Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

যেখানে মানবিকতা বিপর্যস্ত

২৩ মে, ২০২১ | ৬:২৯ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 237 Views

নাসির উদ্দিন

মানবিকতা আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। মরে গেলে যেন এর কদর কমে যায়। বেওয়ারিশ লাশ হলে আরো বেশী অবহেলার শিকার হয়। কোন দুর্ঘটনায় কেহ মারা গেলে তখন আর মানুষ থাকে না শুধু লাশই এর পরিচয়। অযন্তে অবহেলায় ফেলে রাখা হয় কোন বারান্দায় বা কোন ভ্যানগাড়িতে। তপ্ত রোধে শুকাতে থাকে নয়তো বা কড়া বৃষ্টিতে ভিজতে থাকে আর লাশ থেকে বেরিয়ে আসা রক্ত পানির সাথে গড়ে পড়ছে নর্দমায়। এ কেমন মানবিকতা। এ দৃশ্য দেখে কি কারো মনে একটুও দাগ কাটে না। যে মানুষটি জীবিত অবস্থায় কারো না কারো উপকার করেছিল সে দুর্ঘটনা মরে গিয়ে যেন মানুষের বোঁঝায় পরিনত হয়। গতকাল শনিবার কাঁচপুর হাইওয়ে থানায় গিয়ে দেখ্ াযায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই জন মারা যায়। তাদের লাশগুলি থানার ভাউন্ডারীর ভিতরে একটি ভ্যান গাড়িতে তপ্ত রোধে পুড়ছে। লাশের পাশে কেহ নেই। এত অযন্ত্র আর অবহেলা মনে স্বাভাবিক দাগ কাটে। থানায় নেই কোন সেট। যেন লাশগুলি একটু ছায়ায় রেখে রোধ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা করবে। থানায় এ নিয়ম যেন দীর্ঘ দিনের। এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, আমি নিরুপায়, এ অবস্থা দেখলে আমারও কান্না পায়। কি করব। কাঁচপুর এলাকায় অনেক ধনী ব্যক্তি রয়েছে তাদের বলেছিলাম একটি সেট করে দিতে কেহ এগিয়ে আসেনি। দুঘটনাকবলিত লাশ এলে আমরা নিরুপায় হয়ে বাইরে রেখে দেই স্বজনদের ফিরে আসার অপেক্ষায়। আর বেওয়ারিশ লাশ হলে আমাদের পড়তে হয় বিপাকে। এ এলাকার মানুষগুলি যেন কেমন। আমরা বেওয়ারিশ লাশ দাফন করতে স্থানীয় কবরস্থানে গেলে কবরস্থান কমিটি আমাদের বাধা দেয়। তখন মনে হয় মানবিকতা বিপর্যয় ঘটেছে। তখন অনেক কাকতি মিনতি করে লাশ দাফন করতে হয়। এমনও সময় হয় লাশ দাফন করতে ১০ কিলো মিটার দুরের কবরস্থানেও যেতে হয়। আর বেওয়ারিশ লাশ দাফনে আমাদের কোন বরাদ্ধ নেই। আমরা নিজ অর্থায়নে তা করি। একটি বেওয়ারি লাশ সম্পূর্ন ডিপোজাল করতে আমাদের ১৪/১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। তা আমরা পুলিশরাই করে থাকি। আমাদের কাছে সব সময় সড়ক দুর্ঘটনার লাশ আসে। আর দুর্ঘটনার লাশগুলি বেশীর ভাগই বিকৃত থাকে যা দ্রুত ডিসপোজাল করা জরুরী। কিন্তু আইনী জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে লাশগুলিকে ঘন্টার পর ঘন্টা বাইরে ফেলে রাখতে হয়। এ জন্য যদি একটি সেট থাকত তবে লাশগুলি কিছু শুরক্ষা করা যেত। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় এমপি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি তারা একটি সেট করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আমি সে আশায় রয়েছে। তবে যদি কোন দানবীর কাঁচুর হাইওয়ে থানায় একটি সেট বা লাশঘর করে দিত তবে লাশগুলি নিরাপদে রাখা যেত। আর এতে করে আমাদের মানবিকতা প্রকাশিত হত। আমি প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার লাশ দেখে মর্মাহত হই। স্থানীয় লোকজন জানান, হাইওয়ে থানায় কোন লাশ এলে দেখা যায় লাশ থেকে রক্ত ঝড়ছে। কোন লাশ দেখার মত থাকে না। আর সে লাশগুলি থানার বাইরে ফেলে রাখার ফলে রোদ-বৃষ্টি আরো নষ্ট হচ্ছে। তখনই মনে হয় আমাদের মানবিকতা কাথায়?

Comment Heare

৪ responses to “যেখানে মানবিকতা বিপর্যস্ত”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *