Home » প্রথম পাতা » রূপগঞ্জ ভ’মি অফিসে অনিয়মই যেন নিয়ম

মিলনায়তনে বন্দি বিএনপি

২২ নভেম্বর, ২০২১ | ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 137 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির বছর পূর্ণ হতে আর বেশি বাকি নেই অথচ এই এক বছরে তাদের অর্জনের খাতা পুরোপুরি শূন্য। জেলা বিএনপি’র আহবায়ক অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার ও সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদের নেতৃত্বাধীন আহ্বায়ক কমিটি এ পর্যন্ত শুধুই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আর এজন্য জেলা বিএনপি’র শীর্ষ দুই নেতাকেই দায়ী করছেন তারা। ক্ষোভের সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, তৈমুর আলম খন্দকারের নিজস্ব বাসভবন মজলুম মিলনায়তনের বিভীষিকায় বন্দি হয়ে আছে জেলা বিএনপি ভাগ্য। সেখান থেকে বের হতে না পারলে মুক্তি মিলবে না নেতাকর্মীদের। জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জানুয়ারি ঘোষণা করা হয়েছিলো নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটি। কথা ছিলো তিন মাসের মধ্যে জেলা বিএনপি’র আওতাধীন পাঁচটি থানা এবং পাঁচটি পৌরসভার কমিটি গঠন করে সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। কিন্তু তিন মাসের জায়গায় প্রায় ১১ মাস অতিবাহিত হতে চললেও এখনো দেখা নেই কোন ইউনিট কমিটির। বরং ইউনিট কমিটি গঠন করতে গিয়ে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের মাত্রা এতই বেশি যে কেন্দ্রীয় নেতারাও সমাধান করতে না পেরে লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই দফা বৈঠকেও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির চলমান দ্বন্দ্ব নিরসন করতে পারেনি কেন্দ্রীয় দুই নেতা। সর্বশেষ ২৯ আগস্ট তৈমূর ও মামুনকে নিয়ে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির দুই সহসাংগঠনিক। টানা তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বৈঠকেও কোনো সমাধান আসেনি। এদিন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আব্দুস সালাম আজাদ ও শহিদুল ইসলাম বাবুল হাইকোর্ট এলাকায় তৈমূর আলমের চেম্বারে বৈঠকে বসেন তৈমূর এবং মামুনকে সাথে নিয়ে। এসময় সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। তিনটার থেকে শুরু হওয়া বৈঠক চলে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত। তবে, কোনো রকম সমাধানে করতে পারেনি কেন্দ্রীয় ওই দুই নেতা। সূত্র জানায়, ইতিপূর্বে দীর্ঘসময়ের জন্য জেলা বিএনপি’র সভাপতি ছিলেন অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। সেসময়ে সীমাহীন কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আর এসব কিছুই করতেন তিনি তাঁর নিজের বাসায় বসে, যে বাড়ির নাম দিয়েছেন মজলুম মিলনায়তন। তৈমূরের নিজ বাসভবনকে কথিত ‘মজলুম মিলনায়তন’ নাম দিয়েছিলেন তিনি নিজেই আর এখানেই পদ পদবীর বাজার বসাতেন তৈমূর। সেই বাজারে হাদিয়ার বিনিময়ে নিলাম হতো জেলা বিএনপির বিভিন্ন পদ পদবী, যার সামর্থ থাকতো সে কিনে নিয়ে গিয়ে নাক ডেকে ঘুমাতো আর যাদের সে সামর্থ ছিলো না তারা রাজপথে জীবন দিয়ে দিলেও মন গলতো না তৈমূরের, থাকতে হতো বঞ্চিত। আর তাই আবারো সেই মজলুম মিলনায়তনের বিভিষিকায় ফিরতে চাননা নির্যাতিত নিপিরিত বিএনপি নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, তৈমূরের তথাকথিত সেই মজলুম মিলনায়তনের চারদেয়ালে বন্দি হয়ে গেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাগ্য। যারা হাদিয়া দিতে পারবেন তারাই থাকবেন নেতৃত্বে, হোক সে বিতর্কিত কিংবা নিস্ক্রিয়। ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোন মূল্যায়ন নেই তৈমূরের কাছে। তিনি রাজনীতি করেন টাকা কামানোর জন্য।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *