আজ: সোমবার | ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২২শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী | রাত ১০:৪৫

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

রাতের আঁধারে চাষাড়া চত্বরের ভিন্ন রূপ

ডান্ডিবার্তা | ৩০ জুন, ২০২০ | ৬:২৮

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জে লকডাউন সিথিল হওয়ার পর করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জে বিকেল চারটার পর সকল শপিংমহ ও দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন। এরপরই প্রতিদিনই পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং করায় শপিংমহ বন্ধের জন্য। কিন্তু শপিংমহ বন্ধ হলেও সন্ধ্যার পর থেকেই শহরের বিভিন্ন স্থানে রাতের চাষাড়া মোড় দিনের চেয়ে বেশি জমজমাট হয়ে উঠে। সরজমিনে দেখা যায়, চাষাড়া জিয়া হলের সামনে ভ্রাম্যমান পরোটা ভাজির দোকান। চায়ের দোকান। সারি সারি রিক্সা। ডিমওয়ালা। খাজা সুপার মার্কেট, শহীদ মিনার , সান্তনা মার্কেট, রাইফেল ক্লাব থেকে শহীদ জিয়া হলের গেট পর্যন্ত এলাকাটুকু রাতের বেলা জমজমাট হয়ে উছে। স্বাস্থ্যবিধিও মানা হয় না এসকল অবৈধ দোকানগুলোতে। গভীর রাত অবধি দোকানগুলোতে সিরিয়াল ধরে পরোটা ভাজি খেতে হয়। সাদা চোখে পরোটা ভাজি ও পান বিড়ি সিগারেট কিম্বা চা এর দোকান এর জন্য এই ভিড় দেখে মনে হয় এখনো করোনা ভাইরাসের কোন প্রভাব নেই। মূলত একটি মহল নিয়তিম চাঁদা আদায় করে দোকানগুলো বসানোর ব্যবস্থা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও এই ভ্রাম্যমান দোকানগুলোর জন্য নানা অপরাম মূলক কাজও সংগঠিত হচ্ছে। এছাড়াও এই দোকানপাটের অন্তরালে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র দেহ ব্যবসা ও মাদকের কারবার করে যাচ্ছে। এই চক্রটি এতটাই সতর্ক যে ওরা চাষাড়া মোড়ে কোন অপকর্ম করেনা। মোড়ের দোকানপাট গুলো যেন একটা ঠিকানা। পরোটা ভাজি বা চা সিগারেট কেনার ছলে দরদাম করে কিশোরী নিয়ে রিক্সায় চড়ে চলে যায় গলিতে। অনেক সময় মোবাইলে যোগাযোগ হয়। নির্দিষ্ট গলিতে রাতের রানী অপেক্ষা করে। দোকানদারদের উছিলায় অপরাধি চক্রটি অভিনব কৌশলে শুরু করেছে আদিম ব্যবসা। পাশাপাশি দোকান খোলা থাকায় ছিনতাইকারীরাও তৎপর হয়ে উঠে। ছিনতাই রোথে পুলিশের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও দোকান খোলা থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। যদিও মাঝে মাঝে কিছু সময়ের জন্য দোকার বন্ধ করে দেয় পুলিশ। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সারা দিনের ব্যস্ততা ও হাজারো মানুষের পদচারণায় ধূলির আস্তরে ঢাকা পড়তে পড়তে চাষাড়া রাতে আবার জেগে উঠে। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত এই চাষাড়ার উপর দিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষ পারি জমায়। কিছু বিকৃত মস্তিস্কের মানুষ রাতের আলোতে অপরূপ সুন্দর চাষাড়াকেও কলংকিত করে। কলংকিত করে শহীদদের স্মরণে স্থাপিত বিজয় স্তম্ভকে। এদের কাছ থেকে রক্ষা পায়না চাষাড়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারও। তবে রার্তের আধাঁরে অপরাধ রুখতে সাদা পোষাকে পুলিশ সদসদের উপস্থিতিও দেখা যায়। কিন্তু পুলিশ সদস্যরা সরে গেলেই সংগঠিত হয় অপরাধ চক্র। তাই মার্কেটের মত সন্ধ্যার পর শহরের সকল ভ্রাম্যমান দোকানও বন্ধের আহবান জানিয়েছেন সচেতন মহল। এদিকে এ রিপোর্ট লেখার সময় পুলিশ রাত ৮টায় উচ্ছেদ অভিযান চালায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *