Home » শেষের পাতা » স্কুল ছাত্র ধ্রুব হত্যায় খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন

রাজনৈতিক ভাবে কামাল মৃধার মৃত্যু!

০৬ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 95 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পেলেও এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত হয়নি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কে হচ্ছেন? ফলে আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ফলে প্রভাবশালী মহলের ষড়যন্ত্র চলতে পারে সেই আশঙ্কা করছেন মেয়র আইভীর সমর্থক সহ রাজনৈতিক নেতারা। এদিকে প্রকাশ্যে বিরোধে নেমেছে কামাল মৃধা। সে বিভিন্ন সময় নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতক অঙ্গন ঘোলাটে করার চেষ্টা করে। তবে তাকে নিয়ে ভাবেন না আওয়ামীলীগের নেতারা। তাদের মতে রাজনৈতিকভাবে কাশ মৃধার মৃত্যু ঘটেছে। আগামী ১৬ জানুয়ারি সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষ্যে মেয়র আইভী ছাড়াও আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দেন জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি চন্দন শীল ও সেক্রেটারী খোকন সাহা। তবে ৩ ডিসেম্বর রাতে আওয়ামীলীগের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ সভায় মেয়র আইভীর প্রার্থীতা চূড়ান্ত করা হয়। মেয়র আইভী দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ সহ সাধারণ মানুষ আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। তবে ঘোষণার পর থেকেই কোন প্রতিক্রিয়া ছাড়াই নিরব রয়েছেন মনোনয়ন বঞ্চিতরা। এমন কি প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকেও কোন ফেসবুক স্ট্যাটাস কিংবা কোন প্রতিক্রিয়া নেই। নতুন করে কোন ষড়যন্ত্র করছেন এমনটাই ধারণা করছে মেয়র আইভীর সমর্থক সহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বলেন, ‘চলতি বছরের শুরুতেই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে টার্গেট করে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে যেন দলীয় মনোনয়ন না দেওয়া হয় সেজন্য ব্যাপক ষড়যন্ত্র করে আসছেন একটি প্রভাবশালী মহল। টার্গেট শুরু হয় দেওভোগের জিউস পুকুরের দেবোত্তর সম্পত্তি দখলে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে। এ অভিযোগ তুলে গুটি কয়েক হিন্দু নেতাদের দিয়ে নগরীতে মানববন্ধন, সমাবেশ ও মিছিল করানো হয় মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে। কিন্তু এখানেও মেয়র আইভীকে যেন দলীয় মনোনয়ন না দেওয়া হয় সেজন্য দাবি তোলা হয়। এতে যখন আইভীর ভীত নাড়াতে পারেনি তখন অভিযোগ তোলা হয় মাসদাইর কবরস্থান এলাকায় মাদ্রাসা উচ্ছেদ ও চাষাঢ়ায় বাগে জান্নাত মসজিদের জায়গা দখলের। এ নিয়েও হেফাজতে ইসলামের নেতাদের নামিয়ে দেওয়া হয়। তাদের নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশও করানো হয়। কিন্তু কোন কিছু পাত্তা পায়নি। এরপর বড় অস্ত্র হিসেবে বেছে নেয় মেয়র আইভীর বাবার বাড়িতে নতুন করে নির্মিত ‘চুনকা কুটির’। ভবন নির্মাণ করতে কোটি টাকা খরচ হয়েছে সেই টাকা আইভী দুর্নীতি করে আয় করেছেন অভিযোগ তোলা হয়। এজন্য দুর্নীতি দমন কমিশনেও অভিযোগ দেয়া হয়। কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন যখন সত্যতা পায় মেয়র আইভী ও তার ভাইয়ের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে বাড়ি করেছেন। এখানে কোন দুর্নীতি নেই তখন হতাশ হয় প্রভাবশালী মহল।’ তারা বলেন, ‘ওই দুই অভিযোগে যখন কাজ হচ্ছিল না এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মেয়র আইভীর সুসম্পর্ক অব্যাহত থাকে তখন নতুন করে ষড়যন্ত্র করে সিটি করপোরেশন নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার জন্য। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। ফলে নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন যেন হয় সেজন্য তদবির শুরু করে। কারণ সিটি করপোরেশনের মেয়াদও শেষ হবে ফেব্রুয়ারি ৭ তারিখ। এতে করে করে সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া যাবে। আর প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারলে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ তোলা সম্ভব হবে। কাজের ভুল ত্রুটির অভিযোগ এনে মামলা দিয়ে কোনঠাসাও করা যাবে। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়ে ২৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এর আগেই ধারণা করতে পেরেছিলেন প্রভাবশালী মহলটি যে তফসিল ঘোষণা হতে পারে সেজন্য মেয়র আইভী যেন দলীয় মনোনয়ন না পায় সেজন্য ২৭টি ওয়ার্ডে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ করে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের জড়ো করে। সেখান থেকে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা হয়। মেয়র আইভী যেন দলীয় মনোনয়ন না পায় সেজন্য বক্তব্য দেওয়া হয়। এর ধারবাহিকতায় তফসিল ঘোষণার পর ২৭টি ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের সভাপতি সেক্রেটারীদের তালিকা ও স্বাক্ষর নিয়ে কেন্দ্র পাঠানো হয়। যাতে মেয়র আইভীকে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জেলা ও মহানগরের তিন নেতার নাম সুপারিশ করেও পাঠানো হয়। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্রও ব্যর্থ হয় গত ৩ ডিসেম্বর কেন্দ্র থেকে মেয়র আইভীকে আওয়ামীলীগের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণায়। আইভীর সমর্থকেরা বলছেন, ‘মেয়র আইভী দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন এতে প্রভাবশালী মহলের ষড়যন্ত্রকারীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তারা মেয়র আইভীর নৌকা প্রতীক সহ্য করতে পারছেন না। তাই এখন নতুন করে ষড়যন্ত্র কষবেন। কারণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেই দেখা গেছে তাদের মনোননীত প্রার্থীকে নৌকা প্রতীক না দেওয়ায় ওইসব ইউনিয়নগুলোতে নৌকা ডুবিয়েছেন। সেখানে স্বতন্ত্র ও লাঙ্গল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বিজয়ী করেছেন। এখন মেয়র আইভীর ক্ষেত্রেও এমনটাই হবে।’ আওয়ামীলীগের নেতারা বলেন, ‘প্রভাবশালী মহলটি এখন মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা লাঙ্গল প্রতীকে প্রার্থী দেওয়ার কথা চিন্তা করছেন। এজন্য নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্বচ্ছ ব্যক্তিকে তোষামোদ করছেন। অনেকেই বিভিন্ন প্রলোভন দেখাচ্ছেন। ব্যবসায়ী নেতা থেকে শুরু করে বিএনপির নেতাকেও ছাড়ছে না মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে অনুরোধ করায়। এতে রাজি না হলে নিজেদের আত্মীয় স্বজনের মধ্যেই কাউকে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিবেন তারা। যাতে নৌকা ডুবিয়ে দিয়ে নিজেদের লোক আনতে পারে।’ তারা বলেন, ‘আগামী ১৫ ডিসেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। কিন্তু এখন পর্যন্ত মেয়র আইভীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কে হচ্ছেন সেটা নিশ্চিত হয়নি। ফলে প্রভাবশালী মহলটি ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন ষড়যন্ত্র করবেন। ওইদিন শেষ মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে তারা ষড়যন্ত্র কি করছেন এবং কাকে নিয়ে করছেন। এজন্য মেয়র আইভীকে এখনও সর্তক থাকতে হবে। এ প্রভাবশালী মহল নিজেদের জন্য দলের বিরুদ্ধে গিয়ে বিএনপির প্রার্থীর হাতেও নৌকা দিয়েছে। তাদের নিয়ে নূন্যতম বিশ্বাস নেই।’ প্রসঙ্গত গত ৩০ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার। তিনি জানান, ‘আগামী ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। তফসিল অনুযায়ী, এ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৫ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই ২০ ডিসেম্বর। আর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৭ ডিসেম্বর।

 

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *