Home » প্রথম পাতা » সামসুলের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ

যানজটের নেপথ্যে অবৈধ রিকশা

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 54 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

শহরে যানজটের সমস্যা দীর্ঘদিনের। শহরে যানজটের আরও কয়েকটি কারণের মধ্যে অন্যতম অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের অবাধ চলাচল। শহরের ভেতর এসব যান চলাচলের দাবি নাগরিক মহল থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিরাও তুলেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় যানজটের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসীর। তবে এবার উদ্যোগী হয়েছে জেলা পুলিশ। শহরে ব্যাটারিচালিত যান প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়ক। প্রায় দেড় কিলোমিটারের এই সড়কে নিত্যদিন যানজটে নাকাল হয় নগরবাসী। অবৈধ স্ট্যান্ড, পার্কিংসহ নানা কারণে যানজটে ভুগতে হয় তাদের। বঙ্গবন্ধু সড়ক ছাড়াও আশেপাশের সড়কগুলোরও একই অবস্থা। বিগত কয়েকবছরে যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের অবাধ চলাচল, অবৈধ স্ট্যান্ড ও যাত্রী ওঠানামার বিষয়টি। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সাবেক জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে শহরে যানজট মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিল জেলা পুলিশ। ওই সময় শহরে অবৈধ যান চলাচলেও কঠোর ছিল পুলিশ। তবে গত দেড় বছর করোনার কারণে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক জনগণের মানবিক দিক বিবেচনা করে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক শহরে প্রবেশের বিষয়ে ছাড় দেওয়া হয়। তবে এসব যান শহরে প্রবেশের বিষয়ে আর লাগাম টানা যায়নি। দৈনিক ট্রাফিক বিভাগ জরিমানা ও ডাম্পিং করলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এর পেছনে ট্রাফিক বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্টদের অবৈধ সুবিধার অভিযোগও রয়েছে। শহরের যানজট ও অবৈধ যান চলাচল নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি শহরে হঠাৎ করে তীব্র যানজট তৈরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন। যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ জানান। একই দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখালেখি করেছেন বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিবর্গ। যানজট নিয়ে নগরবাসীর ক্ষোভের বিষয়টি উঠে এসে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও। সকলের দাবি প্রেক্ষিতে শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধে উদ্যোগ নিয়ে জেলা পুলিশ। শহরে এসব যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জানিয়ে গতকাল রোববার দিনভর মাইকিং করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক কামরুল ইসলাম বেগ বলেন, করোনায় মানবিক কারণে কিছু ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক শহরে প্রবেশের বিষয়ে শিথিলতা ছিল। করোনার সংকট কাটিয়ে ওঠার পর থেকে নিয়মিত জরিমানা করা হয়েছে এসব যানবাহনে। তবে তাতেও এসব যানবাহন শহরে প্রবেশ বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে যানজটের মাত্রা বেড়ে গেছে। সার্বিক বিবেচনায় জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলমের নির্দেশনায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক শহরে প্রবেশে নিষেধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মাইকিংও করা হয়েছে। এসব যান শহরে চলাচল কমাতে পারলে যানজট সমস্যার উন্নতি হবে। ট্রাফিক পুলিশের এই পরিদর্শক জানান, তারা শহরের সীমানা নির্ধারণ করেছেন। বঙ্গবন্ধু সড়কের নিতাইগঞ্জ, নবাব সলিমউল্লাহ সড়কের মেট্রো হল মোড়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জেলা পরিষদ ভবন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের অক্টো অফিসের মোড় সীমানা ধরা হয়েছে। এইসব মোড় থেকে শহরের দিকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চলাচলে নিষেধক করা হয়েছে। এদিকে জেলা পুলিশের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে নাগরিক মহল। নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহর এখন যানজটের শহর। মানুষের চেয়ে রিকশা বেশি। গন্তব্যে যারা হেঁটে যেতে চান তারা স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন না। একদিকে ফুটপাত দখল করে রেখেছে হকাররা অন্যদিকে সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের দাপট। বিভিন্ন সড়কে ইজিবাইকের স্ট্যান্ড করে রাখা হয়েছে। এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কেবল প্রশাসনই নিতে পারে। তবে সেই ব্যবস্থা যেন একদিন-দু’দিন কেবল স্থায়ী না হয়। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দেওয়া লাইসেন্স ছাড়া চলাচল করা প্যাডেলের রিকশাও চেক করতে হবে। স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *