Home » প্রথম পাতা » শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী আজ

যোগ্য-অযোগ্যের লড়াই!

০৮ জুন, ২০২২ | ১২:৩০ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 50 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

সোনারগাঁয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ মোগরাপাড়া। আগামী ১৫ জুন ৮ম ধাপে এই ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ৫জন চেয়ারম্যান ও ৫১জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী ছাড়াও চারজন চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন গতবারের আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান। ৫জন চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেও স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে, মূল লড়াইটা হবে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারসের মধ্যে, অর্থাৎ যোগ্য-অযোগ্যের মধ্যে। সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আরিফ মাসুদ বাবু। সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য আরিফ মাসুদ বাবুর পরিবার আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তার পিতা প্রয়াত এ্যাডভোকেট সাজেদ আলী মোক্তার পঞ্চাশের দশকে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। তিনি ছিলেন সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহচর ছিলেন। সত্তরের নির্বাচনে তিনি সোনারগাঁ আসনে দলীয় মনোনয়নে এমসি নির্বাচিত হন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকও ছিলেন। বড় ভাই মোবারক হোসেন ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ এমপি নির্বাচিত হন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৬ সালে আরিফ মাসুদ বাবুকে দলীয় মনোনয়ন দেয় আওয়ামীলীগ। এর আগের বারও চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এবারের নির্বাচনেও আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশিত ছিলেন আরিফ মাসুদ বাবু। তবে তাকে মনোনয়ন দেয়নি দল। এবার মনোনয়ন পান জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শাহ মো. সোহাগ রনি। অভিমানে দলীয় সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ান আরিফ মাসুদ বাবু এবং পরে তিনি অত্র ইউনিয়নবাসীর ভালোবাসায় ও তাদের অনুরোধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার ঘোষনা দেন। রনাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ও রাজনৈতিকসূত্রে জানা গেছে, আওয়ামীলীগের মনোনীত শাহ মো. সোহাগ রনির শক্ত প্রতিদ্ব›দ্ধী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু। মূলত- তিনি আওয়ামীলীগ থেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। উপজেলার অন্যান্য ইউপির নির্বাচন শেষ হয়ে গেলেও সীমানা জটিলতা নিয়ে করা মামলার কারণে মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন স্থগিত ছিল। মামলার জটিলতা নিরসন হওয়ার পর এই অষ্টম ধাপে ঘোষিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মোগরাপাড়ারও নাম ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৫ জুন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এ ভোট গ্রহণ হবে। তবে অত্র ইউনিয়নের নির্বাচনে বর্তমানে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ মাসুদ বাবু। তাঁর নিজস্ব ভোট ব্যাংক থাকায় তিনি রীতিমতো ভোটের মাঠে জনপ্রিয়তার শীর্ষে এগিয়ে রয়েছেন। এই ইউনিয়নে আরিফ মাসুদ বাবু পর পর দু’বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নির্বাচনী মাঠেও তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। এলাকার উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থেকে তিনি কাজ করেছেন। একটি আলাদা ক্লিন ইমেজ রয়েছে তাঁর। তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ মাসুদ বাবুর বর্তমানে ভোট ব্যাংক বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে স্থানীয় ভোটারদের সাথে আলাপ করে এমনটাই জানা গেছে। আরিফ মাসুদ বাবু বিভিন্ন এলাকায় প্রচার-প্রচারনা, ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। তিনি একের পর এক উঠান বৈঠকে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের পাশে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দলের নৌকা প্রার্থী সোহাগ রনির দলীয় সমর্থন ভোটের মাঠে তেমন সুবিধা করতে পারবে না বলে ভোটারদের ধারনা। বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ মাসুদ বাবু হেভিওয়েট প্রার্থী। ভোটের মাঠে তিনিই একমাত্র জনমতে এগিয়ে রয়েছেন। মাঠ জরিপে আরিফ মাসুদ বাবু ৯০ ভাগ এগিয়ে আছেন বলেও তার সমর্থকরা জানান। তারা জানান, আমাদের আনারসের প্রচুর ভোট রয়েছে। আমাদের জয় ইনশাআল্লাহ হবেই। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক যতটা মুখ্য ভূমিকা রাখে, তার চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে আন্তরিকতা ও পারিবারিক সম্পর্কের প্রভাব। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। বিভিন্ন শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে মোগরাপাড়া ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম-এলাকা। উৎসুক ভোটাররা জানান, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হতে পারেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ মাসুদ বাবু ভাই। স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ মাসুদ বাবু ও তার পরিবারের সাথে এই ইউনিয়নের জনগনের রয়েছে নিবীড় সম্পর্ক। সবকিছু মিলিয়ে মোগরাপাড়া ইউনিয়নের সব কয়টা ওয়ার্ডের অবস্থান নৌকার প্রার্থীর তুলনায় আরিফ মাসুদ বাবুর আনারস প্রতীকের। ভালো অবস্থানেই রয়েছেন তিনি। সুষ্ঠু ভোট হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ মাসুদ বাবুর জয়ের সম্ভাবনাই বেশি। তবে ভোটাররা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। এলাকার প্রবীন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সোহাগ রনির সাথে এলাকার মুরব্বি শ্রেণীর লোকজন কম। তার সাথে বহিরাগত ভোটার বিহীন তরুনদের দেখা যায়। এদের মধ্যে বেশির ভাগই অন্য এলাকার। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কতিপয় ভোটাররা জানান, নৌকা প্রার্থীর ভোট প্রার্থনার সময় তার পক্ষ হয়ে কিছু বহিরাগত তরুন ভোটারদেরকে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকী, প্রলোভন ও ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। তাদের এমন হুমকীর ভয়ে ভোটাররা অনেকেই আতংকিত অবস্থায় রয়েছেন। তারা বলছেন, এখন ভোট প্রার্থনার সময় যদি নৌকা প্রার্থীর পক্ষে বহিরাগতরা এমন হুমকী-ধামকী ও ভয়ভীতি দেখায় তাহলে নির্বাচনের দিন বা নির্বাচনের পরে কি হবে? তাতেই বুঝা যাচ্ছে, এই মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এখন যোগ্য আর অযোগ্যের লড়াই চলছে। তবে আমরা ভোটাররা ভোটের দিন যোগ্য ব্যক্তিকেই বেছে নিব। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফ মাসুদ বাবু জানান, আমি প্রতিটা দিন ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। তাদের নিকট দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করছি। ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে আমি মোগড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে জনগনের জন্য কাজ করেছি। তাই স্থানীয় জনগণ আমার পক্ষেই কাজ করছে, আমার সাথে আছে, প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছে। জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমি তাদের মুখ উজ্জল করবো ইনশাআল্লাহ। অপরদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, নৌকা ও নৌকা বঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থীর লড়াইয়ের সুবিধা পেতে পারেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন। এছাড়া অন্য দুই প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে তেমন হেভিওয়েট নন। তবে নৌকা প্রার্থী সোহাগ রনি কিছু সাংবাকিদের কাছে একটি জাতীয় পত্রিকায় নৌকা ডুবানোর যে ষড়যন্ত্রের কথা বলেছেন তা সত্য নয়। তার পক্ষ হয়ে নৌকার জন্য কাজ করছেন বড় বড় নেতা-কর্মীরা। এদের মধ্যে রয়েছেন- কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য এএইচএম মাসুদ দুলাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, যুগ্ন আহ্বায়ক ইঞ্জি. মাসুদুর রহমান মাসুম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর চৌধুরী বিরু, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আলম রূপন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার ফেন্সি, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু, সাধরণ সম্পাদক আলী হায়দার, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছগীর আহমেদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান রাশেদসহ সোনারগাঁয়ের বেশীরভাগ নেতা-কর্মীরা। তবে ভোটাররা সবশেষে তাদের যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নিবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *