Home » শেষের পাতা » নারায়ণগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা!

যেকোন মূল্যে জয় চান তারা

১১ নভেম্বর, ২০২১ | ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 71 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দ্বিতীয় ধাপে নারায়ণগঞ্জের ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনী উত্তাপ বিরাজ করছে। এর মধ্যে বন্দরে একটিতে আওয়ামীলীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টি দলীয় প্রার্থীর বিরোধ তুঙ্গে থাকলেও বাকী ৪টি ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীর লড়াই জমে উঠেছে। এছাড়া রূপগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সাবেক ছাত্রদল নেতার মধ্যকার লড়াইও জমে উঠেছে। সদর উপজেলার ফতুল্লার কাশিপুরে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা মারধর করেছে হাতপাখার প্রার্থীকে। ৬টিতেই বর্তমানে সাংঘর্ষিক অবস্থা বিরাজ করছে। এছাড়াও বেশ কিছু ইউনিয়ন পরিষদে মেম্বার প্রার্থীদের মধ্যেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনে ভোটাররা যাকে বেছে নিবেন তিনিই হবেন জনপ্রতিনিধি। সুযোগ পাবেন ৫ বছরের জন্য। কাজের মূল্যায়নের মাধ্যমেই পাবেন পরবর্তী সময়ের সুযোগ। আর নতুন প্রার্থীরা তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট আর ব্যক্তিগত ইমেজে উঠে আসবেন মাঠের লড়াইয়ে। কিন্তু কয়েকজন প্রার্থী সেসব ভুলে যেকোন মূল্যে জয় পেতে উঠে পরে লেগেছেন। আর তাই জনমনে ভীতি ছড়িয়ে আর প্রতিপক্ষের উপর ত্রাস সৃষ্টি করে আলোচনায় আসছেন বার বার। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নির্বাচন অফিসারদের পক্ষ থেকে দফায় দফায় প্রার্থীদের সাথে বৈঠক করা হয়েছে। ঘোষণা দেয়া হয়েছে কঠিন সব বার্তা। তবুও কাজের কাজ হয়নি বেশ কিছু স্থানে। উল্টো দিনে দিনে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে প্রার্থীরা। কোন কোন স্থানে মামলা দায়ের করা হলেও তাতে ভাটা পরেনি বেপরোয়া প্রার্থীদের কার্যক্রমে। কোন কোন ক্ষেত্রে জামিন নিয়ে নিজ এলাকায় এসে পুনরায় সরব হয়েছে সন্ত্রাসীরা। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ২টি ইউনিয়ন পরিষদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ৪টি ইউনিয়নে একাধিক সংঘর্ষে ঘটনা ঘটলেও তবে এর মধ্যে ২টি ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে সাংঘর্ষিক অবস্থা বিরাজ করছে। এই ২টি ইউনিয়ন হচ্ছে আলীরটেক ও গোগনগর। অপরদিকে বন্দরের ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ২টিতে সাংঘর্ষিক অবস্থা বিরাজ করলেও অপর ১টিতেও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কলাগাছিয়া সবচেয়ে উত্তপ্ত। এরপরে রয়েছে ধামগড় ও মদনপুর। রূপগঞ্জের ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউপিতে নৌকার প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তবে বাকী ২টি ইউপিতেই বর্তমানে সাংঘর্ষিক অবস্থা বিরাজমান। এছাড়াও বেশ কিছু ইউনিয়ন পরিষদে মেম্বার প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে কাশীপুর ও এনায়েতনগরে দুইজন করে প্রার্থী ছিলেন। নৌকার বিপরীতে থাকা ইসলামী আন্দোলনের দুইজন শেষ সময়ে ১০ নভেম্বর সরে এসেছেন ভোট থেকে। ফলে এখানে নৌকার দুইজনের বিজয় অবধারিত। রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন জাহেদ আলী। তিনি একই সাথে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে আছেন রংধনু গ্রুপের পরিচালক মিজানুর রহমান। তিনি ইউনিয়নটির বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে আছেন মিজানুর। আর কদিন পরপরেই এই দুজনের প্রার্থী সমর্থকদের মাঝে সংঘাত, গোলাগুলি লেগেই রয়েছে। এছাড়া মুড়াপাড়া ইউনিয়নে সদস্য প্রার্থীদের বিরোধকে কেন্দ্র করে এক যুবককে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান সহ ৩২ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা ঘটনার পর থেকেই ভাইস চেয়ারম্যান ও তাঁর দেহরক্ষী জসিম উদ্দিন পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নে প্রথমবারের মত নির্বাচনী সংঘাত তৈরী হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সায়েমের লোকজন। ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করা হলেও আসামীদের অনেকেই জামিন নিয়ে পুনরায় মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এমনকি তাদের ভয়ে ঘর থেকে বের হতেও সাহস পাচ্ছেন না এমন অভিযোগ তুলেছেন নৌকার প্রার্থী জাকির। নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন,  আমার এলাকার ভোটাররা ঘর থেকে বের হতে পারে না। নেতাকর্মীরা ভোট চাইতে সাহস পাচ্ছে না। যদি নেতাকর্মী ভোট চাইতে পারতো তাহলে আরও জোয়ার দেখতে পারতেন। নেতাকর্মীরা সর্বদা সায়েমের নেতাকর্মীদের ভয়ে থাকে। তারা ভোট দিতে যেতে পারবে কিনা সেটি নিয়েও চিন্তিত। আমাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়েছিলো। আমাদের এলাকায় বিগতদিনে অনেক নির্বাচন গেছে। কিন্তু কখনও সংঘাত হয়নি। আলীরটেকের মত গোগনগর ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তার করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজর আলী। নৌকার মনোনয়ন না পেয়ে জসীম উদ্দিনের নেতাকর্মীদের ক্যাডার দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে তার লোকজন। ফজর আলী দাবী করেন তার কোন সমস্যাই হচ্ছে না নির্বাচনে। অন্যদিকে জসীম উদ্দিন বলছেন তার নেতাকর্মীদের হুমকি দেয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত। স্থানীয়রা বলছেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রতীক পেয়েও জসীম উদ্দিন নির্বাচনী প্রচারণায় পিছিয়ে আছেন কেবল ক্যাডার আর টাকা না ছড়ানোর কারনে। আর সেই দিক থেকেই এগিয়ে আছেন ফজর আলী। প্রচারণায় বাঁধা পাওয়ার বিষয়ে নৌকার প্রার্থী জসীম উদ্দিন বলেন, নির্বাচনে আমার কিছু কর্মীরা হুমকি ধামকি পাচ্ছে সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে। যারা এখানে ৫ থেকে ৮ টি মামলার আসামী তারাই এই হুমকিগুলো দিচ্ছে। আমার অজান্তে আমার কর্মীদের হয়রানী করা হচ্ছে। এই সন্ত্রাসীরা এখানকার বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে। সবশেষ গত মঙ্গলবার দুপুরে জেলার পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেন জসীম উদ্দিন। তাতে তিনি ৯ জনের নাম উল্ল্যেখ করে তাদের নজরদাড়িতে রাখার আবেদন জানান। তারা সকলেই ফজর আলীর পক্ষে নির্বাচনে কাজ করছে। বন্দরের কলাগাছিয়ায় নৌকা এবং লাঙ্গলের বিবাদ চরম আকার ধারণ করেছে। উঠান বৈঠকে কড়া বক্তব্যের পাশাপাশি কোন কোন স্থানে হামলা চালাবার অভিযোগ তুলেছেন নৌকার প্রার্থী কাজিম। বলছেন, বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ারের নির্দেশে হামলা চালানো হচ্ছে তার উপর। সম্প্রতি সাবদী এলাকায় নৌকার নির্বাচনী ক্যাম্প রাতের আঁধারে কে বা কারা নষ্ট করে দেয়। এনিয়ে কাজিম অভিযোগ তুলেন দেলোয়ারের বাহিনী তার ক্যাম্প নষ্ট করে দিয়েছে। যদিও তা অস্বীকার করেছেন দেলোয়ার প্রধান। সবশেষ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নৌকার নির্বাচনী মিছিলে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানেও কাজিম দাবী করেছেন প্রতিপক্ষ প্রার্থী নৌকার কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাতে এসব কাজ চালাচ্ছে। কলাগাছিয়ার মত ধামগড়ের অবস্থাও বেশ করুণ। বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুম আহাম্মেদের দাপটে কোনঠাসা প্রয়াত চেয়ারম্যান আয়নাল হকের পরিবার। স্বতন্ত্র পদে দাঁড়ানো কামাল হোসেনের মাইক, পোষ্টার, গাড়ির উপর হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে নৌকার প্রার্থী মাসুমের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এছাড়া কোথাও নির্বাচনী ক্যাম্প না করতে দেয়ারও অভিযোগ তুলেন তিনি। তার বেশ কিছু নেতাকর্মীকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে। সবশেষ উঠান বৈঠকে নির্বাচনের পর আয়নাল হকের বাড়ি ঘেরাও করার হুমকি দেয়ার ঘোষণা দিলে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন নৌকার প্রার্থী মাসুম। এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসক, নির্বাচন অফিসার ও র‌্যাব ১১ কে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পাশাপাশি থানায় জিডি করেন কামাল হোসেন। জিডিতে উল্ল্যেখ করেন, আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থী মাসুম আহম্মেদ গত ৭ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টায় একটি উঠান বৈঠকের আয়োজন করেন। সেখানে বক্তব্যে তিনি আমাকে, আমার পরিবার ও নেতাকর্মীদের হুমকি ধামকি দেন। একই সাথে নির্বাচনের পরের দিন তার বাহিনী নিয়ে আয়নাল চেয়ারম্যানের বাড়ি অর্থ্যাৎ আমার বাড়ি ঘেরাও করার কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আমার অবস্থা এমন করে ছাড়বেন যে আগামী ২০ বছরেও রাজনীতিতে আসা তো দূরে থাক রাজনীতির কল্পনাও আমরা করতে পারবো না। তার এসব বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ আমাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এমন অবস্থায় আমি আমার পরিবার ও নেতাকর্মীদের নিয়ে শংকিত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার এমন চিত্র নতুন নয়। কিন্তু দিনে দিনে পুলিশ প্রশাসন আগের থেকে আরও বেশী শক্তিশালী হয়েছে। যেভাবে বিগতদিনে সন্ত্রাস মোকাবেলা করেছে তার তুলনায় এসব কিছুই নয়। তাদের স্বদিচ্ছাই পারে এসব বিষয় সমাধান করে সুষ্ঠ নির্বাচনী পরিবেশ এনে দেয়া। সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. ওমর ফারুককে রক্তাক্ত জখমের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এখানকার নির্বাচনে প্রার্থী সাইফউল্লাহ বাদলের ছেলে সাজন সহ ৩জনের নাম উল্লেখ করে দায়েরকৃত মামলায় আসামী করা হয়েছে আরো দেড় শ জনকে। ৩১ অক্টোবর দুপুরে ওমর ফারুক বাদী হয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে এদিন সকালে শহরের চাষাঢ়ায় বিক্ষোভ করেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। সেখান থেকে সাজনকে গ্রেপ্তারের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসক ও নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রকিবুজ্জামান জানান, এঘটনায় রোববার দুপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুল্লাহ বাদলের ছেলে সাজনসহ ৩জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত এক থেকে দেড়শ জনের বিরুদ্ধে হাত পাখা প্রতীক চেয়ারম্যান প্রার্থী ওমর ফারুক বাদী হয়ে মামলা করেছে। আসামীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। এদিকে কাশিপুরে ওই ঘটনার পর থেকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর তেমন কোন প্রচারণা দেখা যায়নি। মারধরের পরে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ও সমর্থকরা যেন উবে গেছে বলেও মনে করছেন অনেকে। ভোলাব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস) আলমগীর হোসেন টিটু ও আওয়ামীলীগ মনোনিত (নৌকা) প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট তায়েবুর রহমান। ৪ নভেম্বর রাতে রূপগঞ্জের ভোলাবতে নৌকার দুই সমর্থকের উপর হামলা করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ছাত্রদল নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটুর সমর্থক যুবদলের দেলোয়ার জাহান জন্টু ও কাসেম বাহিনী। ভোলাব ৬ নং ওয়ার্ডের (দড়িচারিতাল্লুক) পূর্বপাড়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনায় ২ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্রপ্রার্থী আলমগীর হোসেন টিটু। ২৭ অক্টোবর গভীর রাতে ভোলাব ইউনিয়নের চারিতালুক এলাকায় নৌকা প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও পোষ্টার ছিঁড়ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *