Home » প্রথম পাতা » পদ্মা সেতু জাতির আরেক বিজয়

যে কারণে জয়ের স্বপ্ন তৈমূরের

১৬ জানুয়ারি, ২০২২ | ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 135 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৃতীয় নির্বাচন আজ। বিএনপির দলীয় প্রতীকে অংশ না নিলেও এবার বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা তৈমূরের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। অপরদিকে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিপক্ষে পরোক্ষভাবে রয়েছেন শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান তথা প্রভাবশালী ওসমান পরিবার। সম্প্রতি কেন্দ্রের চাপে শামীম ওসমান নৌকার প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সমর্থন দিলেও তাদের মধ্যকার বিরোধে আইভী বিরোধী ভোট তৈমূরের বাক্সে পড়বে বলে মনে করছেন অনেকে। এছাড়া সম্প্রতি জাতীয় পার্টি দলীয় ৪ জন চেয়ারম্যান প্রকাশ্যেই তৈমূরের সমর্থনে গণসংযোগে অংশ নেয়ায় জাতীয় পার্টির ভোট ব্যাংক তৈমূরের বাক্সে পড়বে বলে মনে করছেন সকলে। যে কারণে বিএনপি জামায়াতের ভোটের পাশাপাশি আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী ও জাতীয় পার্টির ভোট ব্যাংকেই জয়ের স্বপ্ন দেখছেন তৈমূর। এদিকে ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনের সময় থেকেই আইভীর সঙ্গে এমপি শামীম ওসমানের বৈরীতা চলে আসছে। মাঝখানে আলোচিত ত্বকী হত্যা, ৭ খুনসহ নানা ইস্যুতেই তারা দু’জন ছিলেন আলোচিত। গত ৮ জানুয়ারী শামীম ওসমানকে গডফাদার আখ্যায়িত করেন আইভী। যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ৯ জানুয়ারী নাসিকের ২২নং ওয়ার্ডে গণসংযোগকালে বন্দর খেয়াঘাটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেছেন, ‘আমার জনগণ কখনো কোনো সন্ত্রাসী, খুনি, গডফাদারকে গ্রহণ করেনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। আমার জনগণ এটা কখনো গ্রহণ করে না আর করবেও না। কেন্দ্র কেন্দ্রের কাজ করবে, দল দলের কাজ করবে, জনতা জনতার কাজ করবে।’ শামীম ওসমান প্রসঙ্গে আইভী আরো বলেন, ‘আমি শামীম ওসমানকে গডফাদার উপাধি দেইনি। এটা তার দীর্ঘদিনের উপাধি। শুধু নারায়ণগঞ্জ না সারা বাংলাদেশ তা জানে। আওয়ামী লীগ একটি বিশাল বড় দল। এখানে সবার স্থান আছে। যারা চলে যাওয়ার তারা চলে যাবে আর যারা টিকে থাকার তারা থাকবে। কে কী বলল, কে কী করল তাতে প্রধানমন্ত্রীর কিছু যায় আসে না।’ ২০১১ সালে তৈমূর বলি হয়েছিলেন বলেই আইভী বিপুল ভোটে আওয়ামীলীগ প্রার্থী শামীম ওসমানকে পরাজিত করতে পেরেছিলেন। বিএনপি-জামাত বরাবরই আইভীর এ বিজয়ে তাদের সহযোগিতাকে প্রকাশ্যে বলে আসছিল। গত ১০ জানুয়ারী গণসংযোগকালে আইভী বলেন, আমি বলিনি যে শামীম ওসমানের সমর্থন আমার দরকার নেই। আমি বলেছি যে আমার ভোটাররা ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে তারা কাকে ভোট দিবে। দল যখন আমাকে নমিনেশন দিয়েছে, আমার দলের লোকেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা নৌকার পক্ষেই থাকবে। এর মধ্যে দুয়েকজন ব্যতিক্রম হলে আলাদা ব্যাপার। ভোটারদের কাছে এটা অপরিহার্য নয় যে কে সমর্থন দিল কে দিল না। তৃনমুলের নেতাকর্মীরা হয়ত এটায় গুরুত্ব দিবে। কিন্তু সাধারণ পাবলিক, আমার মা বোনেদের কাছে মাথাব্যাথা নেই নারায়ণগঞ্জে কে সমর্থন দিল কে দিল না। তাদের কাছে বড় ব্যাপার দল নমিনেশন দিয়েছে। তিনি বলেন, উনি (তৈমূর) তো গডফাদারের কোলে গিয়ে বসে আছেন। তিনি গডফাদারের বাইরের কেউ না। গডমাদারটা উনি যে আমাকে বলেছে এটা খারাপ কাজ করেছে। উনাকে আমি এ ধরনের কথা বলিনি। উনি তার কাছে আশ্রয় নিয়েছে এটাই বলেছি। উনি যদি তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় না দাঁড়াত তাহলে এই চেয়ারম্যানরা তার পাশে গিয়ে দাঁড়াত না। অথবা পুলিশ কাকে হয়রানি করল এটা উনি বলত না। তার কর্মকান্ডে ফুটে উঠেছে উনি শামীম ওসমানের ক্যান্ডিডেট। তাদের প্রটেক্ট করতে গিয়ে যদি উনি আমাকে এ ধরনের কথা বলে পক্ষান্তরে উনি নিজ সন্তানকেই বলছে। আমি উনাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করিনি। তাকে সম্মান করেই নির্বাচন চালিয়ে যাবো। এদিকে আইভীর ওই বক্তব্যের পরেও সংবাদ সম্মেলন করে আইভীকে সমর্থন দেন শামীম ওসমান। যদিও তিনি সংবাদ সম্মেলনে একবারও আইভীর নাম নেননি। এরপরে আইভীর পক্ষে গণসংযোগে নামার ঘোষণা দিলেও শামীম ওসমান গণসংযোগে নামেননি। যে কারণে তাদের মধ্যকার দূরত্ব রয়েই গেছে বলে মনে করছেন সকলে। আর এ কারণে শামীম ওসমান অনুগামীরা আইভীকে ভোট দিবে না বলেই মনে করছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। আজ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৃতীয় নির্বাচন। তবে এবার ডা. আইভী দলীয় প্রতীক নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হলেও তার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার লড়ছেন হাতী প্রতীক নিয়ে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে বর্তমান সরকারের অধীনে সব ধরনের জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেয় বিএনপি। যে কারণে ধানের শীষ ছাড়াই লড়তে হচ্ছে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে। ইতিমধ্যে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে বিএনপি ও জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরামের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিএনপি। তবে তাকে বহিস্কার করেনি। এদিকে বিএনপি থেকে তৈমূরকে অব্যাহতি বা প্রত্যাহার করা হলেও মূলত বিএনপির ছায়া প্রার্থী হিসেবেই তৈমূর লড়ছেন বলে মনে করছেন অনেকে। অপরদিকে নৌকা প্রতীককে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার হরণের প্রতীক হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপি নেতাকর্মী সমর্থকরা। তাদের দাবি বর্তমান সরকার জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে। তাই সাধারণ মানুষ নৌকা প্রতীককে ভোট দিবেনা বলেও দাবি করছেন। তৈমূরের পক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনে না আসলেও ইতিমধ্যে তৈমূরের পক্ষে গণসংযোগ করেছেন সদর-বন্দর আসনের আওয়ামীলীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম আকরাম এবং জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা না আসলেও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তৈমূরের পক্ষে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন। তারা সিটি করপোরেশনে নানা অনিয়ম দুর্নীতি তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের সমালোচনা করেও বক্তব্য রাখছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হাতী প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, আমি কারও কথায় কষ্ট পাইনা। আমার দল ঐক্যবদ্ধ। তার (আইভী) মন্তব্যের কারনে তার দলে যে বিশাল ফাটল এটা জনগণের কাছে পরিষ্কার। শহরে এখন আলেচনা তারাই তো তাদের লোকদের সমর্থন পাচ্ছে না। আর তৈমূর আলম খন্দকার সকলকে নিয়ে মাঠে নেমেছে। আমার জয় হবে এটাই জনগণ বলছে। কারও নামের সাথে কোন বিশেষন দেয়াটা সভ্যতা নয়। এখন এ বিশেষণ আইভীর মুখেই শোনা যাচ্ছে। মেয়র আইভীর বক্তব্যে পরিষ্কার, আমার দলে কোন বিভাজন নেই। তার দলে বিশাল বিভাজন রয়েছে। শামীম ওসমানকে নিয়ে কথা ওঠে তার বাপ, দাদা, এমপি ছিল। তারা যে আইভীর পক্ষে না এটা আমরা বলি না, এটা আইভী নিজেই বলেছে। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে কে গডফাদার কে গডফাদার না, কেন উইনেবল ক্যান্ডিডেট কে উইনেবল না, সেটা সব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জানেন। নারায়ণগঞ্জ একটি রাজনৈতিক সূতিকাগার। এই নারায়ণগঞ্জে স্বাধীনতার পর থেকে সরকারি দল সমর্থিত কোন প্রার্থী জয়লাভ করেনি। ২০১১ সালে আমি বসে যাওয়ার পর আইভী জিতেছিল। সে কিন্তু বিদ্রোহী হিসেবে জিতেছে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *