Home » প্রথম পাতা » পদ্মা সেতু জাতির আরেক বিজয়

রাজপথে শক্তির জানান দিল বিএনপি

১৪ নভেম্বর, ২০২১ | ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 59 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দীর্ঘদিন কর্মসূচির বাইরে ছিল নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। কেন্দ্রীয়ভাবেও কোনো কর্মসূচি ছিল না। ফলে স্থানীয়ভাবেও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি অনেকদিন ধরে কর্মসূচির বাইরে ছিলেন। তবে এবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজপথে নেমেছেন বিএনপি। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জের রাজপথ কাঁপিয়েছেন তারা। জানা যায়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পূর্ব থেকেই ঘোষণা দেয়া হয় গত শুক্রবার তেল, বাস ভাড়া ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ সমাবেশ করবে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। তারই অংশ হিসেবে এদিন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি সহ বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন। আর এভাবে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে আসতে আসতে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ বিশাল জনসমাগমে পরিণত হয়। প্রায় প্রত্যেক অঙ্গ সহযোগি সংগঠনেরই শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা তাদের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু করে বাঁধন কমিউনিটি সেন্টারের সামনে পর্যন্ত কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে। প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় ধরে তাদের এই সমাবেশ চলে। নেতাকর্মীরা ধৈর্য ধরে সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। এর আগে অনেকদিন ধরেই তাদের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছিল না। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন তারা কর্মসূচি পালন করে নারায়ণগঞ্জের রাজপথ কাঁপিয়ে দিয়েছেন। দলীয় সূত্র বলছে, ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর এতে আহবায়ককরা হয় অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে এবং সদস্য সচিব করা হয় অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে। আর এই কমিটি ঘোষণার আগে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চলে নানা হিসেব নিকেষ। সকল হিসেব নিকেষ মিলিয়ে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের উপরই জেলা বিএনপির দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়। জেলা বিএনপির এই কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে দিয়ে দলীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সমাগম ঘটিয়েছেন। এর আগে ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী জেলা বিএনপির ২৬ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। জেলা বিএনপির সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সাধারণ করে জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। তবে ওই কমিটি নারায়ণগঞ্জ তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। এরপর ২০১৯ সালের ২৩ মার্চ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান এবং সেক্রেটারী অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সহ ২০৫ জনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিও দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে জোড়ালো কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। প্রায় সকল কর্মসূচিতেই তাদের নিরব ভূমিকা লক্ষ্য করা যেত। কর্মসূচিতে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ উপস্থিত থাকলেও সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান প্রায় সব কর্মসূচিতেই অনুপস্থিত থাকতেন। সেই সাথে নেতাকর্মীদেরও উপস্থিতি থাকতো হাতেগুনা। কিন্তু আহবায়ক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের নেতৃত্বে সেই গন্ডি থেকে বেরিয়ে আসে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত আহবায়ক কমিটি হওয়ার পর থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে যেন গণজোয়ার উঠে। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা জেগে উঠেন। তারা নতুনরুপে ফিরে এসেছেন নারায়ণগঞ্জের রাজপথে। মনে হয় যেন এমন নেতৃত্বের অপেক্ষায়ই ছিলেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। যে বিএনপি প্রেসক্লাবের গলিতে বের হতে পারছিলেন না অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের নেতৃত্বে সেই বিএনপি প্রেসক্লাবের গলি থেকে বেরিয়ে রাজপথে কর্মসূচি কর্মসূচি পালন করে আসছে। পুলিশি বাধা কিংবা হামলা মামলা কোনো কিছুই তাদের দমিয়ে রাখতে পারেননি।

 

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *