Home » শেষের পাতা » মেয়াদি সুদের ফাঁদে জিম্মি হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠী

যেভাবে জাকির চেয়ারম্যানের ঈদগাহ দখল

১৪ মে, ২০২২ | ৬:০৭ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 33 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেকে সরকারি জমিতে নির্মিত একটি ঈদগাহ উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। তিনি সেখানে মার্কেট ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গত বছর ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আলীরটেক ইউনিয়ন থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে “নৌকা’ প্রতীক ছাড়া নির্বাচন করলে আরও বেশি ভোট পেতেন” বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত হন জাকির হোসেন। এই ঘটনায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে কারণ দর্শাতে নোটিশ দিয়েছিল। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, চেয়ারম্যান তার লোকজনের সহায়তায় ইউনিয়নের ডিক্রীরচরে সরকারি জমিতে থাকা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ উচ্ছেদ করতে রাতের আঁধারে চারপাশে থাকা দেয়াল ও মিম্বর ভেঙে দিয়েছেন। সেখানে জাকির হোসেন তার অনুগতদের জন্য মার্কেট ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, ‘বিগত ২ যুগ ধরে এই ঈদগাহে স্থানীয়রা ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন। ঈদগাহের উন্নয়নে সরকার থেকে ১০ লাখ টাকা অনুদানও দেয়া হয়। সেই অনুদানের টাকায় আগের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান ঈদগাহের চারপাশে বাউন্ডারি ওয়াল ও একটি মিম্বর তৈরি করেন। কিন্তু চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সেই ঈদগাহ মাঠ দখল করে মার্কেট নির্মাণের পাঁয়তারা করছেন।’ ইতোমধ্যে তার অফিসে বসে আলীরটেক ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি আব্দুর রহমানকে দিয়ে দোকান বরাদ্দের একটি তালিকাও করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই তিনি ঈদগাহটি দখলে মরিয়া হয়ে ওঠেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসি অভিযোগ করেন। তারা বলেন, ‘জাকির হোসেন মনে প্রাণে বিএনপি ও হেফাজতে ইসলামের অনুসারি হলেও গত নির্বাচনে কাকতালীয়ভাবে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পান।’ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ‘এটা তো ঈদগাহ না। এইটার ভেতর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। নাচ-গান হয়, খেলা-ধুলা হয়, আবার গরু-ছাগল, ভেড়া-বরকি, কুকুরও বিচরণ করে। মাঝে মাঝে নামাজও হয়। আবার কিছু পণ্য এখানে এনে শুকানো হয়। আর এটা (ঈদগাহ) সরকার অনুমোদিত না, পঞ্চায়েতেরও না।’ তিনি বলেন, ‘অতীতে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে আসা একটা অনুদানের টাকায় এখানে চারপাশে দেয়াল হয়েছিল। সেটা স্কুলে না দিয়ে এখানে করছে। আমাদের ইউনিয়নটায় গরিব মানুষের সংখ্যা বেশি। আমরা চাচ্ছি এখানে একটা মার্কেট ও কমিউনিটি সেন্টার করলে গ্রামের মানুষের আয়ের ব্যবস্থা হবে। কবরস্থানের পাশে নতুন একটা ঈদগাহ করা হয়েছে।’ তবে তিনি দাবি করেন, ‘ঈদগা উচ্ছেদ করে মার্কেট ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ তিনি নন, গ্রামবাসী নিয়েছেন।’ সদর উপজেলার ইউএনও রিফাত বিন ফেরদৌস জানিয়েছেন, ‘সরকারি জমিতে থাকা ঈদগাহ চাইলেই অপসারণ বা অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবেন না। এজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন বা প্রকল্প থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা আইন না জেনেই অনেক কিছু করার চেষ্টা করেন।’ এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *