Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

মামলা ও গ্রেফতার আতঙ্কে বিএনপি

২৪ নভেম্বর, ২০২২ | ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 38 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট বন্দরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় দৃষ্টি ঘুরেছে রাজনীতিকদের। হঠৎ করেই যেন পুরো প্রেক্ষাপট ফিরে গেলো অন্তত ৭/৮ বছর পূর্বে। দলীয় কার্যালয়ে হামলা এবং একটি থানার শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুরো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দাঁড় করিয়ে দেয়া হলো জেলাজুড়ে। এই ঘটনার পর পুরো জেলাতেই বিএনপির নেতাকর্মীরা মামলার আতংকে রয়েছেন। তবে বিষ্ময়কার ভাবে এই ঘটনায় কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। তবে গতকাল বুধবার বন্দরে একটি প্রতিবাদ সভা করে আওয়ামীলীগ আর মামলা হওয়ার পর মহানগর বিএনপির একাংশ পএকদির প্রতিবাদ জানালেও আর কোন বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় কোন নিন্দা বা প্রতিবাদ আসেনি মহানগর ও জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে। এমনকি ব্যক্তি পর্যায় থেকেও কোন নিন্দা বার্তা আসেনি। রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ হিসেবে দলের বিপরীতে কোন ঘটনা ঘটলে তাঁৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে থাকেন নেতারা। কিন্তু এক্ষেত্রে নীরব থাকায় প্রশ্ন উঠেছে বিএনপির দলীয় অবস্থান নিয়ে। শুধু তাই নয়, নিজেদের দলীয় কার্যালয় হামলার শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রতিবাদ বা নিন্দা জানায়নি নারায়ণগঞ্জ মহানগর, জেলা কিংবা বন্দর থানা আওয়ামী লীগ। এমনকি আওয়ামী লীগের ব্যক্তি পর্যায় থেকেও আসেনি কোন নিন্দা বার্তা। পুরো ঘটনাই যেন ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রেখেছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতারা। অথচ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা হয়েছে পুরো জেলা জুড়ে। কারন, বিএনপি দাবী করছেন এমন কোন ঘটনা না ঘটিয়েও মিথ্যা মামলায় আসামী করা হয়েছে তাদের। ফলে একই ভাবে অন্যান্য থানা বা ওয়ার্ডেও তাদের নামে মামলা হতে পারে। ঘটনার পর রোববার বিএনপির বিদ্রোহী কমিটির নেতারা এই ঘটনার ব্যাখ্যা দাঁড় করান। সভায় বিএনপি নেতা এ্যাড. জাকির হোসেন বলেন, বিএনপির এই দু:সময়েও দুই দিন আগে বন্দরে প্রায় ২শতাধিক অন্য দলের নেতাকর্মীরা আতাউর রহমান মুকুলের নেতৃত্বে আমাদের দলে যোগদান করেছে। সেই কারণেই ক্ষমতাসীনদের গায়ে লেগেছে। তাই তারা কর্মসূচী চলাকালে বন্দরে আওয়ামী লীগ অফিসে নাকি আগুন দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগ আনলো। অথচ বন্দরের কেউই দেখলো না কিন্তু একটি গায়েবি মামলা হয়ে গেলো। সেখানে আমাদের নেতা আতাউর রহমান মুকুলকে প্রধান আসামী করে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়ে গেছে। আমরা এই মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ১৪ বছর মামলা, হামলা, জেল জুলুম করে বিএনপি নেতাদের রাজপথ থেকে সড়াতে পারেনি আওয়ামী সরকার। কারন বিএনপির নেতাকর্মীরা ভয় পায়না এই মিথ্যা মামলা ও হামলায়। একই দিন মহানগর বিএনপির মূল নেতারা হোসিয়ারি সমিতিতে কর্মসূচী পালন করলেও এই মামলা নিয়ে কোন শব্দই উচ্চারন করেননি। ফলে প্রশ্ন জেগেছে আদৌও এই ঘটনাকে রাজনীতিক ঠিকভাবে গ্রহন করেছেন কিনা। একদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে নীরব অবস্থান, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও নীরব অবস্থান। ফলে কোন দিকে গড়াচ্ছে বন্দরে দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনা সেটি এখন দেখার বিষয়। সংশ্লীষ্টরা বলছেন, দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনা আওয়ামী লীগ এত হালকাভাবে দেখবে সেটা যেমন বিষ্ময়কর। তেমনি ৫৫ জনের নামে মামলা হয়ে যাবার পরেও বিএনপির মূল দলে থাকা নেতাদের নীরব থাকাটাও প্রশ্নের উদ্রেগ করে। এভাবে নিজেদের মধ্যে বিভাজন করে কে কতটা পিঠ বাচিয়ে রাখতে পারবেন সেটা প্রশ্ন থেকে যায় কর্মীদের মাঝে। কারন বিপদে পড়লে সবার আগে ভুক্তভোগী হন কর্মীরাই। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করেন ছাত্রলীগ কর্মী সোহাগ। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয় ৪ বিএনপি নেতা। মামলা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আতাউর রহমান মুকুল সহ ২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে ৩০ জনকে। অভিযোগে বলা, উল্লেখিত বিএনপির নেতাকর্মীরা কয়েকদিন ধরেই ১০ ডিসেম্বরে সমাবেশকে ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তাদের সাথে যুক্ত হতে বলে। সেই কথা না শুনলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। বিষয়টি মৌখিকভাবে প্রতিবাদ করি। এই ঘটনার জের ধরে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় বিবাদীরা সহ অজ্ঞাত ২৫/৩০ জন আসামী দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে কার্যালয়ে হামলা চালায়। অফিসের চেয়ার টেবিল ভেঙ্গে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে। এছাড়া আমাদের তিন নেতাকর্মীকে মারধর করে নগদ ৫০ হাজার ও ৫২ হাজার টাকার মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে ১০ ডিসেম্বর সমাবেশে যোগদিতে হুমকি ধামকি দিয়ে তারা চলে যায়। তবে ঘটনার পরপরেই গণমাধ্যমের কাছে অজ্ঞাত ৩ মুখোশধারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা আঙ্গুর। তিনি বলেছিলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যায় কবিলের মোড়ে অবস্থিত ২৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কার্যালয়ে রিক্সাযোগে তিনজন মুখোশধারী প্রবেশ করে। তারা ভেতর থাকা চেয়ার ও দলীয় প্রধানদের ছবি ভেঙ্গে ফেলে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।’ মামলার পুর্বে এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আতাউর রহমান মুকুল বলেন, ‘আমাদের কি সাহস আছে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করবো? এটা কেউ বিশ্বাস করবে? ওরা নিজেরাই ভাঙচুর করে আমাদের উপর দোষ দেয়। আমাদের নামে মামলা দেয়ার জন্যেই এই কাজ করে। সারাদেশেই ভাঙচুর জ্বালাও পোড়াও করে বিএনপির নামে দোষ দেয়া হচ্ছে। এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়।’

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *