Home » প্রথম পাতা » রূপগঞ্জ ভ’মি অফিসে অনিয়মই যেন নিয়ম

যুবদল নেতাকর্মীর পদত্যাগের প্রস্তুতি

১২ নভেম্বর, ২০২১ | ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 74 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

অযোগ্য ব্যক্তিদের নেতৃত্ব দেয়া হলে একযোগে শতাধিক যুবদল নেতা কর্মী পদত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে। আসন্ন মহানগর যুবদলের কমিটিতে রাজপথের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপস্থিত সুবিধাবাদী নেতাদের নেতৃত্ব কোনোভাবেই তারা মানবে না বলে জানিয়েছেন। প্রয়োজনে তারা গণপদত্যাগ করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি এ জন্য গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মহানগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। জেল-জুলুম মাথায় নিয়ে দিনের পর দিন পালিয়ে থেকেছি। শুধুমাত্র বিএনপি করার অপরাধে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমার মতো অসংখ্য নেতাকর্মী শুধু দলকে ভালোবেসে, যুবদলকে ভালোবেসে নিজের সুখের জীবন ত্যাগ করেছেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস যুবদলের কমিটি গঠনের বেলায় এসব ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। যুবদল নেতা শহীদুল বলেন, আমরা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি যুবদলের বিভাগীয় টিম এবং কেন্দ্রীয় অনেক নেতাকে টাকা দিযয়ে ম্যানেজ করে সুবিধাবাদী অনেক নেতা মহানগর যুবদলের নেতৃত্বে আসতে চাইছেন। যেমন মনিরুল আলম সজল কোনদিন যুবদলের রাজনীতি করেননি। তিনি বিএনপির মূল দলের যুগ্ম সম্পাদক পদে ছিলেন। সেখান থেকে পদত্যাগ করে শুধুমাত্র ক্ষমতার লোভে যুবদলের আহবায়ক পদের জন্য লড়াই করছেন। শুনতে পেরেছি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র এক প্রভাবশালী নেতার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতাদের ম্যানেজ করে মহানগর যুবদলের আহবায়ক হওয়ার চেষ্টা করছেন সজল। সহিদুল বলেন, তেমনি আরেকজন মাজহারুল ইসলাম জোসেফ মহানগর যুবদলের নেতৃত্বে আসার জন্য টাকা দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের ম্যানেজ করছেন বলে জানতে পেরেছি। অথচ গত ১৫ বছর যখন আমরা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, পুলিশের হামলা-মামলার শিকার হয়েছি, তখন মাজহারুল ইসলাম জোসেফকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়নি, তাকে কখনো রাজপথে মিটিং মিছিল সভা সমাবেশে দেখা যায়নি। সরকারি দলের নেতাদের সাথে আঁতাত করে সুখের জীবন যাপন করেছেন। এখন মহানগর যুবদলের কমিটিতে আসার জন্য টাকা নিয়ে কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ করছেন। শহিদুল কেন্দ্রীয় নেতাদের হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন মহানগর যুবদলের নেতৃত্বে রাজপথে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা নাহলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। প্রয়োজনে তারা গণপদত্যাগ করে এই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করবে। ইতিমধ্যে গণপদত্যাগের জন্য স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে স্বাক্ষর করেছেন। শহিদুলের মতে,  মমতাজউদ্দীন মন্তু বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি নেতা-কর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ জন্য অসংখ্য মামলায় তাকে আসামী হতে হয়েছে। সর্বশেষ হেফাজতের মামলায় আসামি হয়ে দীর্ঘদিন পলাতক জীবন যাপন করেছেন। তাই মমতাজউদ্দীন মন্তুকে মহানগর যুবদলের নেতৃত্বে দেখতে চাই। সেইসাথে যারা দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন তাদের নিয়ে কমিটি গঠন করার দাবি জানাই। তা না হলে রাজপথের নেতাকর্মীরা এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে। উল্লেখ্য, গত ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে সভাপতি করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ৫ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষনা করে কেন্দ্রীয় যুবদল। কমিটির বাকী সদস্যরা হলেন সিনিয়র সহ সভাপতি মনোয়ার হোসেন শোখন, সাধারণ সম্পাদক মমতাজউদ্দিন মন্তু, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাগর প্রধান ও সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদুর রহমান রশু। আংশিক কমিটি ঘোষনার ৫ মাস পর খোরশেদকেই সভাপতি রেখে ২০১ সদস্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাতিল করে দেয়া হয় মহানগর যুবদলের কমিটি।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *