্ন সমাবেশে মাদক বিরোধী কড়া কড়া বক্তব্য দিলেও তার সন্তানরাই মাদকের সাথে জড়িত। ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীর পুত্র হৃদয় র‌্যাবের হাতে ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার হয়েছিল। এর কিছুদিন পরই ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফুল্লাহ বাদলের পুত্র মাদকসহ ডিবি আটক করেছিল। কিন্তু তাৎক্ষনিক ভাবে বিশেষ তদবিরে মুক্তি পান বাদলের পুত্র নাজমুল আলম সাজল। এছাড়াও মাদক ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে শেল্টার দেয়ার অভিযোগ রয়েছে ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল, মীর সোহেল, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি, কৃষক লীগ নেতা জিললুর রহমান লিটন, মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলালসহ বেশ কয়েকজন নেতা। অনুসন্ধানে জানাগেছে, মাদক ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও কথিত পুলিশের প্রশ্রয়ে দেদার চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম। মাদকের বড় বড় চালান ট্রেন, লঞ্চ, বাসেসহ বিভিন্ন উপায়ে মাদক ডিলারদের আস্তানায় ঢুকছে। ডিলারদের আস্তানা থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে মাদক। আর নেশার টাকা জোগাতে এলাকায় বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, খুনসহ বাড়ছে নানা অপরাধ। সম্প্রতি জেলার সাতটি থানায় যে কয়জন মাদক ব্যবসায়ী তারা সবাই তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণীর মাদক ব্যবসায়ী। মাদকের গডফাদাররা এখনো রয়েছে অধরা। তবে নারায়ণগঞ্জ থেকে মাদক ণির্মূল করতে হলে আগে মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে সচেতন মহলের দাবী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *