Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

রাজপথের নেতারাও অবমূল্যায়িত!

২৪ নভেম্বর, ২০২২ | ১১:১১ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 50 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট গত ২০০৮ সাল থেকে পুরোদস্তর বিএনপির রাজনীতিতে রাজপথে সক্রিয় এই তিন নেতা। ডজন ডজন মামলার আসামিও হয়েছেন তারা। প্রত্যেকেই জেলও খেটেছেন বেশকবার করেও। হামলা মামলা নির্যাতন তাদের ঘাড়ের উপর বোঝাই। নেতৃত্বের প্রতিযোগীতা করেছেন বারংবার। কিন্তু নেতৃত্ব নামক সেই চেয়ারের দেখা পাচ্ছেন না তারা। এমনি পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাগর প্রধান ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সদস্য সাদেকুর রহমান সাদেকের রাজনীতি। যদিও রাজীব ইতিপূর্বে অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বের স্বাদ পেলেও সাদেক ও সাগরের ভাগ্যে মিলছেনা তাও। তবে তারাও দমে যাওয়ার নেতা নন, নেতৃত্বের প্রতিযোগীতায় লড়ছেন যুগ ধরে। গত ১৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষিত হয়। কমিটিতে বিএনপির সাবেক এমপি মুহাম্মাদ গিয়াসউদ্দীনকে আহ্বায়ক ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম ফারুক খোকনকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। জেলা বিএনপির হেভিওয়েট সদস্য সচিব প্রত্যাশি ছিলেন রাজীব। তার বিশাল নেতাকর্মী সমর্থকও আশা দেখছিলেন এবার রাজীবকে সদস্য সচিব পদে রাখা হবে। গত কমিটিতে প্রথমে তাকে সদস্য পদেও রাখা হয়নি। পরবর্তীতে তাকে কো-অপ্ট করে সদস্য করা হয়। অথচ এর আগের কমিটিতে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এর আগে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন। কিন্তু তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখায় তার কর্মী সমর্থকরা বেশ খুশি হতে পারেনি। তবে আবারো কর্মীরা আশা দেখছেন পরবর্তী কমিটিতে হয়তো রাজীবকে কাঙ্খিত পতে দেখা যেতে পারে। সাগর প্রধান সেই এক যুগ পূর্বে মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছিলেন। সেই থেকে আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে যেমন দূর্বার আন্দোলন করে আসছেন, ঠিক তেমনি মহানগর যুবদলের শীর্ষ পদে আসার লড়াইয়ে নিজ দলের নেতাদের সঙ্গেও প্রতিযোগীতা করে আসছেন। কিন্তু কাটায় কাটায় মিলছেনা তার নেতৃত্বের হাতছানি। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে পরে যখন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি মমতাজ উদ্দীন মন্তু নিষ্ক্রিয় হয়ে যান, তখন সাগর প্রধানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে দায়িত্ব দেয় মহানগর যুবদল, অনেকটা বিপদের সময় আপাতকালীন সভাপতি হিসেবে। বর্তমান কমিটিতে তিনি সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে থাকলেও বেশ চাপের মধ্যে পড়েছেন তিনি। ফলে আবারো শীর্ষ পদে আসার লড়াই ছাড়া গতি নাই তার। এক যুগ আগেই কেন্দ্রীয় যুবদলের সদস্য হয়েছিলেন সাদেকুর রহমান সাদেক। সেই থেকেই জেলা যুবদলের শীর্ষ পদে আসার লড়াই করে আসছেন তিনি। সমানতালে রাজপথেও সক্রিয় ভুমিকা রাখছেন সাদেক। গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন নগরীতে পুলিশের গুলিতে তার নিকটস্থ কর্মী শাওন প্রধান নিহত হন। মিছিলে পাশের কর্মীটি যখন গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তখনও রাজপথ ছাড়ছেন না সাদেক। নিজের জীবন বাজি রেখেই জেলা যুবদলের শীর্ষ পদে আসার লড়াইয়ে তিনি। এক যুগ ধরে নেতৃত্বের লড়াই করে আসলেও অধরা রয়েই যাচ্ছে নেতৃত্ব। হামলা মামলা নির্যাতন কারাভোগ করেছেন বেশকবার। জেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম ফারুক খোকন যখন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হয়েছেন, তখন আবারো জেলা যুবদলের শীর্ষ পদে আসার লড়াইয়ে সাদেকুর রহমান। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল ও বন্দর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল যেন বিএনপির কেউ না। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে মামলা হলেও এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি সহ অন্যান্য অঙ্গ সহযোগী সংগঠন সকলেই এ ব্যাপারে নিরব রয়েছেন। মামলা নিয়ে কারও মধ্যেই কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আগামী ১০ ডিসেম্বরকে সামনে রেখে মামলা হলেও যেন মনে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে কোনো ঘটনায় ঘটেনি। সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জে সিটি করপোরেশনের বন্দরে ২৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুরের মামলায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আতাউর রহমান মুকুলকে প্রধান আসামী করে মামলা হয়েছে। এতে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৩০ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় মুকুল ছাড়াও বন্দর থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সাংগঠনিক সম্পাদক নূর মুহাম্মদ পনেছ, মুকুলের ভাই মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হাবিবুর রহমান দুলালকে আসামী করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে নূর মোঃ পনেছ, সজিব, বুলবুল ও রাজিবকে। মো. সোহেল নামের ছাত্রলীগ নেতা ওই মামলাটি বন্দর থানায় শনিবার ১৯ নভেম্বর দায়ের করেন। মামলায় ২৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ করে ভাঙচুর, মারপিট, সাধারণ জখম, অফিস কক্ষ অগ্নিসংযোগ, হুমকি, সোহেলকে মারধর, মোবাইল লুট ও ৫০ হাজার টাকা লুটের নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। তবে এই মামলায় ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন কেউই কোনো নিন্দা বা প্রতিবাদন জ্ঞাপন করেননি। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল অথবা জেলা যুবদল কিংবা ছাত্রদল তারাও কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে গত ২০ নভেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৮ তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে শহরের মাসদাইর এলাকার মজলুম মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতারা এই মামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সেই সাথে তারা এই মামলাকে মিথ্যা দাবী করে প্রত্যাহারেরও দাবী জানিয়েছেন।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *