আজ: শুক্রবার | ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪২ হিজরি | সকাল ৮:৩৯

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

মেঘ-পাহাড়ের দেশ মেঘালয়,মনে হবে কোনো এক মেঘের দেশে

ডান্ডিবার্তা | ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১১:২৭

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
মেঘালয়ের শিলংয়ের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ৫ হাজার ৬ ফুট। পাহাড়, ঝরনা আর পাহাড়ি লেক মিলে শিলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। শুধু সৌন্দর্য নয়, মেঘালয় নামের মধ্যে রয়েছে মাহাত্ম্য। মেঘের আলয়, মানে মেঘের বসত যেখানটায়। পাহাড়ের কোলে মেঘের নিত্য খেলা আর জলপ্রপাতের গর্জনের সঙ্গে অপরূপ মেঘালয় ঘুরতে হবে সৌন্দর্য পিপাসু মন নিয়ে। এ ছাড়া খাসিয়া, গারো ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাপন এবং সংস্কৃতি, ঐতিহ্য শিলংকে দিয়ে বাড়তি রূপ। শিলং শহর থেকে ৫৬ কিলোমিটার দূরে চেরাপুঞ্জি। ২৫ কিলোমিটার পথ এগোলেই প্রথমে চোখে পড়ল মকডক সেতু। সেতুর পাশে ডাউন সিং সায়েম ভিউ পয়েন্ট। এই পয়েন্টে বসে অপরূপ সৌন্দর্য দেখা যায়। পাহাড়গুলো যেন সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এরপর মজমাই গুহা, নহখালিকাই ঝরনার ভিউ পয়েন্ট, সেভেন সিস্টার ঝরনার ভিউ পয়েন্টসহ চেরাপুঞ্জিতে অসংখ্য দর্শনীয় স্থানে রয়েছে। চেরাপুঞ্জি অর্থ কমলালেবুর দ্বীপ। সেখানে কমলা ও পান-সুপারি চাষ হয় বেশি। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত চেরাপুঞ্জি। শিলং শহরে দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে, উমিয়াম লেক, হেরিটেজ, ইউলিয়ামসন, ডন বস্কো জাদুঘর, বিমানবাহিনী জাদুঘর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, বিসপ অ্যান্ড ব্যাডন ঝরনার ভিউ পয়েন্ট, শিলং পিক, এলিফ্যান্ট ফলস বা হাতির ঝরনা। মেঘালয়ের পাহাড়গুলো পাথর, চুনাপাথর, জিপসাম, কয়লা ইত্যাদি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। স্থানীয়দের বাড়িঘরগুলো খুব সুন্দর। প্রত্যেকটা লোকালয় পরিচ্ছন্ন। রাস্তার পাশ দিয়ে উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ বেয়ে ছোট ছোট বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়ার দৃশ্য মনকে উৎফুল্ল করে তুলবে। বৃষ্টি হলে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা ছড়াগুলো স্বচ্ছজলে টইটুম্বুর হয়ে ছুটে চলে।উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথের দু’ধারের মনোরম প্রকৃতি, ঝরনা, ছোট ছোট গ্রাম, সবুজ উপত্যকা, খণ্ড খণ্ড কৃষিজমি, পাইন গাছের ছায়া, নাসপাতি-কমলালেবুর বাগান, চুনাপাথরের গুহা, বৃক্ষরাজি, দেখতে দেখতে আমরা পৌঁছে গেলাম চেরাপুঞ্জি। শহরে ঢোকার একটু আগেই পড়বে ওয়াকাবা ফলস। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা সরু জলধারা হারিয়ে গেছে নিচে। চারিদিক উন্মুক্ত। দূরে দেখা যায় শুধু পাহাড়ের সারি। নিচের দিকে তাকালে দেখা যায় না ঝরনার প্রবাহপথ। এ ছাড়া রয়েছে ক্লিন ভিলেজ, লিভিং রোড সেতু, ক্যারেংছড়ি ঝরনা, লাইট লুমগিরি, ডাবল ডেকার জীবন্ত শেকড়ের সেতু।
সিলেটের তামাবিল সীমান্ত থেকে ৮৩ কিলোমিটার দূরে শিলং শহর। এই ৮৩ কিলোমিটার পথ যেতে সময় লাগবে ৩ ঘণ্টা। ডাউকি ইমিগ্রেশন কার্যালয় সামনে থেকে ট্যাক্সি, চুমো ও ইনোভা গাড়ি পাওয়া যাবে। চুমো ও ইনোভা গাড়ির সরাসরি শিলং শহরে গেলে ভাড়া নেবে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। আর ট্যাক্সি ভাড়া নেবে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। তবে শিলং পৌঁছার আগে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থানে রয়েছে। সেই সব দর্শনীয় স্থানের দেখলে এক হাজার টাকা বাড়তি দিতে হবে। ট্যাক্সি গাড়িগুলোতে চারজন বসানো যায়। আর চুমো ও ইনোভা গাড়ি গুলোত সাতজন। শিলংয়ের আবাসিক হোটেলগুলোতে তিনজনের বেড দুই হাজার ২০০ থেকে ছয় হাজার টাকা, দুজনের বেড এক হাজার ৮০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ও একজনের বেড ৭০০ থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত। বাংলাদেশের ময়মনসিংহ থেকে পর্যটক নিভা মারাক ও রাঙামাটির নিপুণ চাকমা বলেন, মেঘালয়ে পুরো রাজ্যটা অপরূপ সুন্দর। পাহাড়, জলপ্রপাত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন মেঘালয়কে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এই প্রথম মেঘালয়ে বেড়াতে এসেছি খুব ভালো লাগছে।শিলংয়ের গাড়ি চালক শান্তনু দে বলেন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যসহ দেশের বাইরে থেকে সারা বছর মেঘালয়ে পর্যটক থাকেন। বিভিন্ন ছুটি ও শীত মৌসুমে একটু বেশি পর্যটক বেড়াতে আসেন। এ সময় আমাদের হাজারো গাড়ি সংকুলান হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *