Home » প্রথম পাতা » রূপগঞ্জ ভ’মি অফিসে অনিয়মই যেন নিয়ম

মোবাইল ফোনের জন্য খুন ৩ আসামী গ্রেফতার

২৬ নভেম্বর, ২০২১ | ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 125 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী নগরে অবস্থিত র‌্যাব-১১’র অভিযানে রূপগঞ্জের সাব্বির হত্যার ৩’আসামী গ্রেফতার। গত বুধবার রূপগঞ্জ থানার পূর্বাচল ১৩ নম্বর সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধৃতদের গ্রেফতার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার র‌্যাব আসামীদের রূপগঞ্জ থানায় হস্থান্তর করে। র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১’র একটি আভিযানিক দল রূপগঞ্জ থানার পূর্বাচল এলাকায় অভিযান চালায়। উক্ত অভিযানে গত ২১’নভেম্বর জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন পূর্বাচল ১৩’নম্বর সেক্টরে নির্মানাধীন পুলিশ টাওয়ারের ৭’ম তলায় নির্মাণ শ্রমিক মোঃ সাব্বির আহমেদ (১৭), পিতা-শফিকুল ইসলাম, সাং-অষ্টআশিচর, থানা-কচাকাটা, জেলা-কুড়িগ্রাম এর হাত ও চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়। উক্ত ঘটনায় একই স্থানে নির্মাণ শ্রমিক ও নিহতের মামা মোঃ মহেমুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-৪৪। এই ঘটনা জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ আকারে প্রকাশিত হয়। যা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে ও জনমনে আতংক সৃষ্টি হয়। উল্লে¬খিত বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংগ্রহসহ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উৎঘাটন ও ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা আসামীদের গ্রেফতারের জন্য র‌্যাব-১১ এর একটি গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪’নভেম্বর ২০২১ তারিখে র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন পূর্বাচল ১৩ নম্বর সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলা রুজু হওয়ার ৪৮’ঘন্টার মধ্যে নির্মাণ শ্রমিক মোঃ সাব্বির আহমেদ (১৭) এর নৃশংস ৩’হত্যাকারী কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার রসুলপুর গ্রামের মোঃ আশরাফুল ইসলাম, পিতা- মোঃ ইব্রাহিম মন্ডল, আনিসুর রহমান, পিতা-মৃত আব্দুল হামিদ ও মিজানুর রহমান, পিতা-ইব্রাহীম আলীকে সনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত ৩’জন আসামী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভিকটিম মোঃ সাব্বির আহমেদ (১৭) কে হত্যা করে। গ্রেফতারকৃত ৩’জন হত্যাকারী ও ভিকটিম মোঃ সাব্বির আহমেদ (১৭) সহ কুড়িগ্রাম জেলার মোট ১৫ জনের একটি দল দীর্ঘদিন যাবত নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে আসছিল। গত ২০ নভেম্বর ২০২১ইং তারিখে চুক্তি অনুযায়ী উল্লেখিত নির্মাণাধীন ভবনে তাদের কাজ শেষ হয় এবং ২১ নভেম্বর ২০২১ইং তারিখে মজুরী গ্রহণ পূর্বক তাদের যার যার মত বাড়ীতে যাওয়ার কথা ছিল। উল্লেখ্য ভিকটিম সাব্বির একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। গ্রেফতারকৃত আসামীদের দেয়া ভাষ্যমতে উক্ত মোবাইল ফোনটি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে গত ২০ নভেম্বর ২০২১ইং তারিখ তাদের নির্মাণ কাজ শেষে সন্ধ্যার পর আশরাফুল, আনিস ও মিজান ৩’জনে মিলে ভিকটিম সাব্বিরকে হত্যার পরিকল্পনা করে। অতঃপর পারস্পারিক যোগসাজসে তারা হত্যায় ব্যবহৃত লোহার ছোট রড ও জিআই তার জোগাড় করে ফাঁস বানায়। এরপর আনুমানিক রাত ৮’ঘটিকার দিকে হত্যাকারী আশরাফুল ভিকটিম সাব্বিরকে মোবাইল ফোনে কল করে ডেকে ৭’ম তলায় নিয়ে যায় এবং অপর দুই হত্যাকারী আনিস ও মিজান তাদের পিছুপিছু ৭’ম তলায় যায়। অতঃপর কথোপকথনের এক পর্যায়ে অতর্কিত ভাবে তারা ভিকটিম সাব্বিরকে হামলা করে এবং একজন ভিকটিম এর গলায় থাকা গাঁমছা দিয়ে ভিকটিম এর মুখ, নাক ও চোখ বেঁধে ফেলে, একজন ভিকটিমের পরিধেয় শার্ট দিয়ে হাত বেঁধে ফেলে এবং অপর জন লোহার রড ও জিআই তার দিয়ে বানানো ফাঁস ভিকটিম এর গলায় পেঁছিয়ে ভিকটিম এর শ^াস রোধ করে পারস্পারিক সহযোগিতায় ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে। অতঃপর তারা লাশটি টেনে একই তলার অন্য একটি কক্ষে নিয়ে প্লেইন শীট দিয়ে ঢেঁকে রাখে। ঘটনার পরের দিন ভিকটিম সাব্বিরকে তার সহনির্মাণ শ্রমিকরা দেখতে না পেয়ে সবাই মিলে খোঁজাখোজি শুরু করে এবং দুপুর দেড়টায় উল্লেখিত নির্মাণাধীন ভবনের ৭’ম তলায় সাব্বির এর লাশ খুঁজে পায়। পরবর্তীতে, গ্রেফতারকৃত ৩ আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী র‌্যাব-১১ এর আভিযানিক দলটি অত্র হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হত্যায় ব্যবহৃত রডের সাথে পেঁচানো জিআই তার ও ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *